somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবন যখন জার্মানিতে : ০১ (বোনাস একটা দিন, আর শেষ বিদায়)

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ ভোর ৪:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১০ অক্টোবর, ফ্লাইট ঢাকা থেকে জার্মানী, রাত প্রায় ১২ টা। "check in" এ অপেক্ষা করছি, কখন লাগেজ গুলো চেক করাতে পারব। দূর থেকে দেখছি, বাবা-মা, আপা-দুলাভাই, বাবু আর ছোট বোন। সবাই অধির আগ্রহে দেখছে আমাকে, ভাবছে কোন সমস্যা হল কি না ! হ্যা, সমস্যা, তবে আমার না, connecting plane delayed তাই, আজকে আর আমাদের কে ঢাকা থেকে দোহা তে নিচ্ছে না। জানা মাত্রই দূর থেকে বুঝিয়ে দিলাম ওদেরকে যে আমি আজকে যাচ্ছি না। সবার মুখে হাঁসি, সাথে আমিও যেন একটা দিন বেশী পেয়ে গেলাম। আরো ২৪ ঘন্টা থাকতে পারবো কাছের মানুষদের সাথে।
একটা দিন যেন ছিল একেবারেই বোনাস এর মত। বোনাস কিছু যেমন মানুষ যথার্থ ভাবে কাজে লাগাতে চায়, আমিও তার ব্যতিক্রম করলাম না। কিছু প্রিয় মুখ শেষ মুহূর্তে দেখা, শেষ সময় গুলো একসাথে থাকা।
আবারো, বিদায়ের সময় ! গাড়িতে আমার পাশে আম্মা বসে ছিল। অনেক রাত, আম্মা ঠিক আমার কাধে ঘুমিয়ে পড়েছিল, হাঠাত মনে হল, এ কি হারাতে যাচ্ছি আমি !!! বার বার চোখ মুছেও পানি ধরে রাখাটা কঠিন ছিল। গাড়িতে সেদিন নিজেকে সবার কাছ থেকে আড়াল করতে পেরেছিলাম কি না আমি জানি না।
গাড়ি থেকে নেমে নিজেকে আর রাখতে পারি নি, আপা কে জড়িয়ে কেঁদেই ফেললাম। ইচ্ছে করলেই এই ভালবাসা পাবো না, ভাবতেই নিজেকে শক্ত করাটা কঠিন ছিল। এবার আর একদিন বোনাস পাই নি। যেতেই হবে। " Check in" শেষ করে "immigration" এ যাবার আগে ছিল শেষ বিদায় নেয়া।

পাশের সিটে বসে থাকা মেয়েটা বিদায় নিচ্ছে, বাবা-মা কে সালাম করছে। আর, বুকে জড়িয়ে ধরে কান্না। ভাবতে আঁতকে উঠলাম, এখন আমাকেও বিদায় নিতে হবে।
জার্মানিতে যাওয়ার জন্য এতো দিনের এত চেষ্টা আর প্রস্তুতির পর এখন একদম যেতে ইচ্ছে করছে না। থেকে গেলেই তো হত, ভালোই তো ছিলাম। একটা চাকরী, ছোট্ট পরিবার, আর ভালবাসার কাছের মানুষ। একদিকে এতো ভালবাসার মানুষজন,আরেক দিকে নিজের এতো দিনের চেষ্টার সফল বাস্তবায়নে এগিয়ে যাওয়া। নিজেকে স্বার্থপর মনে হচ্ছে। শুধুই কি নিজের জীবনের সাফল্যই আমার দায়িত্ব ছিল নাকি এই মানুষগুলার জন্যও আমার দায়িত্ব আছে। আবার ভাবি, না, ওদের জন্যই হয়ত আমার আজকের এতো দুরের পথযাত্রা।
কাছের এত মানুষ জন কে এতো কাছে আবার কবে পাবো যানি না। আম্মাকে জড়িয়ে শেষ বিদায়, আজ বার বার মনে করায়ে দিচ্ছে..." নতুন এই পৃথিবী, সময় কত দ্রুত, আর আমি কত একা। "
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ ভোর ৫:২২
৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

×