দৌড়ে দৌড়ে রিফাত পৌঁছে গেলো গন্তব্যে ঠিকই। তবে মাত্র পাঁচ মিনিট দেরী হয়েছে । দশটার স্থানে বেজে গেছে ঘড়িতে দশটা পাঁচ। তাতেই মুখ গোমড়া করে বসে আসে রিমি বিগ বাইটের কোনার টেবিলে । বলল অনুরাগের ভাষায়, " যাও যাও , তোমার মুখ দেখেবনা। আমার ইনটুইশন বলছিল তোমার দেরী হবেই। আর তুমি বললে না আজ আগেই আসব। "
' না , লক্ষ্মী সোনা , তোমার ইনটুইশন কি ভুল হতে পারে।ম াফ করে দাও। তোমার ইনটুইশন নিশ্চয় বলছে আমাকে মাফ করে দেয়া উচিৎ। আমার প্রতি সদয় হওয়া উচিৎ । কারন আমি তোমাকে ভালবাসি। '
রিমি মুখ উঁচু করল এবং মাথা নাড়ল। মুখে তখন মিষ্টি হাসি।
...
ঠিক এগারোটায় রিমি কে রিকশায় উঠিয়ে দিল কলেজের উদ্দেশ্যে । হাতে মাত্র আধ ঘন্টা সময়। বনানীতে যেতে হবে । এত অল্প সময়ে কি করে পৌঁছাবে জিলেটার আইসক্রিম শপে। চিন্তা করতে করতে আর সি এনজি ওয়ালার মুখে না শুনত শুনতে এগাচ্ছে, তখনই ডাক দিল ইষ্টার্ণ প্লাজার সিড়ি থেকে মিতু।
' আরে মিতু , কেমন আছ।'
' মেয়েটা কে ? '
' মেয়েটা মানে?'
' ন্যাকা সেজনা। আমার ইনটুইশন বলছিল তুমি অস্বীকার করবেই। এই দেখো ছবি তুলে রেখেছি। বল কে?'
ধরা খেয়েছে বেশ। মেজাজ খারাপ হলো রিফাতের। ঘড়িতে দেখল আর মাত্র বিশ মিনিট। শিথি অপেক্ষা করবে। মিতুকে অনেক পেয়েছে কাছে। ওর চেয়ে শিথি অনেক ইমপোর্টেন্ট। 'পরে বলব, ফোন কইরো'
কিন্তু না সামনে এসে দাড়াল । সরে যেতে গিয়েই চোখের জল পড়ল হাতে। মিতু বাড়িয়ে দিল তার হাত টাও আটকানোর ভঙ্গিতে। সামনে এগোনোর গতিতে জোর ছিল। হাতের সাথে লেগে গেল ধাক্কা। রক্তের একটা লাল দাগ দেখা গেল রিফাতের হাতে। চুরি ভেঙেছে মিতুর হাতের। মিতু সর্যি বলতে যাচ্ছিল , সিএনজি তে উঠে গেলো রিফাত। হাতটাকে রুমাল দিয়ে চেপে রাখল।
...মিতু সামনে মিসকল দিয়ে যাচ্ছে। কারন একটু আগে দুটো মেসেজ শেয়ার হয়েছে। রিফাত লিখেছিল সিএনজি সামনে এগাতেই ---ছি ছি, আমার কাজিনকে দেখেই এতো সন্দেহ, ছি।
মিতু লিখেছিল-- সর্যি, সর্যি ডার্লিং, আমার ইনটুইশন বলছিল তুমি , না হতেই পারেনা। হাত কি বেশী কেটেছে?
এর পরই মিতুর সমানে মিসকল। শেষে ধরল। কিছু ক্ষণ মিষ্টি মিষ্টি কথহলো। সমাধান। কাল সকালে দেখা। এতটুকুন কথা না হলে জানত রিফাত শিথির সামনে গিয়ে এই মিসকল পোহাতে হতো। এই ইনটুইশনটা কাজে লাগল রিফাতের।
...জিলেটাতে পৌছালো যখন তখন 12:45। এর মধ্যে দুবার কলও করেছে শিথি। ধরেছিল রিফাত । বলল, 'এইতো আসছি। একটু ছোট ঝামেলায় পড়েছি, একটু 10 মিনিট ওয়েট কর।'
জিলেটার ঠান্ডার মাঝে বসেও হাপাচ্ছিল রিফাত । শিথি র চোখ এড়ালো না লম্বা কাটার সদ্য দাগটা। বলল, ' ইস কি হয়েছিল। '
'আর বলোনা, রাস্তায় একটা ছোট একসিডেন্টের মধ্যে পড়েছিলাম, উহ একদম বেচে গেছি, যাক কেবল এই ছোট কাটার উপর দেেিয়ই গেছে'
' আর মোাবাইলে বললে না কেনো, আমার ইনটুইশন বলছিল নিশ্চয় এমন কিছু একটা হয়েছে তোমার। না হলে তোমাকে তো চিনি, দেরী করার বান্দাতো তুমি নও।'
বলেই কেটে যাওয়া হাতটা কোলের উপর টেনে নিল শিথি।.
15/3/2007
ছবিঃ বাংলাদেশের তিনজন প্রতিষ্ঠিত মডেল /নাট্য নায়িকা
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মার্চ, ২০০৭ সকাল ৭:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




