somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাজে গল্প - ২ (সুকুমার রায়)

২৫ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ৩:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোলকেতার সাহেববাড়ি থেকে গোষ্ঠবাবুর ছবি এসেছে। এ বাড়িতে তাই হুলুস্থুল। চাকর বামুন ধোপা নাপিত দারোগা পেয়াদা সবাই বলে, "দৌড়ে চল, দৌড়ে চল"
যে আসে সেই বলে , "কি চমৎকার ছবি, সাহেবের আকা", বুড়ো যে সরকার মশাই তিনি বললেন, "সবচাইতে সুন্দর হয়েছে বাবুর মুখের হাসিটুকু- ঠিক তাঁরই মতো ঠান্ডা হাসি"। শুনে অবাক হয়ে সবাই বল্লে, "যা-হোক সাহেব হাসিটুকু ধরেছে খাসা।"
বাবুর যে বিষ্ঠুখুড়ো তিনি বললেন, "চোখদুটো যা একেঁছে ওরই দাম হাজার টাকা- চোখ দেখলে গোষ্ঠর ঠাকুরদার কথা মনে পড়ে।" শুনে একুশ জন এক বাক্যে হাঁ হাঁ করে সায় দিয়ে উঠলো।
রেধো ধোপা তার কাপড়ের পোটলা নামিয়ে বললে "তোফা ছবি, কাপড়খানার ইস্ত্রি যেনো রেধো ধোপার নিজের হাতে করা" নাপিত তার খুরের থলি দুলিয়ে বললে , "আমি উনিশ বছর বাবুর চুল ছাঁটছি, আমি ঐ চুলের কেতা দেখে বুঝতে পারি, একখানা ছবির মতন ছবি। আমি যখনই চুল ছাটি , বাবু আয়না দেখে ঐ রকম খুশি হন"
বাবুর আহ্লাদি চাকর কেনারাম বললে, "বলব কি ভাই , এমন জলজ্যান্ত ছবি, আমি-তো ঘরে ঢুকেই এক পেন্নাম ঠুকে চেয়ে দেখি, বাবু তো নয়-ছবি।" সবাই বললে, "তা ভুল হবার-ই কথা , আশ্চর্য ছবি যা হোক।"
তারপর সবাই মিলে ছবির নাক মুখ গোঁফ দাড়ি সমস্ত জিনিসের খুব সুক্ষ্ম সুক্ষ্ম আলোচনা ক'রে প্রমান করলেন যে সব বিষয়েই বাবুর সঙ্গে আশ্চর্য মিলে যাচ্ছে- সাহেবের বাহাদুরী বটে! এমন সময় বাবু এসে ছবির পাশে দাঁড়ালেন।
বাবু বললেন , "একটা বড় ভুল হ'য়ে গেছে। কোলকাতা থেকে ওরা লিখ্‌ছে যে ভুলে আমার ছবি পাঠাতে গিয়ে কার যেন ছবি পাঠিয়ে দিয়েছে। ওটা ফেরত দিতে হবে।"
শুনে সরকার মহাশয় মাথা নেড়ে বললেন, "দেখেছ! ওরা ভেবেছে আমায় ঠকাবে ! আমি দেখেই ভাবছি অমন ভিরকুটি দেওয়া প্যাখনা হাসি- এ আবার কার ছবি।" খুড়ো বললেন, "দেখ না! চোখ দুটু যেন উল্টে আসছে- যেন গঙ্গাযাত্রায় জ্যান্ত মড়া!" রেধো ধোপা সেও বললো, "একটা কাপড় পরেছে যেন চাষার মত। ওর সাত জন্মে কেউ যেন পোষাক পরতে শেখেনি।" নাপিত ভায়া মুচকি হেসে মুখ বাঁকিয়ে বললো, "চুল কেটেছে দেখনা- যেন মাথার উপর কাস্তে চালিয়েছে ।" কেনারাম ভিষন ক্ষেপে চেঁচিয়ে বললে, "আমি সকাল বেলায় ঘরে ঢুকে চোর ভেবে চেঁচিয়ে উঠেছি। আরেকটু হ'লেই মেরেছিলাম আর কি!" আবার এরা বলছিলো ওটা নাকি বাবুর ছবি। আমার সামনে ওকথা বললে মুখ থুরে দিতুম না।" তখন সবাই মিলে একবাক্যে বললে যে, সবাই টের পেয়েছিলো যে এটা বাবুর ছবি নয়। বাবুর নাক কি অমন চ্যাঁটাল? বাবুর কি হাঁসের পায়ের মত কান? ও কি বসেছে নাকি ভাল্লুক নাচ্ছে?
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ৩:৫৪
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কি আছে কারবার

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিংহাসনের লড়াই: নেকড়ের জয়ধ্বনি ও ছায়ার বিনাশ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৮



“Game of Thrones: Winter is coming” - এর ছায়া অবলম্বনে।

বাংলার আকাশে এখন নতুন সূর্যের আভা, কিন্তু বাতাসের হিমেল পরশ এখনো যায়নি। 'পদ্মপুর' দুর্গের রাজকীয় কক্ষের একপাশে বিশাল মানচিত্রের দিকে তাকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১ পরবর্তি বাংলাদেশ ( পর্ব ০৮)

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩


মুক্তিযুদ্ধে ‘ত্রিশ লাখ শহিদ হয়েছে'— এই দাবি বিশ্ববাসী প্রথম জানতে পারে ৩ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা ‘প্রাভদা'তে প্রকাশিত এক সংবাদ নিবন্ধে। দু'দিন পর চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত!!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২০



ইসলামি বিশ্বাস মতে,
এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষ ভাবে ক্ষমা করেন। ফারসি 'শবে বরাত' শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। দুই হাত তুলে প্রার্থনা করলে আল্লাহ হয়তো সমস্ত অপরাধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×