somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনু গল্প// [রং=#889977]কিছু পাবা আর কিছু দেবানা, তা হয়না, তা হবেনা[/রং]

২৯ শে জানুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৪:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[ইটালিক]( উল্লেখ্য , এই গল্পের প্রতিটি চরিত্র ও ঘটনা কাল্পনিক। বাস্তবিক কোন চরিত্র বা ঘটনা বা অবস্থার সাথে এর কোন মিল নাই)[/ইটালিক]
-------------------------------------------
সেটা ছিল একটা অন্ধ গলি যেখানে আমরা থাকতাম। গলির সেই শেষমাথাতে থমকে যাওয়া রাস্তাটার দুপাশে দুটো করে চারটি বাড়ী । তিনটে এর মধ্যে 5তলা করে। একটা কেবল ছোট উচ্চতায় । বেশী না একতলা কম কেবল। ঐ কম তলার বিল্ডিং এর দুতলায় ছিল আমাদের বাসা। এই এলাকার মানুষ গুলো বিশেষ করে এই চার বিল্ডিয়ের অধিবাসীরা সবাই মোটামুটি বুর্জোয় শ্রেণীর । একটু উচ্চটাইপ বুর্জোয়াই। পড়ন্ত বিত্তবান কেউ নয় অন্তত আমরা কিশোর গোষ্ঠীর দল তাই জানতাম। আমারা তখন নতুন ঐ শব্দটা শিখেছিলাম। তাই ব্যবহার করে দিলাম। জেনেছিলাম , বুর্জোয়া মানে তো মধ্যবিক্ত গোড়া শ্রেণীই। আঙ্গুর ফোলা কলাগাছ ও কয়েকজন ছিল। তবে চুপ থাকত কোন কারনে।
অন্ধ গলিটার একটা সুবিধা ছিল । গাড়ী টারি চলত না বলে আমাদের খেলা ধূলোর বেশ সুবিধা হতো । তবে অসুবিধা হতে শুরু করেছিল সেই অর্ধবয়সী আধপাগলী ভিখারিনীর আগমনের পর পরই। রাস্তার ঐ শেষে উঁচু দেয়ালের পাশে একটা বড় বট গাছ ছিল। ভিখারিনী কোত্থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসে আস্তানা গাড়ল ঐখানে। বট গাছটিরও একটা ইতিহাস আছে। সংক্ষেপে বলি। বলার মত তেমন কিছুনা। এই সব উঁচু দালানের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত আর ছাইচাপা উচ্চবিত্তরা আসার পূর্বে যখন ছোটলোকেরা এইখানে থাকত তখন একটা মাজার গড়ে উঠেছিল এই বটের ছায়ায় । আমরা যথন আসি বাসা ভাড়া নিয়ে তখনও ছিল মাজারটা। পরে উঠে যেতে বাধ্য হয় । ধরা খেয়েছিল গঞ্জিকা ব্যবসার কারনে। সে সব অনেক পুরাতন কথা। সেই বটগাছ তলে ভিখারিনীর আগমন যেদিন সেদিন বিকালে আমরা খেলছিলাম ক্রিকেট । মহিলার গায়ে বল লাগতেই পারে । বট তলায় সে কেনো বসল? কিন্তু বসেছে এবং বল লাগতেই আমাদের সদ্য কসটেপ প্যাচানো টেনিস বলটা সে পাঠিয়ে দিল দেয়ালের ওপারে ডোবায়। কিছু করতে পারিনি। বাসায় গিয়ে সবাই যার যার বাবা মাকে বলা ছাড়া। মহিলার হাসি ছিল ভয়ংকর। আর পাগলী বলে ভাবলে ভুল হবার কথা নয়। গায়ে কাপড় থাকা না থাকা সমানই ছিল। আমরা ভয় পেয়েছিলাম সত্যি।
মহিলা ওখানে থাকছিল দিন রাত। গলিতে বিভিন্ন বাড়ীতে ভিক্ষাও করতে লাগল। কদিন যেতেই আমাদের ও খেলায় আর বাধ সাধছিলনা। চেয়ে চেয়ে দেখত। অধিবাসীরাও আর অতো গুরুত্ব দিচ্ছিলনা। তবে মাঝে মাঝে বিরক্ত হতো রাত বিরাতে যখন মহিলা তার পাগলামীর চরম রূপ দেখাত চরম বাজে গালাগালী দিয়ে । কার উদ্দেশ্যে দিত কে জানে। তারপরও কেউ ঘটায়নি । চলছিল স্বাভাবিক । কিন্তু সমস্যা শুরু যে সেই সেদিন যেদিন মা আমাকে জোরে চড় দিলেন। মা যদিও বলেছিল চড় দিতে দিতে -'পড়া বাদে জানালায় চেয়ে কেনো?' ; কিন্তু বুঝেছিলাম কেনো চড় খেলাম। মার চোখ ওতো চোখ। বরং আমার চশমা লাগে মা'র তো লাগেনা। চাউর হয়েছিল ।ওপাশের বাসার আন্টি মানে হাসিবের মা যে মার অন্তরের সখী। পাগলী ভিখারিনীর সেই উন্মুক্ত স্তন দেখার গোপন দৃশ্যে হাসিবও ধরা খেল। সরব উচ্চারণ উঠল চার বি িল্ডয়েই অজ্ঞাতস্বরে। কিন্তু কেনো জানি মহিলাকে স্থানচ্যুত করল না কেউ। বরং সবাই মিলে তাকে সাহয্য করতে লাগল। মোট কথা বেশী বেশী ভিক্ষা। কাপড়হীন দেহ তার এখন কাপড়ের ভারে উল্পে পড়ার উপক্রম। মহিলা হাসছিল। কিন্তু শুনছিলও সবার উপদেশ। খান আঙ্কেলের গ্যারেজে তার থাকার ব্যবসহাও হলো। আমরা লজ্জার কারনে অবাক চেহারা কাউকে দেখাতে সামনে এলাম না কদিন। সে কদিনে সব ঠিক ঠাক। মহিলা এখন টুকটাক কাজও করে দেয় এর ওর। কারও জন্যে দোকান থেকে মশার কয়েল আনে তো কারও আবার এনে দেয় বাদাম ভাজা। ঘর মুছে দেয় । কারও ঘরে গিয়ে শাক কুটে দেয়। পাগলী দেখে সবাই একটু সামঝেও চলে। কিন্তু মহিলাকে এই সব উদার সাহায্যের পরে আমি কখনও পাগলামী করতে দেখিনি। ভদ্রতার আঁচ পেয়ে পেয়ে মহিলার লুকানো সৌন্দর্য্যও বেরে হতে লাগর। আদিখ্যেতার পরিমান বাড়ল বাড়ল টাকা পয়সা ভিক্ষার পরিমাণও তবে আঙ্কেল শ্রেণীর । আন্টিরা হঠাৎ একটু কেমন যেন আড়চোখে দেখেতে শুর করেছিল শেষের দিকে। শেষের দিকে মানে। আমরা চলে এসেছিলাম ঐ এলাকা ছেড়ে বনানীতে আমাদের নতুন কেনা ফ্লাটে। আসার আগে আমার মা আর বাবা ঐ প্রাক্তন পাগলী ভিখারিনীকে 1000 টাকা দিয়ে এসেছিল। দুনিয়ার নিয়মই তাই যত কথা শুনবে সাহায্য আর ভিক্ষা যে ততই বাড়বে। মহিলা সবার কথা খুব শুনত তখন। সবাই তাকে বেশ ভালবাসত। আমিও বাসতাম অন্য কারনে। । বাইনোকুলার দিয়ে সামনের বাসার গ্যারেজে শুয়ে থাকা আধফর্সা অর্ধবয়সী সেই মহিলার স্তন যে দেখতাম মাঝে মাঝে বসে বসে গোপনে। উদোম হয়েই শুত সে প্রায়ই। গ্রেট মিস হলো এলাকা ছেড়ে। যে জন্যে আমি অবশ্য কষ্ট পেয়েছিলাম কদিন
অনেকদিন আর যাওয়া হয়নি ও এলাকায় এরপর। তা প্রায় মাস দশেক পরে একদিন হাসিবের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। গিয়ে তো ভীষন অবাক। মহিলা আবার সেই বট তলায়। তার পেট উঁচু। হাসিব বলতেই জানলাম বেটীর পেটে বাচ্চা। এ ওই বাসার দোষ দেয় ও দেয় ওই বাসার পুরষের..কেই আর তাই ঘাটায় না কাউকে। মহিলাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল গোপনে যাতে সত্য ঘটনা জানা যায়। সে বলতে পারেনি। ওতো পুরষের মধ্যে সে কাকে দোষাবে।
আমি অবাক হয়েছিলাম। তুবও হাসিব কে একটা কথা বলে এসেছিলাম। কিছু পেতে গেলে কিছু তোদিতেই হয়, তাইনা? তবে বেশী পেলে কিন্তু বেশীই দিতে হয়। যেমন ঐ মহিলা। কেউ কি কাউরে এমনে এমনে এত হেল্প করে রে?
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জানুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৫:৩৭
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কেউ পুড়বে আর কেউ পোড়াবে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

অনেকদিন নিশ্চুপ আছি কিছুদিনের অপেক্ষায়;
কেউ কেউ বলে কিছুদিন নাকি হারিয়ে গেছে,
অনেকদিনের গর্ভে তাই মেলাতে সরল গণিত।
কিছুদিনের অপেক্ষায় অপেক্ষায়-
ছেটে দিয়েছি কথামালার ডালপালা।
বসে বসে মেলাই কাণ্ডহীন বৃক্ষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Good governance starts with respecting public money....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২১ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



Good governance starts with respecting public money....

গত দুই দশক রাষ্ট্রীয় সফর মানেই ছিল বিশাল বহর, শত শত সঙ্গী, অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক আর জনগণের টাকায় এক শ্রেণির মানুষের বিদেশ ভ্রমণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলাম প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধের প্রয়োজন নেই, ভালোবাসাই যথেষ্ট

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৪৮



চীনের লিংশান পর্বতে শুয়ে আছেন ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ)-এর দুই সাহাবী সা-কে-জু (Sa-Ke-Zu) এবং
উউ-কো-শুন (Wu-Ko-Shun)। এই নামেই তাঁদের চিনতো স্থানীয় চীনবাসীরা। অবাক হতে হয়, আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

প্রিয় সহব্লগার,
একসময় সামু ছিল আমাদের ছোট্ট এক মহাবিশ্ব।
দৈনিক গড়ে তিন-চারশ' ব্লগার অনলাইনে থাকতেন। প্রতি মিনিটেই নতুন নতুন পোস্ট আসত। কেউ গল্প লিখছেন, কেউ কবিতা, কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ২২ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭



বাংলাদেশে শেষ কবে সিনেমা হলে গিয়ে মুভি দেখেছিলাম মনে নাই। গতকাল সন্ধ্যায় আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিলাম, স্টার সিনেপ্লেক্স মুভি থিয়েটারে। এখন আর আগের মতন সিনেমা হল নেই। অনেক কিছু বদলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×