somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছোটগল্পঃ গন্তব্য

২৮ শে এপ্রিল, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বনানী থেকে গাড়িতে ওঠার পর ফ্লাইওভারের উপরেই মিজান সাহেবের দুই হাত বেঁধে ফেলে তারা। মিজান সাহেব টের পান পাতাফাঁদে পা ফেলেছেন তিনি। বুঝতে পারেন যাত্রী বেশে অপেক্ষমাণ লাইন থেকে তাঁর সাথে অন্য যে দুজন উঠেছেন তারা আসলে সাধারণ যাত্রী না। এ চক্রেরই সদস্য ওরা। খুব অসহায়বোধ করেন মিজান সাহেব। একটা প্রাইভেট কোম্পানির সাপ্লাইচেইনে জব করেন তিনি। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ভালোই চেনেন তিনি। আর নানা ছলচাতুরী আর প্রতারণা-ফাঁদের কথা তাঁর অজানা নয়।

মিজান সাহেবের বা পাশে বসা লোকটি বললোঃ
– এই মুখটা বেঁধে ফেল।
– প্লিজ ভাই, আমার মুখ বাঁধবেন না। সেটার কোনো প্রয়োজন নেই। সাথে যা আছে সব নিয়ে যান। চিৎকার চেঁচামেচি করবো না আমি। দয়া করুন ভাই। অনুনয় করে বললেন মিজান সাহেব।
ড্রাইভিং সিটে বসা লোকটি এবার কথা বললোঃ
-এই রাখ। মুখ বাঁধতে হবে না। হি ইজ এ জেন্টলম্যান।
বেশ ভরাট কণ্ঠ। উচ্চারণও সুন্দর। মিজান সাহেব বুঝতে পারলেন- এই লোকটি এদের লীডার। এতো চাপের মধ্যেও মনেমনে ম্লান হাসলেন মিজান সাহেব। লীডার শব্দটি এখানেও প্রযোজ্য হচ্ছে! সত্যি আমাদের জীবনযাত্রা বড়ো অদ্ভুত।

ডানপাশে বসা লোকটি মিজান সাহেবের পকেটসহ সারা শরীর সার্চ করে যাচ্ছে। এ লোকটি গাট্টাগোট্টা টাইপের। একটু নির্দয়ভাবেই মিজান সাহেবকে এদিক সেদিক ধাক্কা দিয়ে, তার সুবিধামতো সব বের করে নিচ্ছে।
-লীডার, নগদ টাকা আট হাজার তিনশ’ পঞ্চাশ, দুইটা এটিএম কার্ড, দুটা মোবাইল…
গাট্টাগোট্টা লোকটা জানালো ড্রাইভিং-এর লীডারকে। টয়োটা করলা গাড়িটি তখন ফ্লাইওভার পেরিয়ে মিরপুরের দিকে ইসিবি চত্বর ক্রস করছে।
– কার্ডের পাসওয়ার্ডগুলো তাড়াতাড়ি নে বেটা।
চাপা চেঁচানো কন্ঠ লীডারের।
ব্র্যাক ব্যাংকের কার্ডের পাসওয়ার্ড মনে ছিলো মিজান সাহেবের। দিয়ে দিলো তা। কিন্তু ব্যাংক এশিয়ার কার্ডের পাসটা মনে নেই তাঁর। খেঁকিয়ে উঠলো ডানপাশে বসা লালচোখা লোকটিঃ
– ভাওতাভাজি করার চেষ্টা করবা না মিয়া। সাইজ করার অনেক মাল-মশলা আছে আমাদের কাছে। বলেই প্যান্টের পকেটে হাত দেয় সে।
– আমি সত্যি বলছি ভাই, আমার মনে নেই। তবে আমার অফিসের ড্রয়ারে একটা নোটে লেখা আছে।
কাঁদোকাঁদো তখন মিজান সাহেব।
-ফোন করো। ফোনে জেনে আমাদের জানাও।
ভাবনায় পড়ে যায় মিজান সাহেব। অফিস এখন বন্ধ । এডমিনের অনুমতি ছাড়া এখন অফিস খোলা যাবে না। এডমিন হেডকে ফোন করেন তিনি। হাত বাঁধা অবস্থাতেই। ভাগ্যিস হাতদুটি পেছনে বাঁধেনি তাঁর। ফোনে তিনি জানান, তাঁর ভাই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আছে । টাকার জরুরি প্রয়োজন। কার্ডের পাসওয়ার্ড পেতে তিনি এডমিনের হেল্প চান। এডমিন প্রধান বিপদের কথা জানতে পেরে দ্রুত ব্যবস্থা নেন। পাসওয়ার্ড মোবাইল ফোনে জানানো হয় তাঁকে এক ঘণ্টার মধ্যে ।

গাড়ি ততক্ষণে মিরপুর ঘুরে উত্তরা এলাকা চক্কর দিচ্ছে। গলা শুকিয়ে আসে মিজান সাহেবের। অফিস থেকে বেরিয়েছিলেন তিনি সাড়ে ছটায়। গ্রীন টি খেয়ে বেরিয়েছিলেন তখন। অফিসের পিক-ড্রপের গাড়িটি ব্রেকের সমস্যা হওয়ায় আজ বিকেলে গাড়ি ছিলো না। বনানীর কাকলী বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের লম্বা লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। উত্তরাতে বাসা তাঁর। জানতেন তিনি, এসব প্রাইভেট গাড়িতে উঠা রিস্কি। কিন্তু লাইনে তাঁর পাশে থাকা আরো দুজন উঠায় তিনি সাহস পান। বুঝতে পারেননি – এ লোকগুলোর ছক। এদের বয়স সবার ত্রিশের নিচে হবে- ঠাউর করেন মিজান সাহেব।
উত্তরায় দুটি বুথ থেকে তারা একাঊন্টের সব টাকা তুলে নেয়। তারপর, গাড়ি চলে আশুলিয়ার দিকে। মিজান সাহেকে তিনশ’ টাকা ফেরত দেয় তারা। সাথে পুরাতন মোবাইলটিও। এটিএম কার্ড দুটিও দিয়ে দেয়।

আশুলিয়া হাইওয়ের পাশে গাড়ি থামে। মিজান সাহেবকে নামিয়ে দিয়ে হাইস্পীডে গাড়ি নিমিষে মিলিয়ে যায়। হয়তো তাদের গন্তব্যে।
মিজান সাহেব ঠায় দাঁড়িয়ে থাকেন। ভাবতে থাকেন- কোথায় যাচ্ছি আমরা? কোথায় যাচ্ছে আমাদের সমাজ? আমাদের যুব সমাজ? কোথায় নিরাপত্তা জীবনের? আমাদের গন্তব্য কি আঁধারে?

একটা ট্রাকের হাইড্রলিক হর্নের শব্দে তিনি সম্বিত ফিরে পান। বাসায় ফিরতে হবে তাঁকে।
- --
সো আ প
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে এপ্রিল, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৩২
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×