somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মজার চিকমিক (রস রচনা)

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৮:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

হেইদিন আমার বাসার পোলাপানেরা সকাল বেলা দেহি বাড়ির মধ্যে খুব হইচই শুরু কইরা দিছে। আমার বউরে জিগাইলাম, ব্যাপার কি?
আমার বউ কইল, হেরা ব্যাবাকতে মিল্লা "চিকমিক" খাইবো।
আমি বউয়ের মুখের দিকে হা কইরা চাইয়া রইলাম। "চিকমিক" খাইব এমন কথা তো জীবনে হুনি নাই। আমার চউনি দেইহা বউ কইল, এমুন কইরা চাইয়া রইছ ক্যান?
কইলাম, জীবনে বহু কিছু খাইছি কিন্তু "চিকমিক" তো কুনুদিন খাই নাই। এইডা আবার কেমুন খাওন।
বউ কইল, এইডা আবার কেমুন কথা কইলা, গত বছর যে স্বপ্নপুরী গিয়া খাইলা, হেইডাই তো "চিকমিক"।
আমি কইলাম, গত বছর তো স্বপ্নপুরী গিয়া মুরগীর রান আর পোলাও মাংস খাইছি "চিকমিক" তো খাই নাই।
বউ কিছুডা বিরক্ত হইয়া কইল, আরে বোঝ না ক্যান? ব্যাবকতে মিল্লা চান্দা তুইলা গাছ তলে ভাত রাইন্ধা খায় হেইডাই তো "চিকমিক"।
আমি তহন বুঝতে পারলাম এইডা "পিকনিক"। বউরে কইলাম, আরে ব্যাক্কল এইডা "চিকমিক" না "পিকনিক"।
বউ ঝামটা মাইরা কইল, ওই তো হইলো, ওইডাই "চিকমিক" ।
আমি ছোড একটা ধমক দিয়া কইলাম, আরে ব্যাক্কল আবার কয় "চিকমিক", ওইডা হইল "পিকনিক"।
বউ বিরুক্ত হইয়া কইল, ওইতো হইলো, যা কইছি তো কইছি, আমার মুখ দিয়া আইসে না, যা কইছি ওইডাই "চিকমিক"।
বুঝলাম এ্যারে বুঝায়া লাভ নাই। এই মহিলারে আমি বিয়ার পর থিকাই চিনি, কিছু কথা আছে যা জীবনেও শুদ্ধ কইরা কওয়ার চেষ্টা করে না, আবার চেষ্টা কইরাও শুদ্ধ কইরা কইতে পারে না। কাজেই ওইসব বাদ দিয়া জিগাইলাম, পোলাপানে চান্দা উডাইছে কত?
বউ আঙুলে গুইনা গুইনা হিসাব কইরা কইল, ২৪জন মিল্লা ১৫০/- ট্যাকা কইরা ৩৬শ' ট্যাকা উডাইছে।
জিগাইলাম, পাক করবো কেডা?
বউ কইল, দেইল্লা পাগলা।
আমি মুখটা ব্যাকা কইরা অবজ্ঞা সুরে কইলাম, দেইল্লা পাগলা জীবনে কুনদিন রোষ্ট পোলাও পাক করছেনি?
বউ আশ্চার্য হইয়া কইল, কও কি? দেইল্লা পাগলা মসলা ছাড়াই রোষ্ট পাক করে। একবার খাইলে পাগোল হইয়া যাইবেন। বউয়ের কথা শুইনা অর্ধেক পাগোল এমনিই হইয়া গেলাম। বল্লাম, এ রান্নার তদারক করে কেডা?
বউ কইল, বাড়ির পোলাপান আশা করছে চিকমিক খাইবো, ওগো আশা কি নিরাশা করা যাইবো? আমাগোই তদারকি করা লাগবো।

চাইয়া দেহি পোলাপান সব খুশির চোটে কাজ করতেছে। কেউ হলুদ মরিচ পেশাপেশি করতেছে, কেউ পিয়াজ-রসুন ছিলতেছে, কেউ মশলা পিশতেছে সে এক এলাহী কান্ড। খাওয়ার কি আনন্দ হইবো জানিনা, তবে তাদের কাজের আনন্দ দেইহা মনে হইল এইডাই পিকনিকের আসল আনন্দ। বাবুর্চি দিয়া পাক করলে এরা জীবনেও এই আনন্দ পাইবো না।

আমার বাইরে কাজ থাকায় সারাদিন বাড়িতে ছিলাম না। বিকাল বেলা বাড়ি আইসা দেখি, আমারই ঘরের বারান্দায় সব পোলাপান পাকার উপর বইসা হইহুল্লোর কইরা পোলাও রোস্ট খাইতেছে। দেইল্লা চামুচ দিয়া সমান কইরা প্লেটে প্লেটে উডায়া দিতেছে। আমাকে দেইখা কয়েকজন পোলাপান চিল্লায়া উঠল, এই দেইল্লা, আংকেলরে এক প্লেট দে, আংকেলরে এক প্লেট দে।

আমি না না করতেও একপ্লেট আইনা দিল। খায়া দেহি রোষ্টের চেয়ে রোষ্টের ঝোল অসম্ভব স্বাদ হইছে। কিন্ত রোষ্টের ভিতর তেমন একটা মসলাপাতি নাই। খায়া আসলেই পাগোল হওয়ার অবস্থা। দেইল্লারে জিগাইলাম, দেইল্লারে, তুই এই রোষ্ট কেমনে পাক করলি রে বাজান?

দেইল্লা খুশি হইয়া কইল, আংকেল পিয়াজ লাল কইরা, গরম মসলা আর আদার রস দিয়া নাড়াচাড়া কইরা, টক দই আর ভিনেগার দিছি, তাতেই স্বাদ হইছে। রান্না যেমনেই করুক, রান্না যে স্বাদ হইছে সেই খুশিতে ওরে আর কিছু জিগাইলাম না। তবে পাশের বাড়ির এক ছেলেরে ডাক দিয়া জিগাইলাম, বাজান, দেড় শ' ট্যাকা দিয়া ‘চিকমিক’ কেমুন খাইলা?
পোলায় খুশি হইয়া কইল, আংকেল কি কি খাইলাম এবার হোনেন--

১। একটা আস্ত মুরগীর ডিম সেদ্ধ, তাও আবার ছাল ছাড়ায়া তেল, লবন, হলুদ, মরিচ দিয়া ভাজাভাজা।

২। একখান মুরগীর আস্ত রানের রোষ্ট (এক মুরগী চার ভাগের এক ভাগ), রোষ্টের সাথে দুই চামুচ থকথকা ঝোল ফ্রি।

৩। দশখান গরুর মাংস, সাথে পিয়াজ দেয়া ঘন গাঢ় ঝোল ইচ্ছামতো।

৪। এক গামলা সাদা পোলাও, চাইলে আরও দিছে, দেনেওয়ালা না করে নাই।

৫। লবন দিয়া মাখানো শশা গাজরের সালাদ, সাথে এক ফালি লেবু।

৬। সকাল বেলা মুরগীর গিলা কলিজা ভুনা দিয়া পেট ভইরা খিচুরী।

৭। চাপ কলের এক বালতি ঠান্ডা পানি, যে যত খাইতে পারে।

হিসাব দেয়ার পর কইল, আংকেল যা খাইছি, প্যাটে কুলায় না। এতো খাওয়ার পরেও তের ট্যাকা বেশি হইছে, এক পোয়া লবন বেশি হইছে, দুই কেজি লাকরী বেশি হইছে, জিরা, মশলা, তেলের কথা তো আংকেল ধরিই নাই। ছেলেটার আত্মতৃপ্তি দেইখা নিজেও তৃপ্ত হইলাম।

(ছবি নেট)
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ১:৩১
২৬টি মন্তব্য ২৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাঞ্জাবিস্তান

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৪০

পাকিস্তা/নের পাঞ্জাবিরা হলো পাকি/স্তানের বাকি সব জাতিসত্তার মানুষদের জন্য অভিশাপ। এদের জাত্যভিমানের কারনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগন স্বাধীনতার ডাক দিতে বাধ্য হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের প্রদেশগুলো যেরকম অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?
যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, যে বাংলাদেশ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয়েছে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু... ...বাকিটুকু পড়ুন

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×