somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

[রং=#339999][সাইজ=5]মিতুর কথা[/সাইজ](প্রথম পর্ব)[/রং]

১৩ ই জুলাই, ২০০৬ ভোর ৬:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[সাইজ=3][আন্ডার]মামুন ম. আজিজ[/আন্ডার]/2006[/সাইজ]

মিতুর সাথে রাতুলের বয়সের পার্থক্য পাঁচ ছয় বছরের কম না। বয়সে রাতুল মিতুর সিনিয়িার হওয়া সত্ত্বেও ওদের বন্ধুত্বটা তুমি থেকে তুই তে উপনিত হতে বেশীদিন সময় লাগেনি। রাতুলের স্পষ্ট মনে পড়ে মিতুর বাসায় নিজের 26তম জন্মদিনের অপ্রত্যাশিত চমক। এরকম অনাড়ম্বর কিন্তু নিগুড় বন্ধুসুলভ এবং স্বচ্ছ আনন্দ ছড়ানো জন্মদিন কখনও পালিত হয়নি রাতুলের ব্যাস্ত কাটখোট্টা জীবনে এর আগে। সেদিন মিতুদের বাসায় মিতু , মিতুর আদরের ছোট লক্ষীবোনটা, মিতুর অসুস্থ ছোট ভাই এবং মিতুর দুজন বান্ধবী হরেক রকম চমক নিয়ে বসে ছিল । রাতুল কে আসতে বলেছিল বাসায়, কিন্তু বলেনি এ সারপ্রাইজ আয়োজনের কথা। রাতুল ঘরে ঢুকতেই বেলুন ফাটিয়ে মাথায় জরি ঢেলে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে ছিলো ওরা। নির্ভেজাল আনন্দে ওরা রাতুলের জন্য ওর প্রিয় চটপটি রেঁধেছিল। ছিল আর ও কিছু হালকা খাবারের আয়োজন। ছিল ছোট ছোট উপহার। কেকও একটা আনিয়েছিল ওরা নিজেদের জমানো পয়সায়।
দু'মাস কেটে যায়, ব্যস্ত সবাই যে যার ব্যস্ততায়। রাতুল নতুন চাকুরীতে জয়েন করেছে তখন সবেমাত্র । মিতুও অনার্সে ভর্তি হয়ে ক্লাশ নিয়ে ব্যস্ত। ছাত্রী হিসাবে মিতু একদম আপার ক্লাসের কাছাকাছি। মাঝে মাঝে কথা হয় মোবাইলে দু বন্ধুর। নিভের্জাল বন্ধুত্ব।
হঠাৎ একদিন দুপুরে রাতুলের মোবাইলে মিতুর কল এল। কাঁদো কাঁদো কন্ঠে মিতু বলল, রাতুল বাবা হঠাৎ আমার বিয়ে ঠিক করেছেন। ছেলে পছন্দ না আমার। সেটার চেয়ে বড় আমি বিয়ে করবনা এখন, পড়াশোনা করব। রাতুল কি বলবে বুঝে উঠতে পারছিলনা। মিতু চেপে ধরেছিল বিয়ের ভাঙার কিছু একটা ব্যবস্থা করেতে । একটা ফন্দিও এঁটেছিল ওরা ক' বান্ধবী মিলে। যে মিতু সব বান্ধবীকে উপদেশ বিলিয়ে বেড়াত, সমস্যা সমাধান দিত আজ সেই অন্যের কাছে সমাধান চাচ্ছে।রাতুল চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ছেলে প আর মিতুর বাবা যত সমস্যাই দেখা দেখ না কেন পণ করেছেন যেন বিয়ে দিয়েই ছাড়বে।
পরদিন সকালে মিতু ফোন করে বলেছিল সেদিন বিকালে বিয়ে । মিতু হঠাৎ নিরবে রাজী হয়ে গেল । একরাতে ভোল পাল্টে গেছে অথবা জোর করে মন কে পাল্টাতে হয়েছে পারিবারীক চাপে। রাতুল সেদিন মিতুর কন্ঠে দেখেছিল ভীষণ শান্ত একটা ভাব। জল শুকিয়ে বিল যেমন চৌচির খটখটে হয়, ঠিক তেমনি কান্না শুকানো নিরুত্তাপ কন্ঠ যেন মিতুর।
সন্ধ্যায় কাজ ছিল রাতুলের । বিকেলে ঘরোয়া বিয়ের সাদামাটা ডামাডোলের মধ্যে বাসায় গিয়ে মিতুর সাথে দেখা করে আসে। ভবিষ্যত সুখ কামনা করা ছাড়া আর কিছু বলার ছিলনা রাতুলের । যদিও সেদিন মিতুর মায়াবী মুখে মায়ার তীব্র অনুপুস্থিতি দেখেছিল রাতুল। মিতুর মা ওকে তো ছাড়বেইনা। কিন্তু উপায় নেই । চলে আসতেই হলো। বিয়েও হয়ে গেলো সেদিন মিতুর।
বিয়ের পর প্রথম প্রথম মিতু ফোন করত বাবার বাসায় এলে। মাঝে মধ্যেই আসত।ক্লাস শুরু করেছিল। ক্লাশ শেষে মার সাথে দেখা করতে আসত , বিকালে ওর হাসবেন্ড নিয়ে যেত এসে। অথবা গাড়ী পাঠিয়ে দিত। মিতুর কাছে জানল ওর স্বামী মহাশয় টি বেশ ভাল মানুষ। ভালই আছে মিতু, সেরকমই বলতে চাইল। ও বাড়ীর বড় বউ। বেশ কদর। রান্না বান্নাও মাঝে মধ্যে করতে হয়। শশুর শাশুড়ী তাই চায়। ছেলেরা বেশ বিত্তশালী মিতুর নানান কথায় তা বুঝতে পেরেছিল রাতুল। রাতুল কে বলেছিল সুযোগ করে একদিন পরিচয় করিয়ে দেবে। মিতু খুশী মনে সংসার করছে জেনে রাতুলের ভাল লাগল। কিন্তু ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট হওয়া সত্ত্বেও পড়ালেখাটা মনে হয় বন্ধ করতেই হলো মিতুকে। বড়লোক শশুড় শাশুড়ী তাদের বড় বউমাকে সংসারের গুরু দায়িত্ব অনেকটাই অর্পণ করেছিলেন । পড়াশোনার গুরুত্বটা তাই সেখানে ছিল ঠুনকো ।
শেষ যে দিন মিতুর বাবার বাসায় রাতুলের মিতুর সাথে দেখা হলো সেদিন মিতু ওকে জানাল ও কনসিভ করেছে। রাতুল শুনে সত্যিই অনেক খুশি। আরও খুশি বড়লোকী হাসি মাখা মুখ টা দেখে। যদিও রাতুল জানে বাংগালী বধূদের মুখ দেখে আসল সত্য বোঝা অনেক কঠিন।

[রং=ৎবফ] [আন্ডার](বাকী অংশ পরবর্তী পোষ্টে)[/আন্ডার]...................................[/রং]
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুলাই, ২০০৬ সকাল ৮:৪৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হিন্দু মুসলমান ভুলে গিয়ে, আমরা সবাই মানুষ হই

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭



আমি জন্মগত ভাবে মুসলমান।
অবশ্য ধর্মীয় নিয়ম কানুন কিছুই মানতে পারি না। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ। এখন তো আর এটা ফকির লালনের যুগ না। মানবিক এবং সচেতন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙ্গের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় একটি নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে হত্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর, পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিনত হতে যাচ্ছি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪




মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে যে রাষ্ট্রগুলো নিজের অর্থনীতি, কৃষি আর ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়- তার পরিণতি কী, তার জীবন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। কোটি কোটি মানুষকে ভিক্ষুক বানানোর সেই পথেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরা খুবই বিপদজনক

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ১১:০১

যে তোমার সাফল্য দেখে হিংসে করে,
যে তোমার বিপদ দেখে খুশি হয়,
যে তোমার সামনে এক আর পেছনে আরেক।
তাকে তোমার গোপন কথা কিংবা তোমার কোনো পরিকল্পনার কথা বলতে যেও না।
সবসময় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পিরিট শোন বাই আমেরিকান এয়ারলাইন্স-এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত!

লিখেছেন ঢাকার লোক, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ ভোর ৪:১৫

গতকালের একটা বড় খবর ছিল আমেরিকার একটি অন্যতম জনপ্রিয় বিমান সংস্থা স্পিরিট এয়ারলাইন্স দেউলিয়া হয়ে তাদের সব সেবা তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই স্পিরিট অর্থনৈতিক সংকটে হাবুডুবু খাচ্ছিলো,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×