তুমি সব সময় মাথা নিচু করে কথা বলো কেন ?....হঠাৎ এমন প্রশ্নে অপ্রস্তুত হয়ে উঠে আবীর।সহসা মাথা তুলে যে এর উত্তর দেবে তা’রও যো নেই। চশমাটা নাকের ডগা থেকে চোখ বরাবর এনে আলতোভাবে মাথা দুলিয়ে বলে,আসলে এটা আমার অভ্যাসে পরিনত হয়েছে।
এ অভ্যাসটা আসলে আবীরের ঠিক অভ্যাস নয় বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে তা অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। যেমন অনেক মানুষের সামনে হঠাৎ কেউ যদি তাকে চিনতে পেরে বলে ওঠে...ও তুমি সালেক সাহেবের ছেলে না ! সবাই তার দিকে তাকায় তখন কেন জানি সব মানুষের সামনে তার লজ্জা লাগে আর পরিনতি মাথা নিচু। সবাই ভাবে ছেলেটা বেশ বিনয়ী।
ইদানিং এ অভ্যাসটা তাকে ইনফিরিউটি কমপ্লেক্সে ভোগাচ্ছে। বহুবার চেষ্টা করেছে কথা বলার সময় আই কন্টাক রাখবে। বইয়ে পড়েছে তাতে কনফিডেন্স লেবেলটা অনেকটা ইমপ্রুভ করে।
কিন্তু আজকের ব্যাপারটা মোটেই সেরকম নয়। কেন জানি অনিকার আশেপাশে থাকলেই খেঁই হারিয়ে ফেলে সে। ব্যাপারটা প্রথম প্রথম আবীর অনুভব না করতে পারলেও বছর খানেক পরে বুঝতে পারে ও। প্রথম প্রথম এটাকে সে ইনফ্যাচুয়েশন মনে করতো। কিন্তু দিন যতই গড়িয়েছে এটাকে ঠিক এখন ইনফ্যাচুয়েশন মনে করতে পারছেনা। কারন গত পাঁচটা বছর এক নাগাড়ে কারো প্রতি তীব্র আকর্ষনটা নিশ্চই ইনফ্যাচুয়েশনের সংঙ্গায় পড়েনা। মনের ভিতর কিছু যে একটা হচ্ছে বুঝতে পারে সে । কিন্তু কিছু যে বলবে বা করবে তেমন আবস্হাও নেই আবীরের ।
আজ নাটকের রির্হাসেল করার মত সব প্রস্তুতি নিয়ে অনিকার সামনে এসেছে আবীর । যেভাবেই হোক অনুকে আজ মনের কথা বলবে ।অনিকাকে অনু বলে ডাকে আবীর । কিন্তু বিধি বাম । যেই না অনুর সামনে এসে পড়েছে ও অমনি মাথা নিচু । দু’মিনিট হয়ে গেল, অনুর সামনে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আবীর।
কিছু বলবে ?...অনু প্রশ্ন করে আবীরকে
আমিতো অনেক কিছু বলতে চাই,শোনাতে চাই,বুঝাতে চাই….. মনের ভিতর এমন সব কথা জটলা পাকায় আবীরের। মুখ তুলে কিছু বলতে পারেনা ও ।
প্রায় মিনিট পাঁচেক ধরে আবীর অনু সামনা সামনি দাড়িয়ে । আবীরের নিঃশব্দ বোকামি দেখে অনু বলে, আমি এখন যা যা বলব তার সব কিছুই হ্যাঁ সূচক জবাব দেবে। কোন প্রশ্ন করবে না
-আচ্ছা
-এখন থেকে তুমি আমাকে আর লুকিয়ে লুকিয়ে দেখবেনা
-আচ্ছা
-আননোন নাম্বার থেকে আমাকে আর মেসেজ দিবা না
-আচ্ছা
-এখন থেকে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলবে
-আচ্ছা
-তাকাও ?
-আচ্ছা
-কি হল তাকাও ?
_তাকাচ্ছি তো
মনের অতল গভীর থেকে কিছু সাহস জোড়াতালি দিয়ে অনুর চোখের দিকে তাকালো আবীর ।
কেমন যেন একটা শান্ত নদীর সন্ধান পেল ও ।ভালো করে তাকাতেই দেখতে পেল,নির্জণ কাজল আঁকা দু’চোখের মাঝে কচু পাতা কালারের টিপটি একটা সবুজ দ্বীপ ।আর দু’কানের উপর দিয়ে গড়িয়ে পড়া মখমল কালো চুলগুলো যেন বহমান শান্ত ঝরণারই প্রতিচ্ছবি ।
আবার মিনিট পাঁচেকের জন্য কথা নেই কারো মুখে । নিঃশব্দ চোখের চাহুনীতে কি যে কথা হল ওদের মাঝে … অনুর ফর্সা গালে লালচে গোলাপি একটা আভা তৈরী করল ।নাকের চূড়ায় বিন্দু বিন্দু জলকণা জমা হল ।
কয়েক মুহূর্ত পরে দেখা গেল অনুর দিকে তাকিয়ে আছে আবীর আর অনু তখন মাথা নিচু করে দাড়িয়ে ছিল ওর সামনে ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




