দীর্ঘ এক বছর ধরে সামহয়্যার ইনে লেখার পথ ধরে হেঁটেই চলেছি, তাও আবার নিয়মিত; এই তো ঢেড়, এই তো অনেক বেশী যেন, অন্তত আমার মত(!) একজনের কাছে
সুদীর্ঘ ঊনত্রিশ বছরের জীবনে কত কিছুই না করতে চেয়েছি এবং শুরুও করেছি কত কিছু , এগিয়েছি কত ধরনের পথে ; কিন্তু কই পথের শেষপ্রান্তটুকু আর কখনই দেখা হয়ে ওঠে না, পথের কিছূদূর এগোতেই খেই হারিয়ে ফেলি আর সহজেই ত্যাগ করি পথ, কত কত পথ; তার কতেক ভাল আর কতেক তার ছিল না হয় মন্দই। পরিবর্তনের আজন্ম নেশা আর বৈচিত্র্যর প্রেম স্থায়ী হতে দিল না কোন পথেই।
তাই নিজের কাছে নিজেই অবাক হয়ে যাই ব্লগে এই এক বছরের বিরতিহীন পদব্রজে।
গত বছর ২০০৬ সালের ঠিক এই দিনে, ১৫ই মে শুরু হয়েছিল সামহয়্যার ইনে লেখালেখির অর্বাচীন ধারার প্রচেষ্টা।
একটা ইয়াহু গ্র“প থেকে পাওয়া মেইল খোঁজটা দিয়েছিল এই ব্লগের। বাংলায় লেখা যায় , জেনেই আর দেরি করিনি, ঢুকে পড়েছিলাম সামহয়্যার ইনের পেজে। প্রথম দর্শনেই আর পঠনেই মনে হয়েছিল এখানেই লেখা যাবে মনের মত যত কথা, এই তো সেই জায়গা , এখান লিখতেই হবে। শুরু হয়েছিল লেখা তাই মুক্ত মনে।
কিন্তু না মনের মতো করে কি আর সব করা যায় এই জীবনে। এই জীবন যে এক অদ্ভুত শক্তি, আজব তার প্রভাব। ভাবনা তাই যতক্ষণ মনের ভেতর ঘুরে বেড়ায় ততক্ষনই তা মনের মত। মন থেকে বাইরে এলেই তাতে অন্যের দৃষ্টি, অন্যের উপর নির্ভর উপলব্ধি, অন্য নির্ভর মতামত।
ব্লগের পাতায় তাই সেখানেই সূত্রপাত আনন্দের সেখানেই সূত্রপাত বেদনারও। মনের মত কথা লেখা যায় যত সহজে তত সহজে নাড়ানো যায়না অন্যের মন।
এমনেতেই একাকীত্বের সাথে আমার এক গোপনচুক্তি ছিলই। তার উপর ঐ সময়টাতে কাটাতে হচ্ছিল (এবং হচ্ছে) আরও নির্জনতায় আরও বেশী একাকীত্বে। চাকুরীর সুবাদে কক্সবাজারে পোষ্টেড হয়ে একা একা থাকায়, সময় যেন মাঝে মাঝে আমার সব কিছূ ছাড়িয়ে চলে যায় , সময় আর কাটেনা তাই।
সেই সময়টাতে গত বছর তাই কক্সবাজারের সেই নির্জন মিষ্টি নির্বাসনে অবসর কেটে যাচ্ছিল দুটো নির্ধারিত কাজে প্রতিদিন। একটি সন্ধ্যায় জিমের ঘাম ঝরানোর কাজে আর অন্যটি এই এখানে এই ব্লগে ঘুরে ফিরে আর লিখে লিখে। সেই অতি প্রিয় জিম এর নেশার পাটও চুকিয়ে ফেলেছি মাস পাঁচেক আগেই, কিন্তু ব্লগের পথে হাঁটছি আজও।
সম্ভবত ব্লগ ভার্চুয়াল অথবা লেখালেখির আসর বলেই টিকে যেতে পেরেছি এতদিন।
ঐ যে লেখার ইচ্ছের পথে একটা শক্ত খুঁটি, তাতে বেধে রেখেছি শিকল দিয়ে হাতের কব্জি। পরিবর্তনের সেই ধুয়ো তুলে ও পথ পাল্টাতে যে যাইনি তা বলবোনা, কিন্তু প্রতিবারেই টান পড়ে যায় একসময় সেই লম্বা শিকলে। লেখার রাজ্যে আমার মুক্তি নেই, মুক্তি চাইও না। আরও বন্দিত্ব চাই। পরিবর্তন ও চাই , তবে লেখায় লেখায়। কিন্তু কপাল!
কপালের কিছু হয়নি, আসলে চুল পড়ে যাচ্ছে যেভাবে তাতে কপাল বড় হয়ে যাবে তো , ওতো বড় কপালে কি দিয়ে ভরাব তাই ভাবছি।
অনেক অনেকবার দেখেছি ব্লগের সাথে অনেক ব্লগারের প্রেম প্রীতি, রাগ অনুরাগ, আবেগের স্ফুটন, বিচ্ছেদ বাণী দেয়ার খেলা। অবাক হয়েছি এবং সত্যি এক সময় নিজেও আবেগ তাড়িত হয়েছি আর তখনই বুঝে গেছি এই ভার্চুয়াল ব্লগ যদি পারে বাস্তবে কিছু অসাধারণ বা কিছু দীপ্ত উর্বর মস্তিষ্কের বা কুট বুদ্ধিরই হোক না কেনো, মানব মানবীর সাথে পরিচয় ঘটাতে তবে ভার্চুয়াল জগতের আবেগ শোষন করার ক্ষমতা যেমন থাকতে পারে তেমনি পারে আবগে ছড়ানোর ক্ষমতাও।
তাই ওসব নাট্যকলা আর ব্লগ খেলা সব স্বাভাবিক হয়ে গেছে এতদিনে। মেনে নিয়েছি সহজেই যেভাবে মেনে নিতে চেষ্টা করি রুঢ় বাস্তবেও।
তাই বলে ব্লগ যে বাস্তব তাও বলবোনা। ভার্চুয়াল মায়াজাল তার অমাবশ্যা পূর্ণিমায় ঠিকই জ্বলে ওঠে এবং স্পষ্ট বুঝিয়ে দেয় এটা এক ভার্চুয়াল রিয়েলিটিই কেবল।
এত এত ব্লগারের মাঝে বাস্তবে অতীত থেকে চিনতাম মাত্র একজনকেই। সে আমার নটরডেমের সহপাঠী । ব্লগের এক উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্ল তর নত্র। কিন্তু সত্যি এই ভার্চুয়াল রিয়েলিটির জগতে নামে ধামে কর্মে চেহারায় অথবা ফোনে- কিছু একটাতে তো অন্তত এখন চিনি অনেককেই। কিভাবে তাই রিয়েলিটি শব্দটা স্বার্থক না ভাবব এই ভার্চুয়ালে।
এই ভার্চুয়ালের রিয়েলিটিই তো কক্সবাজারে এক দক্ষ ব্লগারের সাথে সুযোগ করে দিয়েছিল কত সন্ধ্যার আলো আঁধারীকে আড্ডায় বেধে করে কাটাতে সময়।
ব্লগে কেবল সুস্থ দর্শক বা পাঠক আর লেখক হয়েই কাটেনি একটা বছর। অকপটে স্বীকার আগেও করেছি আবারও করছি বেশ মজায় একবার ভোদাই হয়েছিলাম ব্লগের নূরে আলম বাঁধন নামে এক মানসিক বিকার গ্রস্থ ব্লগারের চটুল বুদ্ধিমত্তায়। এখনও হাসি টানা এক সপ্তাহ একটা ছেলে রূপা নামের এক মেয়ে সেজে চ্যাটিং করে গেলো বুঝলাম ই না। কিন্তু মজাও পেলাম যখন এক সপ্তাহ পরে আমি বুঝলাম আর সে ভোদাই হতে শুরু করল। অতি চালাক , এক মেয়ে বান্ধবী বা রিলেটিভ কে দিয়ে ফোন করাল আমাকে। দুদিন পরেই সেই মেয়ে কেঁদে কেঁদে স্বীকার করল সব, তারপর এখনও চলছে তার প্রেম নিবেদন। সেই সুন্দর প্রেমপত্রখানা তো সেই মিথ্যে ছলের কারণেই পাওয়া আমার। সাথে দেশের উত্তর কোনে তার বাড়ীতে বারংবার আহ্বান। ফোনে দুষ্টু খেলার দক্ষতাটা ঝালাই হয়ে গেলো বেশ, তবে আহ্বানে সাড়া দেয়ার অতীত কোন দক্ষতা আর মাথা চাড়া দিতেই চাইলোনা। তবে ফোন ফ্রেন্ড হিসেবে মেয়েটা একটা মেয়েই ।
অনেককে দেখেছি ব্লগে প্রিয় ব্লগারদের বন্দনা করে থাকে তাদের বিশেষ কোন পোষ্টে। আমারও ইচ্ছে করছে। কিন্তু পারছিনা। কাকে বলব প্রিয় আর কাকে বলব প্রিয় না। নিরপেক্ষ হতে চাইলেও হওয়া যাবেনা। তবে পক্ষপাতিত্বটা তো বর্জন করাই যায়। তাই চেষ্টা করি পোষ্টকে প্রিয় বানাতে ব্লগার কে নয়। তবুও মানুষ তো। অনেকের নাম মনে চলে আসে এই মুহূর্তে। তাদের সকলকে অসাধারণ শুভেচ্ছা জানিয়ে দিলাম অদৃশ্য কালিতে অন্তরের গহীন মনোরম স্থানটি থেকে। নিশ্চয় দেখতে পেয়েছেন, নিশ্চয়।
নীতিবাক্য বা প্রবাদ বাক্য যদি বানাতে না পারি, না পারি গড়তে তবে এক্সিসটিং নীতিবাক্য বা প্রবাদ বাক্যকেই মেনে নিতে হবে। এই দুয়ের মাঝে আর কিছূ নাই। গড়ে নেও নাইলে মেনে নেও।
তাই যোগ্যতমের জয় কথাটি মেনে নিতেই হয়।
গড়ে নেয়ার মতো ওতটা বোধহয় মাথায় নেই। অন্তত আছে বলে দেখিনি। তাই
‘ব্লগে বেশী পোষ্ট থাকলেই ভাল ব্লগার নয়’ - মানতেই হয়
‘বেশী মন্তব্য যার সু ব্লগারের বিশেষন তার’- মানতেই হয়
‘হিট সংখ্যা বেশী যার জনপ্রিয় ব্লগার হবার যোগ্যতা তার’- মানতেই হয়।
‘ ধর্ম নিয়ে আর রাজনীতি নিয়ে লেখে যে বেশী, বুদ্ধিমান ব্লগ হিসেবে তাকেই ভালবাসে বেশী’- মানতেই হয়।
তাই আমি ব্লগের অতি নিম্নমানের ব্লগার--ভাবেতেই হয়।
ব্লগে এত বেশী ভাল বেসে ফেলিছলাম যে এক অঙ্গনে মন ভরেনি তাই পথচারী নামে আরেকটা ব্লগও খুলেতই হলো, সেখানে জাহির করতে পারি লব্ধ জ্ঞান আমার , ভ্রমন যত আমার।
আজকে আমার আরেকটা বিশেষ দিন...কারণ এই দিনে এই পৃথিবীতে এসেছিলাম। যার জন্যে আজ এত বিরক্ত করতে পারি আপনাদের ....জন্মে আমি ধন্য..ধন্য এ ধরার রূপে গুণে দোষে...
গতকাল ঘূর্ণিঝড়ের দোলায় বাসের দুলুনি খেতে খেতে ঢাকায় আসছিলাম আর ভাবছিলাম কত কিছূ লিখব ..এই এমন একটা পোষ্টে..কাকতলীয় ভাবে যে টি একাধারে ৫০০তম পোষ্ট , বর্ষপূর্তি পোষ্ট এবং ...জন্ম বার্ষিকী উদযাপনের পোষ্ট....
মন চেয়েছিল আরও অনেক কিছু লিখতে ....কিন্তু এক কলিগের অফিসে বসে ( ঢাকায়) লিখছি বলে অত সুযোগ নেই, নেই এই পোষ্টটিকে অলংকৃত করার ও সাধ্য।
তবুও ব্লগে ঢুকেই অজস্র শুভেচ্ছা মাথায় তুলে নিয়ে আমি মুগ্ধ।
সবাই কে ধন্যবাদ।
অনেক কথা বলার ছিল , সুযোগ হলো না, বলব আরও পরে।
সবাইকে তাই অনেক শুভেচ্ছা।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মে, ২০০৭ রাত ১১:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




