somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পবিত্র কুরবানী, শারদীয় দুর্গোত্সব এবং আমার ব্যক্তিগত মতামত

১২ ই অক্টোবর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইসলাম ধর্ম নিয়ে আমার জ্ঞান সীমিত, সনাতন ধর্ম নিয়ে জ্ঞান মোটামুটি শূন্যের কোঠায়। তাও যেহেতু প্রতিদিন নিজেরটা সহ অন্য ধর্মের গ্রন্থগুলো ঘেটে দেখা হয়, সামনের কুরবানী নিয়ে কিছু কথা জানাতে ইচ্ছা করছে (আবার গালি খাবো, আবার আমার মা এবং বউ অভিমান করবে কেনো এসব লিখে নিজের বিপদ আরো বড়াচ্ছি বলে), সমস্যা হলো আমার কাছে কিছু ভালো না লাগলে আমি বলেই ফেলি।

পবিত্র কুরআন এ আল্লাহপাক কুরবানী নিয়ে ইরশাদ করেছেন একাধিকবার। এর মধ্যে কয়েকটি আয়াত তুলে ধরলাম-

এ সব (কোরবানির) পশুর মধ্যে এক নির্দিষ্টকালের জন্য তোমাদের জন্য নানা উপকার আছে; তারপর ওদের (কোরবানির) জায়গা প্রাচীন ঘরের [কা’বার] কাছে । আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য (কোরবানির) নিয়ম করে দিয়েছি যাতে আমি তাদের জীবনের উপকরণ হিসাবে যেসব চতুষ্পদ পশু দিয়েছি সেগুলি জবাই করার সময় আল্লাহর নাম নেয় । তোমাদের উপাস্য তো একমাত্র আল্লাহ্ । সুতরাং তাঁরই কাছে আত্মসমর্পণ কর ও সুসংবাদ দাও বিনীতদের, যাদের হৃদয় আল্লাহর নাম করা হলে ভয়ে কাঁপে, যারা তাদের বিপদ-আপদে ধৈর্য ধরে ও নামাজ কায়েম করে আর আমি তাদের যে জীবনের উপকরণ দিয়েছি তার থেকে ব্যয় করে । আর উটকে তোমাদের জন্য আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন করেছি । তোমাদের জন্য ওতে মঙ্গল রয়েছে । সুতরাং সারি বেঁধে দাঁড় করিয়ে ওদেরকে জবাই করার সময় তোমরা আল্লাহর নাম নাও । যখন ওরা কাত হয়ে পড়ে যায় তখন তোমরা তা থেকে খাও, আর খাওয়াও তাকে যে চায় না; আর যে চায় তাকেও । এভাবে আমি ওদেরকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছি যাতে তোমরা কৃতজ্ঞাতা প্রকাশ কর । আল্লাহর কাছে ওদের মাংস বা রক্ত পৌছায় না, বরং তোমাদের ধর্মনিষ্ঠা পৌছায় । এভাবে তিনি এদেরকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন যাতে তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর এজন্য যে, তিনি তোমাদের পথপ্রদর্শন করেছেন । সুতরাং তুমি সৎকর্মপরায়ণদের সুসংবাদ দাও ।--২২ সুরা হজঃ ৩৩-৩৭

আল্লাহর পবিত্র কাবাগৃহ, পবিত্র মাস, কোরবানির জন্য কা’বায় পাঠানো পশু ও গলায় মার্কামারা মালাপরানো পশু মানুষের কল্যাণের জন্য নির্ধারিত করেছেন । এ এজন্য যে তোমরা যেন জানতে পার যা-কিছু আকাশে ও পৃথিবীতে আছে তা আল্লাহ্ জানেন, আর আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ --৫ সুরা মায়িদাঃ ৯৭

ধর্ম বৈচিত্র ও পরধর্মসহিষ্ণুতা নিয়ে কয়েকটি আয়াত তুলে ধরছি-

আর তারা আল্লাহকে ছেড়ে যাদের ডাকে তাদেরকে তোমরা গাল দেবে না, কেননা, তারা (সীমালঙ্ঘন করে) অজ্ঞানতাবশত আল্লাহকেও গাল দেবে। এভাবে প্রত্যেক জাতির চোখে তাদের কার্যকলাপ শোভন করেছি। তারপর তাদের প্রতিপালকের কাছে তারা ফিরে যাবে। তারপর তিনি তাদেরকে তাদের কৃতকার্য সম্বন্ধে তাদের জানিয়ে দিবেন। - ৬ সুরা আনআম : ১০৮।

তোমার প্রতিপালক ইচ্ছা করলে পৃথিবীতে যারা আছে সকলেই বিশ্বাস করতো। তাহলে কী তুমি বিশ্বাসী হওয়ার জন্য মানুষের উপর জবরদস্তি করবে?-১০ সুরা ইউনুস : ৯৯।

উপরের আয়াতগুলো এবং এ সংক্রান্ত হাদীস পড়ে আমার মনে হয়েছে কুরবানির উদেশ্য শুধু নিজে খাওয়া না বরং একই সাথে দুস্থ্য দরিদ্রদের (ধর্ম বর্ণ নির্বেশেষে, যাদের মধ্যে সনাতন ধর্মেরও থাকতে পারে) জন্য কিছু অংশ দান করা। গরুই কোরবানি দিতে হবে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নাই।পরধর্মসহিষ্ণুতার কথা মাথায় রেখে বলছি এবারের কুরবানীতে আমি গরু কুরবানী দিবো না এবং কুরবানির দিনটিতে গরুর মাংস খাবো না, যেহেতু একই সময় পবিত্র শারদীয় দুর্গোত্সব চলছে। যেহেতু গরু আমাদের ধর্মে নিষিদ্ধ নয় অন্য সময়ের কথা প্রতিশ্রুতি দিতে পারছিনা। আর একাধিক ছাগল কোরবানি দিবো ইনশাল্লাহ এবং ধর্ম বর্ণ নির্বেশেষে কিছু অংশ দান করবো।

আমার প্রার্থনা:

"আমি আমার প্রতিপালকের মুখাপেক্ষী হলাম এবং ঘোষণা করলাম- হে আমার প্রভু আমার থেকে শ্রেষ্ঠতর শিক্ষকের মাধ্যমে তোমার আয়াত আমার স্বল্প জ্ঞানে যাই উপলব্ধি দিচ্ছে আমি তাই করছি এবং আমার দেশে বসবাসরত অন্য ধর্মের উত্সবের প্রতি সম্মান জানাতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। হে আমার প্রতিপালক যারা গরুকে তাদের ধর্মের গুরুত্যপূর্ণ যায়গা দিয়েছেন, তাদের পবিত্র উত্সবের সময় তাদের হৃদয়কে রক্তাক্ত করার থেকে নিজেকে বিরত রাখছি। আমায় ক্ষমা করো যদি আমার উপলব্ধিতে ভুল থাকে, আমি তোমার পানে নতজানু এবং আমি তোমার কৃপা প্রার্থী। আমার এই লেখায় যদি কেউ বিপথগামী হয় তবে সেই দ্বায়িত্যও আমার। হে আমার প্রেম নিশ্চই তুমি আমার অন্তর জানো এবং জানো আমি সরল এবং সোজা পথের সন্ধান এ আছি।"

আমার সনাতন ধর্মের বন্ধুদের বলছি আমার তরফ থেকে আপনাদের ঈদ মুবারক।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: আমি ছাগলের বা কোনও অন্য পশুর ব্যবসার সাথে প্রতক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত নাই। গরুর ব্যবসায়ীদের প্রতি আমার কোনও ক্ষোভ নাই।
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×