সেদিন ইফতারির একেবারে আগমুহুর্তে মসজিদের পাশ দিয়ে যেতেই সাইরেন বেজে উঠল।তাড়াতাড়ি একটা দৌড় দিলাম।ইফতার করতে হবে যথাসময়ে সেকারণে।ভাগ্যিস বাসা থেকে বেশী দূরে ছিলামনা বলে রক্ষা।ইফতারের আইটেম যদিও সাধারণ কিন্তু মনে হচ্ছিল অমৃত।খেতে খেতে মনে হল যে, এক সময় ইফতারির জন্য গরীব বাচ্চা ছেলেরা "খালাম্মা ইফতার দিবেন?" বলে পুরো মহল্লায় ঘুরে বেড়াতো।এখন দৃশ্যটা খুবই কম দেখা যায়।ভাবলাম,বেশ তো।গরীব কমে যাচ্ছে।আমরা আরো মোটা তাজা হচ্ছি।ভালই।
এরপরে নিউজ দেখতে বসলাম।দেশের খবর, অর্থনীতির খবর।বিদেশের খবর আসতেই প্রতিদিনের মতই মনটা খারাপ হয়ে গেল।সিরিয়া ইরাকে আরো মৃত্যুর সংবাদ,সংঘর্ষ।আমাদের সাথে তাদের পরিস্থিতি মিলালাম।কেমন আছে তারা?
তাদের দেশে যখন সাইরেন বাজে তখন তারাও দৌড়ায়।তবে খাবার জন্য নয় বরং বিমান হামলা থেকে বাঁচার জন্য।তাদের ইফতারিতে ধুলো বালি থাকে,থাকে রক্তে ভেজা মাদুর আর কান্নার জলে ভেজা খেজুর।তারা জানেনা পরেরদিন তার সামনে বসা প্রিয়জনটিকে হয়তো কবর দিয়ে ইফতার করতে হতে পারে। কী অপরাধ তাদের??
আবার জায়নবাদীদের চক্রান্ত বাস্তবায়নে তৎপর আইএস তো আছেই মুসলমানদের রক্ত ঝরাতে আরো উন্মত্ত।
নিজেকে বেশ অপরাধী মনে হল।এত নিয়ামত থাকা সত্ত্বেও আমরা আল্লাহর নাফরমান বান্দা।তাঁকে স্মরন করিনা।আবার নিজের মুসলিম ভাইদের স্মরণে একটা মুহুর্তও থমকে দাঁড়াইনা।তারা মারা যাচ্ছে আমাদের কি??আমরা তো শান্তিতে আছি।শপিংএ এতটুকু কম হলে মনোঃক্ষুণ্ণ হই।সেহরিতে লেবু না পেলে চেঁচামেচি করি।ইফতারির শরবতে চিনি কম হলে কাজের লোকদের সাথে অভদ্রতা করি।
একটা যুগ নাকি ছিল।যে যুগে সিন্ধুর রাজা দাহিরের অত্যাচারে অত্যাচারিত মুসলিম ভাইদের সাহায্যে মুহাম্মাদ বিন কাসিম এলেন বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে।
জানেন কেন তারা এটা তারা পেরেছিল।কারণ তারা পুরো মুসলিম জাতিকে একটি দেহের মত মনে করত।যার একটি চুল উপড়ানো হলেও সমস্ত শরীর তার জন্য ব্যাথা অনুভব করত।আর আমরা আজ মিথ্যা জাতীয়তাবাদী চিন্তা চেতনায় শতধা বিভক্ত।একজনের ভুল আরেকজনে ধরায় পারঙ্গম।কিন্তু প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত করতে সবচেয়ে কৃপণ।
হায়,মুসলিম বিশ্বে আজ এরকম পাপীও নেই যে মুসলমানদের নেতৃত্ব দিবে?তাদের পাশে দাঁড়ানোর মত সেই তারিক বিন যিয়াদও নেই??ইহুদী খ্রিস্টানদের ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সালাহউদ্দিন আইয়ুবীও নেই? কবে এ জাতির বন্ধ্যাত্ব ঘুচবে??কবে এ অমানিশা ভেঙে সাইরেন বাজিয়ে এজাতি আবার জেগে উঠবে সত্য ও ন্যায়ের বিজয়ের জন্য??

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

