১০ অক্টোবর, ফ্লাইট ঢাকা থেকে জার্মানী, রাত প্রায় ১২ টা। "check in" এ অপেক্ষা করছি, কখন লাগেজ গুলো চেক করাতে পারব। দূর থেকে দেখছি, বাবা-মা, আপা-দুলাভাই, বাবু আর ছোট বোন। সবাই অধির আগ্রহে দেখছে আমাকে, ভাবছে কোন সমস্যা হল কি না ! হ্যা, সমস্যা, তবে আমার না, connecting plane delayed তাই, আজকে আর আমাদের কে ঢাকা থেকে দোহা তে নিচ্ছে না। জানা মাত্রই দূর থেকে বুঝিয়ে দিলাম ওদেরকে যে আমি আজকে যাচ্ছি না। সবার মুখে হাঁসি, সাথে আমিও যেন একটা দিন বেশী পেয়ে গেলাম। আরো ২৪ ঘন্টা থাকতে পারবো কাছের মানুষদের সাথে।
একটা দিন যেন ছিল একেবারেই বোনাস এর মত। বোনাস কিছু যেমন মানুষ যথার্থ ভাবে কাজে লাগাতে চায়, আমিও তার ব্যতিক্রম করলাম না। কিছু প্রিয় মুখ শেষ মুহূর্তে দেখা, শেষ সময় গুলো একসাথে থাকা।
আবারো, বিদায়ের সময় ! গাড়িতে আমার পাশে আম্মা বসে ছিল। অনেক রাত, আম্মা ঠিক আমার কাধে ঘুমিয়ে পড়েছিল, হাঠাত মনে হল, এ কি হারাতে যাচ্ছি আমি !!! বার বার চোখ মুছেও পানি ধরে রাখাটা কঠিন ছিল। গাড়িতে সেদিন নিজেকে সবার কাছ থেকে আড়াল করতে পেরেছিলাম কি না আমি জানি না।
গাড়ি থেকে নেমে নিজেকে আর রাখতে পারি নি, আপা কে জড়িয়ে কেঁদেই ফেললাম। ইচ্ছে করলেই এই ভালবাসা পাবো না, ভাবতেই নিজেকে শক্ত করাটা কঠিন ছিল। এবার আর একদিন বোনাস পাই নি। যেতেই হবে। " Check in" শেষ করে "immigration" এ যাবার আগে ছিল শেষ বিদায় নেয়া।
পাশের সিটে বসে থাকা মেয়েটা বিদায় নিচ্ছে, বাবা-মা কে সালাম করছে। আর, বুকে জড়িয়ে ধরে কান্না। ভাবতে আঁতকে উঠলাম, এখন আমাকেও বিদায় নিতে হবে।
জার্মানিতে যাওয়ার জন্য এতো দিনের এত চেষ্টা আর প্রস্তুতির পর এখন একদম যেতে ইচ্ছে করছে না। থেকে গেলেই তো হত, ভালোই তো ছিলাম। একটা চাকরী, ছোট্ট পরিবার, আর ভালবাসার কাছের মানুষ। একদিকে এতো ভালবাসার মানুষজন,আরেক দিকে নিজের এতো দিনের চেষ্টার সফল বাস্তবায়নে এগিয়ে যাওয়া। নিজেকে স্বার্থপর মনে হচ্ছে। শুধুই কি নিজের জীবনের সাফল্যই আমার দায়িত্ব ছিল নাকি এই মানুষগুলার জন্যও আমার দায়িত্ব আছে। আবার ভাবি, না, ওদের জন্যই হয়ত আমার আজকের এতো দুরের পথযাত্রা।
কাছের এত মানুষ জন কে এতো কাছে আবার কবে পাবো যানি না। আম্মাকে জড়িয়ে শেষ বিদায়, আজ বার বার মনে করায়ে দিচ্ছে..." নতুন এই পৃথিবী, সময় কত দ্রুত, আর আমি কত একা। "
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ ভোর ৫:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



