অফিস শেষে রুমে এসে বিছানায় একটু গড়াগড়ি অথবা নেট এ ঢু মারা অথবা ফোনে কারও সাথে টুকটাক বকবক অথবা দু এক লাইন মনের মাধুরী কাগজে কলমের খোঁচায় ফোটানোর কষ্টকর প্রচেষ্টার পর সন্ধ্যা হলেই বের হই সাবমেরিন ক্যাবলের আস্তানা ছেড়ে। 20 মিনিটেই পেঁৗছে যাই জিম এ। জিম এ গিয়ে একটু হাত পা নাড়াচড়া করা অভ্যাস হয়ে গেছে । হবেনা কাকলাস শরীর নিযে কম তো তামাশা শুনিনি। আজও সেই একই অভ্যাসে জিম এ হাত পা ছোড়াছুড়ি করে গোটা কয়েক ডন আর মুগুর ভেজে নামি সন্ধ্যা পরবর্তী কক্সবাজারের পথে। পালের (জ্যাকবস এন্ড পলস দোকানটার আসল নাম, ভাঙাচোরা এক হোটেল, যেমন পুরান ঢাকায় খান্দানী রেষ্টুরেন্ট আছে কিছু) দোকানের ডিম পরোটা তো খেতেই হয় যখন দোকানটার সামনে নিয়ে যায় পথ। থেলাম, খেয়ে ছোট একটা কাজ ছিল মুচির কাছে। মুচির দোকান ছেড়ে লাল দীঘীর কোনায় অপেক্ষা করছিলাম। সাগরসিটি বা রিকশা যা পাওয়া যায়। আমার আবাসস্থল একটু বেকওয়ার্ড প্লেস এ হওয়ায় রিকশা পেতে নিত্য ই সময় ব্যয় করতে হয়। হঠাৎ কানে এলা পাশেই এক ক্যানভাসার এর ঝাঝালো মুখস্ত বাক্য বান। বিছা নামক যে বিষাক্ত পোকা আছে কার তেল বেচছে সে । ঐ সেই তরুণ বয়সে গুলিস্থানে দেখতাম যেমন কত ধান্দাবাজ এর চাপাবাজী সেরকমই। কথায় কথায় আগা মোটা গোড়া চিকন সমস্যা সুষ্টি ও তার সস্থা সহজ সমাধান। শুনছে ঘিরে তাকে একদল মানুষ। দু একটা বালককে দেখলাম ক্যানভাসারের সামনে রাখা খোলা এলবামে উত্তেজক কিছু ছবি দেখে চোখ বড় করে ফেলেছে। দেখছে বয়স্ক লোক ও কয়েকজন। ভীড় ঢেলে উকি দিলাম। এক পাত্রে বালুর মধ্যে বিলবিল করছে সত্যি জ্যান্ত অনকে গুলো কাকড়া বিছা । কালো কুচকুচে। দেখতে কিন্তু বেশ। বিষের আধার এক একটা , তাই জানি। মাত্র তিরিশ টাকা দাবী করছে ক্যানভাসার । যে দেবে তার সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে স্পেশাল বিছার তেলে। হয়তো অতি হতাশ কেউ দেবে টাকা । না দিলে ক্যানভাসার কেন এত কষ্ট করে চাপা পেটায় প্রতিদিন। বিছা গুলো মনে আসন করে নিল । রিকশা নিয়ে ফিরে এলাম নির্বাসনের আস্তানায়। 10টা বেজে গেছে।
সোজা ডাইনিং এ ঢুকলাম। আমার সুবোধ বয়স্ক কর্মচারী আমার খাবার টেবিলে দিয়ে রাখে প্রতিদিন , ওনারা সেই 9 টার আগেই খেয়ে বিগত জীবনের জবর কাটতে থাকে শুয়ে । আলো জ্বেলে হাত মুখ ধুয়ে যেই মাছের ঝোল এর ঢাকনা খুলেছি ওমনি পোকাটা উড়ে এসে জুড়ে বসল। যেন রেডি হয়েই ছিল। ক'দিন আগে ঘরে এই গুবরে পোকা( আমি এই নামেই চিনি ওটাকে, ঠিক আছে কি?) একটা আমার হাতে নিহত হয়েছিল সেটা ছিল এর পাঁচগুণ বড়। সে কি ভয়কর দর্শন । জায়েন্ট বলা যেতে পারে। সেই প্রতিশোধ নিল কি তার তোন বংশধর। পাহাড়ি এ এলাকায় পোকা গুলো বেশ ভয়ংকর দর্শন নিয়ে হাজির হয় মাঝে মাঝে । পোকা সাতার কাটল কিছুক্ষণ, গেল মাছ এর তরকারী, গেল নষ্ট হয়ে । মরলো পোকাটাও । ঝাল মনে হয় সহ্য হয়নি। হয়তো স্বদ জানা ছিলনা। অথবা নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ। অবশ্য ও প্রবাদ মানুষ নামক শ্রেষ্ট জাতি ছাড়া কারও জন্য মানান সই নয় বোধহয়।মাথায় কিক হলো তাইতো ছবি তুলে ফেললাম মোবাইলে। আর পোষ্ট করে দিলাম ব্লগ বন্ধুদের জন্য।
////রাত 11:20
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুলাই, ২০০৬ দুপুর ১:৩২