
শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
বলতো দেখি এই শহরে,
কাক বেশি না কবি বেশি?
এই নিয়ে যে দুই বন্ধুতে
চলছে মহা রেশারেশি।
একজন বলছে বিজ্ঞ সেজে,
‘এই শহর যে কাকের শহর,
ভোর বেলাতে রা¯তায় গেলে
বিদ্যুৎ পোলে দেখবি বহর’।
ডাস্টবিনের ঐ ময়লাগুলো
ছড়ায়-ছিটায় ঠোকর দিয়ে,
ছাদের পরে রাখলে খাবার
উড়াল কাকে যাচ্ছে নিয়ে।
ফুটপাত দিয়ে চলার সময়
উপর থেকে বিষ্ঠা ছাড়ে,
গরম লাগলে তাকিয়ে দেখি
পড়ছে মাথায়, নয়তো ঘাড়ে।
শহর মাঝে গাছে গাছে
সব সময় যে থাকছে কাক
একটি কাকের বিপদ হলে
হাজার কাকে দিচ্ছে ডাক।
ঘুরলে ফিরলে রা¯তা-ঘাটে
সদাই পাবে কাকের দেখা
কবিদের তো হিসাব থাকে
কাকের হিসাব যায় কি লেখা?
মুচকি হেসে বলছে বন্ধু,
‘কাকের হিসাব নয়রে ঠিক,
কাকের চেয়ে কবি বেশি
ছড়িয়ে আছে চতুর্দিক’।
বর্তমানে কবিতা লিখতে
হয় না কোন ছন্দ পতন,
সবাই লিখছে গদ্য করে
কবির মনের ইচ্ছে মতন।
কার কবিতায় কি লিখেছে?
যায় না কিছু অর্থ বোঝা।
বললে পরে বলছে হেসে,
‘গদ্য কবিতা নয়তো সোজা’।
কবিতা এখন অর্থে নয়রে
কবিতা এখন হবির হবি,
পেঁচিয়ে কথা লিখলে পরে
সেই তো বড় কবির কবি।
শিশু বাচ্চা মায়ের কোলে
‘গিবিজি গিবিজি’ কি সব বলে
শিশুদের ঐ প্যাঁচের কথায়
মা জননীর হৃদয় টলে।
বিচার সালিস চললে পরে
প্যাঁচের কথায় হয়রে বিচার
মিথ্যা কথার যুক্তি-তর্কে
সঠিক বিচার হয় কি রে আর?
রাজনীতিকরাও কয় যে কথা
পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে মাইক দিয়ে
প্যাঁচের কথায় প্রেম করাতে
অনিচ্ছাতেও হচ্ছে বিয়ে।
চোর-পুলিশ আর জজ-উকিলে
সহজ কথাও পেঁচিয়ে বলে
তাইতো বলি এই শহরে
সবাই এখন কবির দলে।
(ছবি ইন্টারনেট)
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জানুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ২:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




