এটি একটি নিগুড় শিক্ষনীয় গল্প। একটু আপেক্ষিক দৃষ্টি নিয়ে বোঝার চেষ্টা করুন। জগতে এই আপেক্ষিক বিষয়টিই সব ঘটনার নাটের গুরু। আপেক্ষিকতার কারনেই একই ঘটরা দু দলের কাছে দু'রকম প্রতিয়মান হয়। কেউ পক্ষে থাকে কেউ বিপক্ষে। যেমন ধরুন আপনি একটা ট্রেনের ফার্স্ট ক্লাশ কক্ষে ভ্রমন করছেন। আপনার সাথে আরও দু'জন আছে ও কামরায়। রুমে লাইট জ্বলছে। আপনি চুপচাপ বসে। একজন বই পড়ছে আরএকজন ঘুমানোর চেষ্টা করছে। আপনি হঠাত লাইট বন্ধ করে দিলেন। তাতে যে বই পড়ছিল তার কাছে আপনি খারাপ আর যে ঘুমানোর চেষ্টায় ছিল তার কাছে আপনি ভাল রূপে প্রতিয়মান হলেন। এখন আপনি আসলে ভাল না খারাপ। সেটা কি আপেক্ষিক হয়ে গেলনা?
নিচে আমি একটি তেলাপোকীয় (যেমন মানুষের জন্য মানবীয়) অনু গল্পে এই আপেক্ষিকতা দেখানোর চেষ্টা করেছি। উল্লেখ থাকে যে গল্পটি লোক মুখে প্রচলিত কিছুটা। লেখায় গল্পটি আবদ্ধ করেছেন কবি মামুন ম. আজিজ
, কেউ যদি কোথাও গল্পটি ব্যবহার করেন অনুগ্রহ করে মামুন ম. আজিজ এর রেফারেন্স ব্যবহার করবেন।
তেলাপোকীয় গল্প
কালো নোংরা জল বয়ে যাচ্ছে। জগতের সব উচ্ছিস্ট মিলে মিশে জটিল মিশ্রনে আনন্দে ভুলে গেছে বাইরের অতীত। এই তো একটা ম্যানহোল। শ্যাঁতশ্যাঁতে ম্যানহোলের শেষ প্রান্তে নোংরা বহতা যেখানে খোলা নর্দমার সাথে মিশেছে ঠিক সেখানটায় একটা তেলাপোকা একা একা । যুবক বয়স। ঝকঝকে ত্বক। বিকেলে যখন প্রেমিকাদের কারও সাথে নিভু নিভু সূর্যালোয় প্রমোদ ভ্রমনে বের হয় , তার ঝকঝকে পিঠে তখন সে কি বাদামী ঝিলিক। এই মুহূর্তে তার চোখে মুখে ভীষন আনন্দ আনন্দ ছাপ। সে খুঁজে পেয়েছে এই তো খানিক ক্ষণ আগে বেশ মজার একটা খাবার । অজস্র নোংরা আবর্জনার মাঝে এক টুকরো তাজা মল। কোন মানবের দেহ নিসৃত: হবে। এখনও গু গু গন্ধে ভরে আছে আশপাশ। টাটকাই মনে হচ্ছে। ভীষন আনন্দে যুবক তেলাপোকা সেই খাদ্য খেতে শুরু করল।
কে যেন এদিকেই আসছে। কাছাকাছি আসতেই চিনতে পারল। ওরই ঘনিষ্ট বন্ধু। ওরই বয়সী সে তেলাপোকা। গায়ের রং অবশ্য ওর মত উজ্জ্বল নয়। তা না হলে কি হবে। যুবক তেলাপোকা জানে ও দুষ্টুমিতে ওস্তাদ। আর বেশ জ্ঞানী। সব সময় মানুষ নামের যে দুপেয়ে প্রাণী আছে না তাদের আশে পাশে ঘুরঘুর করে আর নতুন নতুন খবর এসে বলে ওদেরকে। যুবতী তেলাপোকাগুলো তাই ওর জন্যে এত পাগল। ও তো বোঝেনা ওই মানুষগুরো যে হৃদয়হীন প্রাণী। কবে অপঘাতে মারা যায়। কিন্তু ও টের পেলো কিভাবে। অবশ্য যে স্মেল বের হয়েছেনা! শালাতো এসে ভাগ বসাবে। বন্ধু তেলাপোকা কাছে এসে পৌঁছেছে ইতোমধ্যে। আসতে আসতেই ওর মাথায় একটা ভীষণ দুষ্টু বুদ্ধি খেলে গেল। কাছে এসেই বলল কিরে একা একাই। খা খা আমি তো একদম মানুষের শরীর থেকে বের হলেই খাই, টাটকা। যুবক ওর দিকে তাকোলো; বাদামী গাত্রে কালো রাগের চিহ্ন। বন্ধু তেলাপোকা বলল একটা ঘটরা বলি শোন। ঘটনাটা গতকাল বিকেলের। একটা ধবধবা মেয়ে মানুষের পার্সে উঠে ঘুরতে বেরিয়েছিলাম। ঘুরতে ঘুরতে একটা রেস্তোরায় নিয়ে গেল ওই বোকা মেয়ে মানুষ। বোঝেইনি যে আমি আছি। তারপর শোন চারদিকে চোখ মেলেই দেখি আনেক গুলো মানুষ বসে বসে খাচ্ছে। কোথাও না একটুও ময়লা দেখলাম না ওখানে। ভীষণ পরিষ্কার। দেয়াল গুলো কি অদ্ভুত পরিচ্ছন্ন। ছ্যা। কোন আবর্জনা ফেলেনি কেই কোথাও। সব একদম পরিপাটি। আর মানুষগলো যে খাবার খাচ্ছিল তা এত..............
যুবক তেলাপোকা বিরক্ত হয়ে বন্ধুকে থামিয়ে দিয়ে বলল, চুপ কর। খাবার সময় কেউ পরিষ্কার জায়গার কথা বলে। শুধু জায়গা না তুই পরিচ্ছন্ন খাবার দাবার কথাও বলছিস্ । শুনেতো বিবমিষা হচ্ছে। বমি আটকানো যাচ্ছেনা। শালা দিলিতো এত মজার খাবার এর টেস্টটা নষ্ট করে।
---মামুন ম. আজিজ
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মে, ২০০৬ দুপুর ১২:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




