somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন পরজীবী মানুষ ও তাকে ঘিরে থাকা স্বপ্ন বৃক্ষরা

০২ রা নভেম্বর, ২০১৩ দুপুর ১২:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি ছোট বেলা থেকেই একজন পরজীবী মানুষ, আমার অনুপ্রেরণার জন্য প্রায়ই বিভিন্ন উপকরণ প্রয়োজন হয়। যেমন ভালো কফি, ভালো সিগারেট, ভালো বই ইত্যাদি। ইদানিং মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য জীবন্ত অনুপ্রেরণার প্রয়োজন হচ্ছে, কেউ ভালো একটা কাজ করলে তাকে আমি চিনি বা না চিনি আমি অনুপ্রাণিত হয়ে যাই। মানুষটিকে এবং তাঁর কাজটিকে নিজের অজান্তেই ভালোবেসে ফেলি।

মিডিয়ার এই রমরমা যুগে অনেক নায়ক নায়িকা আমরা পেয়েছি, যাদের দেখে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম বেড়ে উঠছে। ব্যাপারটা কেমন হচ্ছে জানি না, কিন্তু মিনি সাইজের ঐশ্বারিয়া, শারুখ খান দেখতে দেখতে বুকের মধ্যে কেমন জানি আতঙ্ক হয়। আমি ছোট বেলায় গল্প শুনতাম চন্দ্র শেখর আজাদ, ক্ষুদিরাম, মাস্টারদা সূর্যসেন, বঙ্গবন্ধু, ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর এনাদের, আদর্শের সিংহ ভাগ জুড়ে এনারাই আছেন। হয়তোবা ব্যাক ডেটেড চিন্তা ভাবনা, কিন্তু আমি মানুষটা বরাবরি একটু সেকেলে। আমার বন্ধুরা প্রায়ই মজা করে বলে আমি ১৮০০ শতাব্দীর মানুষ। কিন্তু যে কথাটা আমি প্রায়ই একা বসে ভাবি, আমার পরবর্তী প্রজন্মকে কার উদাহারন টেনে অনুপ্রাণিত করবো? এরা যেমন ইঞ্জিরি বলে ফট ফট করে এদের সামনে ১০০ বছরের পুরানো উদাহরণ টানলে দু একটা বিলেতি গালি খেতে হতে পারে। এই ভাবনা চিন্তার ডামাডোলে হঠাৎ বুঝতে পারলাম এমন মানুষ আমার চারপাশেই আছে কিন্তু এরা বড় প্রচারবিমুখ, নামীদামী মানুষেরা এঁদের নিয়ে মাথা ঘামান না, লেখার সময় পান না। আমার যেহেতু অফুরন্ত সময় তাই ভাবলাম এঁদের নিয়ে লিখে ফেললে আমার লাভ, কারণ এঁরা যখন বিখ্যাত হয়ে যাবে তখন হয়তো এঁদেরকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ নাও মিলতে পারে। আর আমার মত পরজীবী মানুষ যারা আছেন তাদেরও লাভ।

প্রথমেই যে দুজন মানুষের কথা বলবো তাঁরা হলেন অনন্যা এবং অ্যানি। এই দুজনকে চিনি বেশীদিন হয়নি, কিন্তু দুজনের স্পষ্টবাদিতা প্রথম দিনেই আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলো। এই দুজনেরই ভালো ভালো ক্যারিয়ার অপশন থাকা সত্ত্যেও ঢাকার বাইরে গিয়ে সেবার মনোবৃত্তি নিয়ে কাজ করছে, আজকে যখন সবাই রাজধানী মুখী তখন তখন এই ব্যাতিক্রম আমাকে মুগ্ধ করেছে। একদিনের কথা বলি এঁদের একজনকে এসএমএস করলাম অনেকদিন খোঁজ খবর নেয়া হয়নি তাই, এসএমএস পাঠিয়ে উত্তর আসলো না দেখে একটু লজ্জিত হলাম কারণ কাজের চাপে একটু রাতই হয়ে গিয়েছিলো। আমার লজ্জিত মন অবাক হতে সময় নিলো না কারণ উত্তর আসলো "ভাইয়া ভালো আছি পরে কথা বলবো একজন ইমারজেন্সি রুগী দেখছি"। আমি পরেরদিন কথা বলে বুঝলাম মফঃস্বল শহরে এই বাচ্চা মেয়েটা রাত ১টা ২টা পর্যন্ত রুগী দেখে। অন্য দিকে আরেকটি মেয়ে দিনরাত এক করে ছুটে বেরায় মানসিক ভাবে যাদের সাহায্য প্রয়োজন তাদের কাউন্সিলিং করে। সাভারে রানা প্লাজা থেকে শুরু করে মোবাইল এ বিভিন্ন অজানা অচেনা মানুষকে পরামর্শ দেয়।

এখন বলবো আরও তিন জনের কথা মাসুদ, মুনা এবং ফয়সাল। তিনজনই তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে এই তিনজন গড়ে তুলছে বাংলা টেক্সট টু স্পীচ সফটওয়্যার। দৃষ্টি প্রতিবন্ধি মানুষকে নিয়ে কাজ করার সংখ্যা আমাদের দেশে খুব কম, প্রযুক্তিবিদ তো আরও কম। দৃষ্টি প্রতিবন্ধি মানুষরা যাতে বিনামূল্যে বাংলা ভাষার বই শুনতে পারে তাই এঁরা তিনজন ভালো ভালো আরামের চাকরি ছেড়ে দিনরাত খেটে তৈরি করছে ওপেন সোর্স বাংলা টেক্সট টু স্পীচ সফটওয়্যার। রাত নেই দিন নেই নিরলস ভাবে কাজ করে চলেছে।

আমি মুগ্ধ বিস্ময়ে, শ্রদ্ধা নিয়ে এঁদের দেখি অনুপ্রাণিত হই, পরজীবী মানুষের মত এঁদের স্বপ্ন কে নিজের ভেতর ধারণ করি, নিজের কাজের শক্তি খুঁজে পাই। আমার দুশ্চিন্তাও কেটে গেছে, আমার পরবর্তী প্রজন্ম কে বলবো এই তোরা দ্যাখ তোদের আন্টি, আঙ্কলদের। তোদের এঁদেরকে ছাড়িয়ে যেতে হবে।

আমার স্বপ্ন বৃক্ষরা তোমাদের প্রতি আমার ভালোবাসা থাকলো, থাকবে আজীবন। এই দেশ যখন বার বার হতাশা উপহার পাচ্ছে, তোমরাই তখন নতুন উদাহারন তৈরি করছো, সাহায্য করছো আমার মত পরজীবী মানুষকে নতুন আশা নিয়ে স্বপ্ন দেখতে। বড় দুঃখী, অভিমানী আমার এই মমতাময়ী 'মা', অবহেলা ছাড়া আর কিছুই পাননি উনি সন্তানদের কাছ থেকে। কিন্তু আমি নিশ্চিত জানি তোমাদের এই প্রচেষ্টা তাঁর বুকে শান্তির মৃদু হাওয়া বইয়ে দিচ্ছে।

সজিব স্যার, সামিরা জুবেরি হিমিকা আপনাদের ধন্যবাদ এই মানুষগুলোর সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য। আপনারা অনেক বড় মাপের মানুষ আপনাদের নিয়ে লেখার যোগ্যতা এখনও হয়নি এখনো, কিন্তু লিখে ফেলবো একদিন ধুম করে হে হে হে অনুমুতি না নিয়ে।
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“সূয্যি মামা জাগার আগে উঠবো আমি জেগে” (দিনলিপি, ছবিব্লগ)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৫


রোদের মাঝে একাকী দাঁড়িয়ে....
ঢাকা
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বেলা ১২৩৩

"সূয্যি মামা জাগার আগে উঠবো আমি জেগে" -- নিজ শিশুর মুখে একথা শুনে মানব শিশুর মায়েরা সাধারণতঃ কপট রাগত স্বরে এমন প্রতিক্রিয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাশিয়াকে ড্রোন দিয়ে ইরান নিজে কি পেল ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৫


ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে একটা প্রশ্ন ঘুরেফিরে এসেছে — রাশিয়াকে ড্রোন দিয়ে ইরান আসলে কী পেল? ইরানের Shahed-136 ড্রোন ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করেছে, সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি... ...বাকিটুকু পড়ুন

"মেলা সুন্দর হতো আমাদের শৈশবে, যখন বই ছিল স্বপ্নের প্রতিশব্দ" ~ বইমেলা ২০২৬ উপলক্ষ্যে বাংলা ট্রিবিউনকে দেয়া আমার সাক্ষাৎকার

লিখেছেন সাজিদ উল হক আবির, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৮



প্রশ্ন: মেলায় আপনার নতুন কী বই প্রকাশিত হচ্ছে?

সাজিদ উল হক আবিরঃ গত বছরখানেক ধরে দুটো বইয়ের কাজ করছিলাম। একটা আমার দ্বিতীয় উপন্যাস, সরীসৃপতন্ত্র; দ্বিতীয়টি, মিলান কুণ্ডেরার উপন্যাস দা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জল্লাদ খামেনি বাঙ্গুদের কাছে হিরো

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১২



বাঙ্গুদের কাছে খামেনি হিরো কারণ সে ইউএসের বিরুদ্ধে দাড়িয়েছিল। কিন্তু বাঙ্গুরা কখনোই জানবেনা এই খামেনির ইরান ২০০৬ সালে তাদের এয়ারস্পেস আমেরিকার জন্য খুলে দেয় যাতে সাদ্দামের বাহিনীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুদ্ধ বিরোধী কবিতা: তোমরা বিড়াল হত্যার উৎসবে মেতেছো

লিখেছেন অর্ক, ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৪২



আর আমি ভীষণ দুঃখ পেলাম দেখে
দল বেধে বিড়াল হত্যার উৎসবে মেতেছো
কুয়াশাচ্ছন্ন বরফসাদা হিম রাত শীতের
তোমরা বিরাটকার কালো আলখাল্লা পরা
উলের ভারি দস্তানা ও মুজো হাতে পা’য়ে;
পাশবিক উল্লাসে শীর্ণকায় শিশু বিড়ালটিকে
কামড়ে আঁচড়েহাঁচড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×