------------------------
নীরবতার মাঝে আমি একা;
চারদিকে অথৈ পানি,
হয়তো পদ্মা, নয়তো মেঘনা।
অস্পষ্ট আঁধারে চোখে পড়েনা
নদীর নাম।
দূরে ভেসে ওঠে কুয়াশা ফুঁড়ে
লঞ্চের আলো ।
সে আলো অস্পষ্ট।
হয়তো সে আলোতীরে দাঁড়িয়ে আছে
কোন অচেনা নিঃসঙ্গতার সঙ্গী।
মনে সংশয় । না এ ভয় নয় ,
পরিবেশগত শিক্ষার সতর্ক পরশ।
চেয়ে আছে চাঁদ সন্তর্পনে।
একটানা বেজে চলে
ইঞ্জিনের শব্দ।
অস্বচ্ছ জলে সাঁতরে চলে
তিমির হারানো আলো ।
আমি আছি তব
নিঝুমতার বাহুপাশে স্বেচ্ছা বন্দী।
চিরপরিচিত সময় ঘূর্ণনে
জেগে উঠেছে নিঃসঙ্গতা।
এগিয়ে যাই কৌতূহলী মনে
নতুন পথে ।
আমি আর নীরবতা
দু'জনেরই শুধু অপেক্ষা সেই তীরের।
[আন্ডার]07/11/2000 [/আন্ডার]
---------------------------[রং=#336699][আন্ডার]এ কবিতা সৃষ্টির পেছনের কাহিনী[/আন্ডার][/রং]--------------------------
AvBBDwUতে প্রচুর বিদেশী মুসলীম ছেলে পড়ে। তাদের দেশে যাবার সুবিধার্তেই দুই সেমিস্টার এমন করে শেষ করা হতো যাতে একসাথে লম্বা মাস তিনেক ছুটি পাওয়া যায়। 2000 সন ইঞ্জিনিয়ারীং এর সেকেন্ড ইয়ার। সেই লম্বা ছুটি।
বন্ধু সুমনের আববা তখন পটুয়াখালীর দশমিনা থানার ডাক্তার। ঠিক হলো তাই ক' বন্ধৃু মিলে যাব পটুয়াখালী। কারন ওখানে গেলে কুয়াকাটা যাওয়া যাবে। আর আঙ্কেল কুয়াকাটায় থাকার ব্যবস্থা ও করে দেবেন।
প্লান বন্ধু মহলে পাস। সাত জন যাব। এদিকে সমস্যা হলো আমি ঢাকায় একটু ডিসটেন্ট প্লেসে থাকায় সঠিক দিন অন্যেরা আমাকে সেদিন দুপুরেই বলল যেদিন সন্ধ্যায় লঞ্চ। তাও দুপুরে আড্ডা মারতে গিয়েছিলাম না কি অন্য কাজে মনে নেই । বারিধারা বসে আমি বিকাল 3টায় কনফার্ম হলাম। ছয়টায় লঞ্চ ছাড়ার সময়।
দৌড়ে যাত্রাবাড়ী ছাড়িয়ে আরও পরে ধনিয়ায় আমার বাড়ী। গুছিয়ে খেয়ে বাসায় বিদায় নিযে আবার দৌড় এবং লঞ্চ ঘাট, সদরঘাটে। জীবনে কোনদিন লঞ্চে চড়িনি। সেটাই হবে প্রথম লঞ্চ ভ্রমন। যেতে যেতে বেবী টেঙ্েিত ভাবছি। আর দেখছি বারবার ঘড়ি।
কিন্তু সময় বড় নিষ্ঠুর, আমিও ঘাটে পৌঁছালাম 25/ 30 গজ দূরে চলে গেছে ঘাট ছেড়ে লঞ্চ। বোকার মত চেয়ে চেয়ে দেখলাম। সেদিনে মোবাইল এত এভেলএবেল ছিলনা। কার সাথে কথা বলি। কি করি। বাসায় ফিওে যাব। ইচ্ছে হচ্ছেনা। এদিকে সেই পথিকের ভুত, এডভেঞ্চারের ভুত মাথায়। পরের আরেকটি পটুয়াখালী গামী লঞ্চে সাহস করে উঠেই পড়লাম। কেবিন টেবিন খালি নেই। তারউপর ওটা খুব একটা নামীদমিী লঞ্চও না। লঞ্চের নামটা ভুলে গেছি। নাবিকদের জন্য কিছু রুম থাকে উঠেই জানলাম। সেগুলো তারা শেষে ভাড়া দেয়। বাড়তি আয়। একটা ভাড়া নিলাম। একতলা দুতলা ভাগ। শোয়া যায়, বসা যায়, দাঁড়ানো যায়না। আমার টা দোতলা।
আমার নিচের রুমে যে ভাড়া নিয়েছে তার সাথে কথা হলো। জানলাম এবং বুঝলাম তার কথা বার্তায় সে শিবিন কর্মী। স্বভাবতই দাওয়াত টাইপের কথা বার্তা। আমি সেদিকে না গিয়ে সাধারণ আলাপ শুরু করলাম। জামায়াত ইসলামীয় কথার ধরণ বিরক্তির উদ্রেগ করছিল। কি আর করার সিগারেট ধরানোর উছিলায় উঠে খোলা প্রান্তরে নদীর বুকে অাঁধারের সৌন্দর্য গিললাম ধোয়া পানের সাথে সাথে। শিবির ব্যাটার সাথে আর কথা বলতে হয়নি এরপর। সে ঘুমিয়ে পড়েছিল।
রুমে ফিরে কবিতা লিখার সাধ হলো নদীর বুকে লঞ্চে একাকী সেই অভাবনীয় বোকামীপূর্ণ, পাগলামী ভরা সাহসীকতার রাতে।
মজার ব্যপার হলো পটুয়াখালী নেমে আমি কাউকে খুজে পাচ্ছিলাম না। খুঁজছি। ঠিক তখনই দেখি বন্ধুরা লঞ্চ থেকে নামছে। আমি ওদের 15 মিনিট আগেই পৌঁছেছিলাম। অনিশ্চয়তা দূর হলো। বন্ধুরা চরম অবাক ও হলো। অবশেষে ভ্রমন স্বাভাবিক ও মধুর ভাবেই এগোতে থাকল।.....................
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে আগস্ট, ২০০৬ দুপুর ১:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




