somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

“সূয্যি মামা জাগার আগে উঠবো আমি জেগে” (দিনলিপি, ছবিব্লগ)

০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


রোদের মাঝে একাকী দাঁড়িয়ে....
ঢাকা
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বেলা ১২৩৩

"সূয্যি মামা জাগার আগে উঠবো আমি জেগে" -- নিজ শিশুর মুখে একথা শুনে মানব শিশুর মায়েরা সাধারণতঃ কপট রাগত স্বরে এমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে থাকেনঃ "হয়নি সকাল, ঘুমোও এখন- মা বলবেন রেগে"!
কিন্তু পাখিরা? না, বোধকরি পক্ষীশিশুর মায়েরা একথা কখনো বলে না। কারণ, তারা নিজেরাই সূয্যি মামা জাগার অনেক আগেই নীড় ছেড়ে খাদ্যের সন্ধানে বের হয়ে আসে। তার প্রমাণ নিচের এই প্রথম ছবিটা।
তখন সময় ভোর ০৬-০৩। সূর্য উঠতে তখনও ২৬ মিনিট বাকি। দূরের বিলবোর্ডে তখনও নিয়ন বাতি জ্বলছে। এরই মধ্যে এক জোড়া পাখি নিকটস্থ গাছ-গাছালির নীড় ছেড়ে সামনের ছয় তালা দালানের কার্নিশে এসে বসলো। ছবি তোলার জন্য সেলফোনটা হাতে নিতে নিতে একটা ফুরুৎ করে উড়ে চলে গেল।
সোশ্যাল মিডিয়াতে এই ছবিসহ প্রকাশিত আমার একটি পোস্ট পড়ে একজন অনুজ নাবিক বন্ধু নিম্নলিখিত মন্তব্যটি করেছেনঃ
“প্রতিদিন সূর্যোদয়ের আগে তিন ধরনের আভা (twilight) সৃষ্টি হয়। সূর্য যখন হরাইজন থেকে ১৮° নিচে থাকে তখন এটাকে বলে astronomical dawn, যখন এটা ১২° তে আসে, তখন হয় nautical twilight, সবশেষে Morning twilight হয় যখন সূর্য দিগন্তের ৬°নিচে থাকে। রমজানের সেহেরির শেষ সময় নির্ধারণ করা হয় astronomical dawn এর সময়, যখন খালি চোখে আমরা চারদিকে অন্ধকার দেখি। কিন্তু, পাখিরা astronomical dawn সবার আগে টের পায় বলেই ওদের ঘুম সবার আগে ভাঙে। এইজন্যই প্রতিদিন সূর্যোদয়ের সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে astronomical dawn এর সাথেই ওদের ঘুম ভেঙে যায়। প্রতিদিন আপনি খুব লক্ষ্য করলে এটা পরিষ্কার বুঝতে পারবেন। এদের এই টাইমিং এক সেকেন্ডও এদিক ওদিক হয় না। এটা আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা।
সাগরে চলমান অবস্থায় এইসবের ক্যালকুলেশন করে সূর্যোদয়ের সময় sun bearing এর সাথে জাহাজের জাইরো কম্পাস চেক করতে হতো মর্নিং ওয়াচে ডিউটি করার সময়। তবে, পাখির ডানা ঝাপটানোর বাস্তব অভিজ্ঞতা হয়েছে সিডনিতে আসার পর। আমি সিডনি এয়ার পোর্টে প্রায় সাড়ে ছয় বছর সকাল বিকাল শিফটে চাকরি করেছি। ভোর পাঁচটার মর্নিং শিফটের জন্য আমাকে সাড়ে তিনটায় বিছানা ছেড়ে টয়লেটে যেতাম। ঠিক astronomical dawn এর সাথে সাথেই বাথরুমের খোলা জানালা দিয়ে বাইরে অন্ধকারেই একঝাঁক চড়ুই জাতীয় পাখির ডানা ঝাপটানোর আওয়াজ শুনতাম। মজার ব্যাপার হচ্ছে, পরদিন যদি ২/৩ মিনিট আগে বা পরে সূর্যোদয় হয়, তখন এদের ডানা ঝাপটানোর আওয়াজও ঘড়ি ধরে ২ /৩ মিনিট আগে পরে শোনা যেত”।
morning twilight এর তিনটে স্তরের এত চমৎকার ব্যাখ্যা পড়ে আমার যেমন জ্ঞানবৃদ্ধি ঘটেছে, তেমনি হয়তো ঘটেছে/ঘটবে অনেক পাঠকেরও।

হাস্যময়ী, লাস্যময়ী ফুলঃ
বাংলাদেশের শীত-বসন্ত ঋতু দুটো পুষ্পবিলাসের ঋতু। এ সময়ে নানা রঙের ফুলের সমাহার বাড়ির অলিন্দ, চিলেকোঠা, ছাদ, বাসার সামনের ও পেছনের ক্ষুদ্র বাগান, মহাসড়কের মধ্যবর্তী সড়ক-দ্বীপ, পার্কের হাঁটাপথে চলার আশেপাশের জায়গা, কবরস্থানের আইল ও অব্যবহৃত স্থান, হাসপাতাল প্রাঙ্গণ এমন কি পথপার্শ্বের পরিত্যক্ত জায়গা, ইত্যাদিকে সুশোভিত করে। বিশেষ করে ডালিয়া, গাঁদা, সূর্যমুখি ইত্যাদি ফুল তাদের চারিপাশ রঙিন করে রাখে। দৈনন্দিন চলার পথে দেখা এমনই কিছু ফুলের ও অন্যান্য দৃশ্যের কয়েকটা ছবি দিলাম।

মাছির দিবানিদ্রাঃ
মাছিরা আবার নিদ্রা যায় নাকি? পথ চলতে চলতে এমনই একটা দৃশ্য দেখলামঃ গাছগাছালির মাঝ দিয়ে টেনে যাওয়া একটি তারের নিচে অনেক ঝুলন্ত মাছি ঘুমিয়ে আছে। কিন্তু তারের নিচে উল্টো ঝুলে পা উপরে এবং পিঠ নিচের দিকে রেখে ঘুমাচ্ছে কেন? কে জানে, এর মধ্যে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কোন রহস্য আছে কিনা! নিউটন আজ বেঁচে থাকলে হয়তো তা আমাদের জানাতে পারতেন। যারা ল্যাপটপে এ লেখাটা পড়ছেন, তারা ছবিটা যুম করে মাছিগুলোকে দেখতে পারবেন কিনা জানিনা, তবে যারা সেলফোনে দেখছেন, তারা আশাকরি অবশ্যই পারবেন।

বিড়ালের দিবানিদ্রাঃ
বিড়াল একটি শান্তিপ্রিয়, সুখকামী, ঘুমকাতুরে নিরীহ প্রাণী। পথে যেতে যেতে দেখি, একটা বিড়াল শত শোরগোলের মধ্যেও পরম সুখে দিবানিদ্রা যাচ্ছে। ভেবেছিলাম, ছবি তোলার জন্য আমি তার কাছে গেলে হয়তো তার ঘুম ভেঙে যাবে। কিন্তু নাহ, তা ভাঙলো না, সে ঘুমিয়েই থাকলো।

চারিদিকে আমের বোল, ফুলঝুরি নয় যেন বোলঝুরি!
এবারে চারিদিকে যেখানেই আম গাছ চোখে পড়ছে, সেখানেই দেখছি শাখে শাখে ফুলঝুরি নয় যেন বোলঝুরি! বাসার সামনের সড়কের উল্টো পার্শ্বে আমার প্রতিবেশির লাগানো আম গাছেও দেখছি অসংখ্য বোল এসেছে। তবে একজন পথিক জানালো, যে বছরে বোল বেশি আসে, সে বছরে আম বেশি হয় না। কে জানে!


ঢাকা
০৪ মার্চ ২০২৬
শব্দ সংখ্যাঃ ৬২৪

(সময় সুযোগ মত ধীরে ধীরে আরও কিছু ছবি সংযোজন করার আশা রাখি। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত “খোকার সাধ” কবিতাটি এখানে সংযোজন করার লোভ সংবরণ করতে পারলাম না। কবিতাটি আমরা সবাই ছোটবেলায় পড়েছি। কবিতাটি পড়ে আপনাদের কার কী মনে হয়েছিল, সে কথাটি মন্তব্যে উল্লেখ করে যেতে পারেন)

খোকার সাধ
কাজী নজরুল ইসলাম

আমি হবো সকাল বেলার পাখি
সবার আগে কুসম-বাগে উঠবো আমি ডাকি।
সূয্যি মামা জাগার আগে উঠবো আমি জেগে,
‘হয়নি সকাল, ঘুমো এখন’–মা বলবেন রেগে।
বলবো আমি, ‘আলসে মেয়ে ঘুমিয়ে তুমি থাকো,
হয়নি সকাল–তাই বলে কি সকাল হবে নাকো!
আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে?
তোমার ছেলে উঠলে গো মা রাত পোহাবে তবে!’


ঊষা দিদির ওঠার আগে উঠবো পাহাড়-চূড়ে,
দেখবো নিচে ঘুমায় শহর শীতের কাঁথা মুড়ে,
ঘুমায় সাগর বালুচরে নদীর মোহনায়,
বলবো আমি, ‘ভোর হলো যে, সাগর ছুটে আয়!’
ঝর্ণা-মাসি বলবে হাসি, ‘খোকন এলি নাকি?’
বলবো আমি, ‘নইকো খোকন, ঘুম-জাগানো পাখি!’
ফুলের বনে ফুল ফোটাবো, অন্ধকারে আলো,
সূয্যিমামা বলবে উঠে, ‘খোকন, ছিলে ভালো?’


বলবো, ‘মামা, কথা কওয়ার নাইকো সময় আর,
তোমার আলোর রথ চালিয়ে ভাঙো ঘুমের দ্বার।’
রবির আগে চলবো আমি ঘুম-ভাঙা গান গেয়ে,
জাগবে সাগর, পাহাড় নদী, ঘুমের ছেলে-মেয়ে!


এক জোড়া পাখি নিকটস্থ গাছ-গাছালির নীড় ছেড়ে সামনের ছয় তালা দালানের কার্নিশে এসে বসলো। ছবি তোলার জন্য সেলফোনটা হাতে নিতে নিতে একটা ফুরুৎ করে উড়ে চলে গেল।
ঢাকা
০২ মার্চ ২০২৬, ভোর ০৬-০৩


দূরের বিলবোর্ডে তখনও নিয়ন বাতি জ্বলছে।
ঢাকা
০২ মার্চ ২০২৬, ভোর ০৬-০৩

গাছগাছালির মাঝ দিয়ে টেনে যাওয়া একটি তারের নিচে অনেক ঝুলন্ত মাছি ঘুমিয়ে আছে। কিন্তু তারের নিচে উল্টো ঝুলে পা উপরে এবং পিঠ নিচের দিকে রেখে ঘুমাচ্ছে কেন?
ঢাকা
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বেলা ১৪-০৪

কুউউ-কুউউ করে ডেকে চলা একেলা পাখি কোকিলটাকে কি আপনারা দেখতে পাচ্ছেন?
ঢাকা
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সকাল ০৭-০৫


পথে যেতে যেতে দেখি, একটা বিড়াল শত শোরগোলের মধ্যেও পরম সুখে দিবানিদ্রা যাচ্ছে।
ঢাকা
০৪ মার্চ ২০২৬, বেলা ১৩ঃ৪৭




ঢাকা
০৪ মার্চ ২০২৬, বেলা ১৩ঃ৪৪
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:০০
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইরান যুদ্ধ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৩ রা মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:০৬



ইরানের মাটি পানি ও আবহাওয়া কৃষি উৎপাদনের জন্য খুবই অনুকূল পরিবেশ। বাংলাদেশের তুলনায় ইরানের সমতল ভূমি কম তারপরও ইরানে গম উচ্চ ফলন হয়। ভোজ্য তৈল জাত শষ্য উচ্চ ফলন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধোলাই-৭১

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ০৩ রা মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:২২



মধ্যপ্রাচ্যে আছি। দেশে ফেরার টিকেট কাটা ছিল ২ তারিখে। এর মধ্যেই শুরু হয়ে গেলো যুদ্ধের দামামা।আমি আরবি বুঝিনা। এয়ারপোর্টে কাউকে ইংরেজিতে কিছু জিজ্ঞেস করলে বলে ''খালাস খালাস'' মাফি মাফি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জিহাদের ডাক দিলে কাজ হবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:১৩


সম্প্রতি শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ কামাল আল-হাইদারির পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে 'জিহাদের' ডাক দেওয়া হয়েছে। ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ধর্মীয় কর্তৃত্ব রক্ষার দোহাই দিয়ে এই আহ্বান জানানো হলেও,... ...বাকিটুকু পড়ুন

হা হা রিয়্যাক্ট না করে কেউ যাবেন না

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:২৪



এই লোকটা বছরের পর বছর ধরে প্রকাশ্যে আমেরিকা ও ইসরাইলের ধ্বংস চেয়ে আসছে, তাদের যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই হত্যা করার মত ভয়ঙ্কর হুমকি দিয়ে আসছে; অথচ যুদ্ধ শুরুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

“সূয্যি মামা জাগার আগে উঠবো আমি জেগে” (দিনলিপি, ছবিব্লগ)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৫


রোদের মাঝে একাকী দাঁড়িয়ে....
ঢাকা
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বেলা ১২৩৩

"সূয্যি মামা জাগার আগে উঠবো আমি জেগে" -- নিজ শিশুর মুখে একথা শুনে মানব শিশুর মায়েরা সাধারণতঃ কপট রাগত স্বরে এমন প্রতিক্রিয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×