পথের মধুর আলিঙ্গনের দূরন্ত গতিতে পথের নিরব
করুন বিরহ বিদায় পালা, পথ তাই নিয়েছিল আপন
জঠরে অতি আপন করে সারাবেলা। অনভ্যাসে পা দুটো
শেষ বেলায় ক্লান্ত হয়েও পথের মুখের চিরন্তন হাসির
দর্শনে হেঁটেছিল পিচ ঢালা পথের অনকেখানিই।
সূর্য অস্ত যাবার আগে আগে বারবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিল
রাতে ঢাকা প্রস্থানের অমোঘ সত্যকাহিনী। সূর্যর বিদায় দিশা
লক্ষ্য রেখে পড়ন্ত বিকালে সাক্ষাৎ হয়ে গেল স্বইচ্ছায় প্রিয়
বান্ধব সমভাবনার কাছাকাছি ভাবনার তরঙ্গের ধারক
সুলেখিকার সাথে । সূর্য যাব যাব করে মনে করাচ্ছিল বারবার
এবারের মত বিদায় তব পথ হে তোমার পথিক।
পাদুটোকে পথের মায়া মুক্ত করে লেখিকা বান্ধব আর তার
সখাকে বিদায় জানিয়ে রিকশায় উঠে নিরে ফেরার
ক্ষণে আধো আলো আধো ছায়ায় শুনছিলাম পথের গোপন
কন্ঠে পথের কবিতা; সেই সময় সেই সন্ধ্যাবেলায় পকেট বন্দী
একাকীত্ব ধ্বংসকারী প্রযুক্তির মুঠোফোন এ এল খবর এসএএস
নামে, লেখিকা বান্ধবের মুঠেফোন হতে, অবিশ্বাস করতে চাইল
মন সে খবর, নেই ভূবনে আর সজীব কবিতার পসার নিয়ে
প্রিয় কবি আমার বেঁচে; কাঁপা উচ্চারনে কন্ঠ আওড়াল
এসএমএস এ লেখা সে মৃত্যু খবর অমর কবি , আমার কবি ,
মহান কবি শামসুর রাহমান এর। হঠাৎ যেন রুদ্ধ হয়ে গেল
ভীষণ মধুর , ভীষণ চটুল কবিতার এক ঝর্না ধারা।
কবি তুমি চলে গেলে মনে মনে অনেক অভিমানে। তোমার অভিমান
কি শক্তি হবে মুক্ত চিন্তার জাগরনে না কি গিলে খাবে সর্বগ্রাসী
রাক্ষস,ভয় হয়। আরও ভয় হয় কালের আড়ালে ঘুনে পোকার ক্ষয়।
হে কবি জানা হলোনা তুমি আমার কবিতার বই খানি ছুয়েছিলে
কিনা। জানা হবে না আর কখনও। তোমার চিরন্তন কবিতার
এক ছত্র রচনা যদি শিখিয়ে দিয়ে যেতে ..., আর বোধহয় কবি হওয়া
হলোনা। তুমি নেই শেখা হলোনা তোমার কাছে মুক্তচিন্তার কলা।
ঢাকা থেকে বহুদূরে কঙ্বাজারে বসে দেখি মর দেহ তোমার
টিভির পর্দায়, অভাগা আমি যোগ দিতে পারিনা তোমার সশ্রদ্ধ
বিদায়ের করুন সভায় শহীদ মিনারের আঙ্গিনায়। দেখা হলোনা
সম্মুখ হতে শেষবার সেই চোখ দুখানি সজীবকালে যে দুচোখের
চাহুনিতে ঝরিয়েছ কবিতায় কবিতায় মনের মুক্ত ভাব ,
মানবের কথা, স্বাধীনতার শক্তি, ভুবনের বৈচিত্র আর সেইসব
অজোর সব বানী যা আমাদের দরকার হবে অনন্তকাল।
হে কবি তোমার দেহ অন্তর্ধানে বিমর্ষ আমি, তুমি তো জাগিয়েেিছলে
অজান্তে এই মনে এই পথিক আমারে কবিতায় বেদনার রং ঢালতে
ঝরঝরে ভাষায়। তোমার কবিতা পড়ে প্রেরনা পেয়েছি কত সাবলিল
বাক্যে সত্য কথা বলার। তোমার বিহনে প্রেরনার নবসূর্যগুলো হলো
ক্ষয়। মন থেকে কামনা করি শান্তির মাঝে বিচরণ কর মৃত্যুর ওপারে
অজানা জগতে মহান সৃষ্টিকর্তার অপার কৃপায়। তুমি তো শান্তি
চেয়েছিলে আমাদেও সকাশে কবিতায় কবিতায়; তোমার কবিতা শান্তির
ঢেউ হয়ে বয়ে যাবে চিরকাল এ বাংলার পথে পথে. যে পথে হাঁটার
অবারিত গতিতে শান্তির প্রাচুর্যে ভাসব তোমার কবিতার শান্তির বারতায়।
18ই আগষ্ট, 2006
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই আগস্ট, ২০০৬ ভোর ৫:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



