somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পখির আন্ডা চুরি

০২ রা নভেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

ছোটকালে যারা গ্রামে বাস করেছেন তাদের প্রত্যেকেরই প্রায় একটা নেশা ছিল সেটা হলো পাখির বাসা থেকে ডিম চুরি করা অথবা পাখির বাচ্চা চুরি করে বাড়িতে এনে খাঁচায় রেখে পালন করা। এটা থেকে আমিও বাদ ছিলাম না। পাখির বাসা থেকে ডিম চুরি করতে গিয়ে মাঝে মাঝে কিছু ছোট খাটো বিপদে পড়তে হতো। তারই দু’টি কাহিনী এখাবে উল্যেখ করছি।

আমি আমার চাচাতো ভাইসহ ফালগুন মাসের শেষের দিকে আমাদের গ্রামের পশ্চিম পাশে বেড়াতে গিয়েছি। সেখানে এক পড়ো ভিটায় অনেক পুরানো শিমুল গাছ আছে। গাছের উপর দিকে তাকিয়ে দেখি বড় একটি পাখির বাসা দেখা যায়। আমি চাচাতো ভাইকে জিজ্ঞেস করতেই বলল, তুই গাছের উপরে উঠে দেখ বাসায় পাখির ডিম আছে কি না, থাকলে পেরে নিয়ে আয়। বাচ্চা ফুটানো মুরগীর ডিমের সাথে পাখির ডিম দিয়ে ফুটাবো। ডিম ফুটলে দুইজনে মিলে পাখির বাচ্চা পালবো।

কথাটি শোনার সাথে সাথে আমার পাখি পালন নেশা চাপল। তাড়াতাড়ি গাছে উঠে দেখি বিশাল বড় ডিম। এত বড় ডিম এর আগে কখনও চোখে দেখিনি। ডিম হাতে নিয়ে গাছ বেয়ে নামা সম্ভব নয়। কাজেই গায়ের গেঞ্জি খুলে গেঞ্জির একপাশে গেরো দিয়ে থলির মত করে নিলাম। গেঞ্জির থলির ভিতর ডিম নিয়ে গেঞ্জির অন্য প্রান্ত দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে নামতে লাগলাম। অর্ধেক নামতেই আমার চাচাতো ভাই কি যেন একটা কথা জিজ্ঞেস করল। আমি সে কথার উত্তর দেয়ার জন্য যেই হা করেছি অমনি মুখ থেকে গেঞ্জি মাটিতে পরে ঠাস করে ডিম ভেঙে গেল।

এটা যে শকুনের ডিম ছিল তখনও বুঝতে পারিনি। যখন বুঝতে পেলাম তখন কযেক শ’ শুকুন এসে পুরো গ্রাম ভরে গেছে। মানুষের বাড়ির দরজায় গিয়ে হামলা করছে। অনেকে শকুনের ভয়ে বাড়ি ঘর ফেলে অন্যত্র গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। গ্রামের মানুষ এ অবস্থা দেখে আমাদের দু’জনকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেছে। আমাদের কারণে গ্রামে শকুনের অত্যাচার শুরু হয়েছে এ কথা বাবার কানে গেলে উত্তম মধ্যম খেতে হবে। অবস্থা বেগতিক দেখে আমরা দু’ভাই বাড়ি থেকে বের হয়ে সোজা পূবের দিকে দৌড় দিলাম। তিন মাইল ফাঁকে ফুফুর বাড়ি ছিল সেখানে গিয়ে উঠলাম। তিন দিন আর বাড়ি ফিরে এলাম না। গ্রামে শকুনের অত্যাচার বন্ধ হলে তখন বাড়ি ফিরে এলাম। তিন দিন পর শকুনের অত্যাচার কমলেও গ্রামের লোকের তিরস্কার কমল না। যেখানে যাই সেখানেই জোয়ান বুড়োদের ধমক খেতে লাগলাম। বুড়োদের ধমকের ভয়ে কিছু দিন বাড়ির বাইরে খুব একটা বের হলাম না।

এর কিছুদিন পরের ঘটনা। রাস্তা দিয়ে যাচ্ছি এমন সময় আমাদের গ্রামের এক বড় ভাই আমাকে গাছের উপরে একটি পাখির বাসা দেখিয়ে বলল, ওটা মনে হয় কোকিলের বাসা, গাছে উঠে দেখ তো রে, কোকিলের বাচ্চা ফুটেছে কি না? শুকুনের অত্যাচারের প্রতিশোধ নেয়ার জন্য যে তিনি আমাকে গাছে উঠতে বলেছেন, সেটা আমি বুঝতে পারিনি। না বুঝেই তার কথা মত গাছের উপরে উঠে গেলাম। সোজা গাছ, ডালপালা কম। গাছ বেয়ে কেবল অর্ধেক উঠেছি। অমনি কোত্থেকে একটা ফিঙে পাখি এসে আমার মাথায় ঠোকর দিয়ে বসল। আমি এক হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরলাম। আবার এসে ঠোকর দিল। হিস হিস করে এক হাত দিয়ে পাখি তাড়াতে লাগলাম। কিন্তু আমার কোনো চেষ্টাই কাজে লাগল না। মাথার উপর ঘন ঘন উড়তে লাগল আর ঠোকরাতে লাগল। ফিঙের অত্যাচার কুলোতে না পেরে তাড়াতাড়ি নামতে লাগলাম। কিন্তু তারপরও রক্ষা পেলাম না। মিনিটে অন্তত দশটা ঠোকর দিতে লাগল। অবশেষে গাছের অর্ধেক উপরে থেকেই লাফ দিতে বাধ্য হলাম। লাফ দিয়ে নিচে পড়ে পায়ে ব্যাথা পেলাম। কিন্তু ফিঙের অত্যাচার কমল না। মাটিতে নামার পরও ঠোকরাতে লাগল। অবশেষে ন্যাংড়াতে ন্যাংড়াতে বাড়ির দিকে দৌড়াতে লাগলাম। ফিঙেও আমার মাথার উপর দিয়ে উড়তে উড়তে ঠোকরাতে লাগল। প্রাণপনে দৌড়ে বাড়ির ভিতর গিয়ে ঘরে ঢোকার পর রক্ষা পেলাম। ততক্ষণে আমার মাথা ঠুকরিয়ে রক্ত বের করে দিয়েছে। ওই ঘটনার পর থেকে পাখির বাসা থেকে ডিম হাতিয়ে নেয়ার নেশা ছুটে গেছে। হাতের নাগলে পাখির বাসা থাকলেও আর কখনই পাখির বাসায় হাত দেই নি।

আগে পাখির বাসা দেখলে খুশি হতাম কিন্তু পাখির ডিম চুরি করলে যে পাখির মনে কষ্ট হতো এটা বোঝার চেষ্টা করতাম না। তার কারণও আছে সেই সময়ে পাখি শিকার করা একটা রেওয়াজ ছিল। গ্রামের লোকেরা ফাঁদ দিয়ে পাখি শিকার করতো, শীত কালে অনেক ধনী লোককে বন্দুক নিয়ে পাখি শিকার করতে দেখতাম। রাতে দাদী নানীদের কাছে শুয়ে শুয়ে রুপকথার গল্প শুনতাম সেখানেও রাজা বাদশাদের পাখি শিকারের কাহিনী ছিল। বাস্তবে পাখি শিকারী দেখে আর রুপ কথার গল্প শুনে পাখি শিকার করার নেশা জাগতো। বর্তমানে দেশে পাখির পরিমাণ কমে যাওয়ায় পাখি শিকার করার পরিবর্তে পাখি সংরক্ষণের চেষ্টা করি।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:৪৬
১৯টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×