মাঝখানে নানান ঝামেলায় ব্লগে অনেকটাই অনিয়মিত ছিলাম। একটু জিরিয়ে নেবার সুযোগ পেলাম। চলেন গল্প শোনাই.....
অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা জানিনা, তবে আমার মনে হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের জন্য হল জীবন একটা সম্পুর্ণ নতুন এবং অন্যরকম একটা অভিজ্ঞতা।
প্রথমদিন হলে গেলাম এলাকার পরিচিত এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে। ভাই আমাকে একটা রুমে নিয়ে গেলেন, আটজন থাকতেন ঐ রুমে। আমি মনে মনে ভাবছিলাম, আমি কোথায় থাকব। তারা আটজনে তো চারটা বেডে থাকে। যাই হোক চিন্তা বেশিক্ষণ করতে হলো না। ভাই উনার এক জুনিয়রকে দিয়ে পাঠালেন `আমার` রুমে।
ভেবেছিলাম সুন্দর গোছানো ছিমছাম একটা রুম পাবো। রুমমেটরা ভারী চশমার ফাঁক দিয়ে দেখবেন,নাম পরিচয় জিজ্ঞেস করবেন। বইয়ের পাহাড় থাকবে আশেপাশে। কেউ হয়ত বই থেকে মুখ তুলে দেখবেও না।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলে কথা!!!!
কিন্তু একি!!! দরজার সামনে জুতোর বিশাল স্তুপ। আমার কাছে মনে হলো ভাই আমাকে নিয়ে ঢুকলেন একটা গুদাম ঘরে। ট্রাংক,তোশক,কাপড়-চোপড়ের স্তুপে হেলান দিয়ে কেউ গল্পগুজবে ব্যস্ত, কেউ ফাঁকে ফাঁকে ঘুমুচ্ছে। যারা গল্প করছিলো ভাইকে দেখে ছুটে আসলো সবাই। আমি ভাবলাম ভাই হয়তো ভীষণ জনপ্রিয় কেউ। ভাই বললেন, তোরা কয়জন আছিস এখানে? " ভাই, আমরা চল্লিশ জন" জবাব দিলো একজন। আমি তো আকাশ থেকে পড়লাম। সর্বনাশ! বলে কি!! চল্লিশজন!!! ভাই জিজ্ঞেস করলেন, পাশের রুমে কয়জন? একজন বলল, ভাই আমাদের চাইতে ওরা সংখ্যায় বেশি। অতএব ওখানেই আমার নিবাস ঠিক হলো।
আমি কিছুই সাথে নিয়ে আসিনি। রুমমেটরা বলল আনলেও লাভ নেই। রাখার জায়গা নেই। তাহলে ঘুমাব কোথায়? একজন একটা অশ্লীল রসিকতা করলো। বলল রাতে বুঝবে পারবে। আমি রাতের অপেক্ষা করতে থাকলাম।
চলবে.....
হল জীবনের কড়চা-১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


