আমিই কৃষ্ণকান্ত নন্দী
-------------------------
চুনার দুর্গ - বারাণসী শহরের প্রধান আকর্ষণ চুনার দুর্গ। বারাণসী শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে গঙ্গা নদীর ধারে এক বিশাল ঐতিহাসিক দুর্গ।
পৌরাণিক মতে, ভগবান বিষ্ণু বামন অবতার নিয়ে এখানকার ভূমিতে তার প্রথম চরণ স্থাপন করেছিলেন,তাই এর নাম হয় চরণাদ্রি। উজ্জয়িনীর মহারাজা বিক্রমাদিত্য এই চুনার দুর্গ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বিক্রমাদিত্যের ভাই ভতৃহরি এখানে তপস্যা করে জীবন্ত সমাধি নিয়েছিলেন। অনেক ঐতিহাসিকের মতে রাজা সহদেব ১০২৯ সালে বর্তমান দুর্গটি নির্মাণ করেন। রাজা সহদেবের সাহসী কন্যা সোনহা বা সোনওয়ার সঙ্গে মাহবার মহারাজা আলহার সাথে বিবাহ হয় এবং বিবাহস্থল হিসাবে নির্মিত হয় সোনহা মণ্ডপ। এই দুর্গের প্রথম নির্মাতা বিক্রমাদিত্য। সোনহা মণ্ডপের পেছনে ভতৃহরির সমাধি। প্রথম মুঘল সম্রাট বাবর এই দুর্গ অধিকার করেছিলেন। পরে শেরশাহ এই দুর্গ অধিকার করেছিলেন। আকবর পুনরায় এই দুর্গ অধিকার করেছিলেন। পরে ওয়ারেন হেস্টিংস এই দুর্গ দখল করেছিলেন। কৃষ্ণকান্ত নন্দী হেস্টিংসের সাথে এই দুর্গে এসেছিল। রাজকুমারী সোনহা এই মণ্ডপে গঙ্গার জলে স্নান করতো। পাইপের মাধ্যমে গঙ্গা নদী থেকে জল আনানোর ব্যবস্থা ছিল।
রামনগর দুর্গ - বারাণসী থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে রামনগর দুর্গ অবস্থিত। মহারাজা বলবন্ত সিংহ এই রামনগর দুর্গ নির্মাণ করিয়েছিলেন।
বিজয়গড় দুর্গ - বারাণসী থেকে রবার্টসগঞ্জ এবং সেখান থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে বিজয়গড় দুর্গ। এই দুর্গ রাজা চৈত সিংহের দখলে ছিল। এই দুর্গের প্রধান ফটকের কাছে সৈয়দ জৈন উল আবদিন মির সাহিবের সমাধি আছে। এখানে দুটি পুকুর আছে - মীরা সাগর এবং রাম সাগর। দুই পুকুরের মাঝে রাজপ্রাসাদ রঙ্গমহল। এখানে চৈত সিংহের মা পান্না এবং অন্য মহিলাকে উদ্ধার করেছিল কৃষ্ণকান্ত নন্দী। এই বিজয়গড় দুর্গ থেকে কান্তবাবু রাণী পান্নার কাছ থেকে লক্ষ্মীনারায়ণ শিলা,একমুখী রুদ্রাক্ষ, দক্ষিণাবর্ত শঙ্খ গ্রহণ করেছিল এবং কাশিমবাজারে সেগুলোর প্রতিষ্ঠা করেছিল।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




