somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবন যখন জার্মানিতে :০২ ( বৃষ্টিস্নাত, ১৪ ডিগ্রী সেলসিয়াসের, বার্লিনে)

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ সকাল ৯:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চিৎকার- চেঁচামেচিতে একজন লোক সবার সাথে সাথে আমারও দৃষ্টি আকর্ষণ করল। লোকটা যে USA এ যাচ্ছেন, তাঁর কালকে একটা সেমিনার আছে, সেটা অনেক বার শুনতে আমার এখনো মুখস্থ হয়ে আছে। আগের দিনে, এক দিনের দেরীতে মনে হয় কাতার-এয়ারওয়েস এর লোকজন কে শুধু গালি দেওয়াটা বাদ রেখেছিল, তাই লোকটা আজকে দেখেই চিনতে ভুল হয় নি।

মন ভালো রাখার একটা সহজ উপায় হলো, চুপ চাপ আশেপাশের মানুষজনকে খেয়াল করা আর মজার এবং অদ্ভুত কিছু আবিষ্কার করা। কাজটা খুব কঠিন ও না। মানুষ খুব ই অদ্ভুত প্রানী। তো, ওই লোকটাকেই খেয়াল করতে লাগলাম, যখন প্লেইন এ ওঠার জন্য ওয়েটিং রুম এ ছিলাম। লোকটা কে ঘিরে ২-৩ জনের এর একটা গ্রুপ হয়ে গেল, সবাই অতীব আগ্রহী, আর লোকটাও আনন্দিত তাঁর USA-সেমিনার এর ব্যাপারে এতো লোকের আগ্রহ দেখে, মনে হল প্লেইন এর সব যাত্রি এতো ক্ষণে জেনে গেছে যে আমাদের সাথে একজন যাচ্ছে যার কালকে USA এ একটা বিশাল সেমিনার আছে। যাইহোক, এই লোকটা কে, আর আশে পাশের মানুষদের শেষ মুহুর্তের ফোন-আলাপচারিতা দেখতে দেখতে সময় হয়ে গেলে সুড়ঙ্গ পথ ( !) দিয়ে প্লেইন এ চড়া।

নামতে হল দোহা-তে। নেমেই ভাবতে লাগলাম ৭ ঘন্টা সময় কিভাবে একা একা কাটাবো। পুরো টার্মিনাল ঘুরেও এখনো দেখি বার্লিন-এর প্লেইন এর সময় ৫ ঘন্টার মত বাঁকি। এর মধ্যেই বাসায় এবং বন্ধুদের ফেইসবুকে জানিয়ে দিয়েছি আমার ফ্লাইট এর খবরা-খবর। শুন্যতা অনুভব করতে লাগলাম সাথের কারো জন্য। সাথে থাকলে সময় গুলো অবশ্যই এই রকম বিরক্তিকর হতো না।

৮৪৪,৫৩২৮ মেট্রিক টন কার্গো সাইজের, পৃথিবীর এই ২৬ তম ব্যস্ততম এয়ারপোর্ট-এর ব্যস্ততা দেখতে দেখতে সময় হয়ে গেলো বার্লিনের ফ্লাইটের।পুরো প্লেইনের যাত্রিদের মধ্যে আমার রঙের আর কাউকে দেখলাম না, অধিকাংশই জার্মান। তবে একটা ব্যপার বেশ ভালোই লেগেছে, এই এয়ারপোর্ট -এর ল্যান্ড এড়িয়াতে কিছুটা হেটে গিয়ে প্লেইনের সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয়েছিল।

Dr. Arnold Barnett ( Massachusetts Institute of Technology),১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৯৪ সালের এক গবেষনায় পেয়েছিলেন যে, মানুষের মৃত্যু ঝুঁকি প্রতি ফ্লাইটে ১ / (৭মিলিয়ন)। এটা বুঝায় যে, কোন একটা দেশের ভালো মানের প্লেইনে করে ভ্রমন করলে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা ১/ (৭ মিলিয়ন) প্রতি ফ্লাইটে। আরেকটু হিসেব করলে দেখা যায়, কেউ যদি তাঁর জীবনের প্রতিদিন ই প্লেইনে ভ্রমন করে, এই গবেষনা থেকে ধারনা করা যায় , একটা প্লেইন দুর্ঘটনা ঘটতে তাঁর ১৯০০০ বছর লেগে যাবে। [১]

গত ২০ বছরের ট্রেন দুর্ঘটনার কিছু হিসেব থেকে দেখা যায়, মানুষের ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা ১/ (১ মিলিয়ন) প্রতি ট্রেন যাত্রায়। [১] ভাবতেই অবাক লাগে, ট্রেন এর চেয়ে প্লেইন ভ্রমন ১০ গুন নিরাপদ, যেখানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় যাত্রীবাহী এয়ারলাইনার, ৫,১৪৫ বর্গ ফুটের জায়গা সম্বলিত AIRBUS A380 স্বাচ্ছন্দ্যে উড়ে যাছে।

বসে থেকে থেকে একদম ক্লান্ত, মুভি-গান কিছুই দেখতে বা শুনতে ইছে করছে না। জার্মান রা যে চুপচাপ, রোবটের মত সেটা আগেই শুনেছিলাম। তাও, ভাবলাম, পাশের লোকটার সাথে কথা বলি। নিজে থেকে হ্যালো বলার পর লোকটার স্বতঃস্ফূর্তটায় আমি মুগ্ধ। সে নিজে থেকেই তাঁর পরিচয় বলল।

সে একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, নিজের একটা অটোমোবাইল কোম্পানী আছে। বড় হয়েছে মাগডেবুর্গ এ। এখন তাঁর গার্লফ্রেন্ড কে সাথে নিয়ে বার্লিনে থাকে। বেশ, আমিও মাগডেবুর্গএ যাচ্ছি শুনে ঠিকানা জানতে চাইলো। একদম অজানা এক জায়গার ঠিকানা কিছুটা যেনে নেয়ার চেষ্টা করলাম। তারপর, তাঁর ক্যারিয়ার, পড়াশুনা নিয়ে কথা বলতে বলতে সময় দ্রুত চলতে লাগল।

পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর জিনিসটাও একা একা দেখে শান্তি-সুখ কিছুই পাওয়া যায় না। সাথে একদম কাছের মানুষ লাগে। যেমনটা, মেঘ আর মেঘের উপরে ভেসে ভেসে উড়ে চলার কোন অনুভুতি ই কাজ করে নি। এভাবেই, বৃষ্টিস্নাত, ১৪ ডিগ্রী সেলসিয়াসের, বার্লিনে চলে আসলাম। আর, শুরু হলো জার্মান ভাষা নিয়ে বিরুপ অভিজ্ঞতা।


[১] Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:০২
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

×