somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঢাকার বাজারেও বগুড়ার দইয়ের দাপট

১৯ শে জানুয়ারি, ২০১৪ বিকাল ৪:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯ জানুয়ারী, ২০১৪
সময়নিউজ ডট নেট:
বগুড়ার দই নিয়ে পাশ্ববর্তী দেশগুলোতে কমবেশী তোলপাড় হয়েছে কোন না কোন সময়। বিদেশ-বিভূঁইয়ে বগুড়ার দইয়ের স্বাদ কে নেয়নি! ব্রিটেনের রানী ভিক্টোরিয়া, রানী এলিজাবেথ থেকে শুরু করে মার্কিন মুল্লুকেও গিয়েছে বগুড়ার দই সেই ষাটের দশকের প্রথম ভাগে। পাকিস্থানের তদানীনন্তন স্বৈরাচারী প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান বগুড়ায় এসে দইয়ের স্বাদ পেয়ে ব্রিটেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্তাদের সহানুভূতি পেতে পাঠান এই দই। তদানীনন্তন পাকিস্থানের প্রধানমন্ত্রী বগুড়ার মোহাম্মদ আলী এ দইয়ের স্বাদ পেয়ে বগুড়া শহরে তাদের নওয়াব প্যালেসের এক কোনায় আম্রকাননে দই বানানোর জায়গা করে দেন পঞ্চাশের দশকের মধ্যভাগে। বগুড়ার দই বনেদী সুখ্যাতি পেয়েছে অনেক আগেই। সারাদেশে বগুড়ার পরিচিতি ধরে রেখেছে এ দই; বিশেষ করে সরার দই। যদিও এখন মাটির নানা ধরনের পাত্রে এ দই বসানো হয় তারপরও সরার দইয়ের কদর আছেই এবং থাকবে। দেশের গুণী কথাশিল্পী সৈয়দ মুজতবা আলীর লেখা থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের রসগোল্লা নিয়ে রোম এয়ারপোর্টে কি লঙ্কাকা-ই না ঘটেছিল। বসগোল্লার স্বাদ পেয়ে ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তার মজার গল্প আজও পাঠকদের নাড়া দেয়। ঢাকার বাজারেও রয়েছে এই বগুড়ার দইয়ের দাপট। দইয়ের রাজধানী শেরপুরের দই এখন খোদ রাজধানী ঢাকাতেও পাওয়া যাচ্ছে। শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী সেই সুস্বাদু দই প্রতিদিন ঢাকায় আনছে সামান্তা ফুড কোড। রাজধানীর বিজয় স্মরনী এলাকায় সামান্তা ফুড কোডের শো-রুম। যারা রাজধানীতে থাকেন তারাও এখন খুব অল্প সময়ে বগুড়ার দইয়ের আসল স্বাদ পেতে পারেন এখান থেকে। অন্যদিকে সুস্বাদু এই খাবার নিয়ে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনাও কম নয়। রাজধানী জুড়ে বিভিন্ন স্থানে রাস্তা, ফুটপাথ, অনলাইন, ওয়েব সাইটসহ বিভিন্ন ভাবে বগুড়ার দইয়ের কথা বলে ভেজাল ও ভিন্ন স্বাদের নকল দই বিক্রি করছে। সামান্তা ফুডকোডের স্বত্তাধিকারী মারজানুল হক বলেন, আমরা বগুড়ার দই বিক্রি করি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। কোন কাস্টমার যদি কোন কারনে দ্বিধাদন্দে থাকে বগুড়ার দইয়ের ব্যাপারে তাহলে আমাদের পরামর্শ আপনি একবার আমাদের দইয়ের স্বাদ নিন তারপর মূল্যায়ন করুন। তিনি আরো বলেন, আমরা যদি আমাদের ঐতিহ্যবাহী খাবার গুলোকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে পারি তাহলে অন্যান্য খাবারের মত একটি শীর্ষস্থাণীয় রপ্তানী পন্য হিসেবে দইকেন্দ্রীক অর্থনীতিও ভাল অবস্থানে যেতে পারবে। দই এর জন্ম: বগুড়ার দইয়ের ইতিহাস বহু আগের। তবে এ দইকে সুখ্যাতি এনে দিয়েছে গৌর গোপাল চন্দ্র ঘোষ। বগুড়ার দইয়ের খ্যাতির কথা উঠলেই গৌর গোপালের নাম আসে। দেশ বিভাগের সময় ১৯৪৭ সালে গৌর গোপাল ভারত থেকে বগুড়া আসেন পরিবার নিয়ে। বগুড়া থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে বর্তমানে শেরপুর উপজেলা সদরে তাঁর আত্মীয়স্বজনের কাছে আশ্রয় নেন। দই বানানোর পদ্ধতি তাঁর জানা ছিল। শুরু করেন দইয়ের ব্যবসা। শেরপুর থেকে দই বানিয়ে হেঁটে ভারে করে আনতেন বগুড়া শহরের বনানী এলাকায়। দইয়ের সঙ্গে তিনি বানাতেন সরভাজা। এ সরভাজা এতটাই জনপ্রিয়তা পেয়ে যায় যে, ওই সময়ের জমিদারদের বাড়িতে সরভাজা সরবরাহের অর্ডার পেতে থাকেন গৌর গোপাল। সাধারণের মধ্যেও এ সরভাজার চাহিদা যায় বেড়ে। এ সরভাজাই গৌর গোপালকে এনে দেয় খ্যাতি। একটা সময় সরভাজাই সরার দই হয়ে খ্যাতির তুঙ্গে ওঠে। যে দইয়ের খ্যাতি বগুড়াকে পরিচিত করে দেশ ছেড়ে বিদেশেও। এরপর তাঁকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। দইয়ের এ সুখ্যাতিতে বগুড়ার মোহাম্মদ আলীর নওয়াব পরিবার গৌর গোপালকে ডেকে তাদের প্যালেসের আম্রকাননে জায়গা করে দেন। ষাটের দশকের শেষ ভাগ পর্যন্ত সেই আম্রকানন গৌর গোপালের উত্তরসূরিদের ঘর ছিল। বগুড়ার এ মাটির দই এক সময় ব্রিটেন, আমেরিকা, ভারত ও পাকিসত্মান যেত বলে জানা যায়। তারই ধারায় বগুড়ার দই জনপ্রিয়তা পেয়েছে ভারতে। পঞ্চাশের দশকের মধ্যভাগে শেরপুরেই গড়ে তোলা হয় দইয়ের কারখানা। বগুড়ার দই বলতে আসলে শেরপুরকেই বোঝায়। তবে দেশীয় বাজারের সাথে সাথে আন্তর্জাতিক বাজার সৃষ্টি করতে পারলে এর মাধ্যমে প্রতিদিন প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হওয়া সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। প্রসিদ্ধ বগুড়ার দই পেতে পারেন বিজয় স্মরনী এলাকায় সামান্তা ফুড কোড, মোবাইল:০১৯৭৩৪৪৯৯৩৩। এছাড়া বিস্তারিত জানা যাবে, http://www.facebook.com/bogramethay, এই ঠিকানায়।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জানুয়ারি, ২০১৪ বিকাল ৪:৪০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×