somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কেনো আমি এখনও শাহবাগ যাই?

১০ ই নভেম্বর, ২০১৩ রাত ১১:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খুব কম স্মৃতি আছে তোমাকে ঘিরে, সেই স্মৃতিগুলোও ফিকে হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে, তোমার চেহারাটা ঝাপসা হয়ে আসছে। কিন্তু কিছু কিছু ঘটনা আজও তরতাজা। মনে পড়ে তোমার এক মুক্তিযোদ্ধা বন্ধুকে জামায়েত এ ইসলামী এর কর্মীরা যখন নৃশংস ভাবে হত্যা করলো তুমি একমাস স্তব্ধ হয়ে ছিলে। এই একমাস তোমাকে যখনি দেখতাম গম্ভীর মুখে পায়চারি করছো আর সিগারেট খাচ্ছ। একদিন স্কুল থেকে এসে শুনি তুমি নাকি আম্মুকে নিয়ে বেড়াতে গেছো, নানা নানু আমাকে তাই বুঝালো, জানো সারাটা রাত অভিমানে ঘুমাইনি। ২০ দিন পর আমরা তোমাকে দেখতে গেলাম হস্পিটাল এ!!! শুনলাম তোমার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে আমাকে কেউ বলেনি কারণ আমি নাকি ছোট, অবুঝ, চির চেনা সেই দুষ্ট হাসি দিয়ে আমাকে বল্লা রাগ করেছ? আমার চোখ ভরা জল, বুক দিয়ে ঠেলে কি যেন উঠে আসছিলো, ৫ বছরের জীবনে সর্বপ্রথম তীব্র অভিমান আর কষ্টের সাথে পরিচয় হলো। তোমার বুকের উপর ঝাপিয়ে পড়লাম, কি উদ্ভূত আমার অভিমান এক নিমিষে হাওয়া।

৯০ এর নির্বাচন বিএনপি জয় লাভ করে আবদুর রহমান বিশ্বাসকে প্রেসিডেন্ট করলো, তীব্র রাগে তুমি থর থর করে কাঁপছিলে, আম্মু, আমি, ভাইয়া আমরা তোমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছি। আম্মু তোমাকে বার বার বলছিলো হালিম তুমি এমন কোরো না ডক্টর তোমাকে উত্তেজিত হতে মানা করেছে। আমরা টের পাইনি তোমার মাইল্ড অ্যাটাক হয়েছিল।

এরপর তোমাকে আর কোনদিন আমরা দেশ নিয়ে কিছু বলতে শুনিনি, জাহানারা ইমাম এর ডাকে জনতার মঞ্চে গেলে আমাদের কিছু না বলে, পরিবারের সবার সাথে তোমার দূরত্ব তখন বেড়েই চললো, মাঝে মাঝে আমাকে ডেকে বলতে কেন যুদ্ধ করলাম? আজও কেন ওই বদমাশদের বিচারের জন্য আন্দোলন করতে হয়? ১২ বছরের কিশোর এই প্রশ্নের কি উত্তর দিবে?
এর কিছু দিন পর এলো ৯৪ সালের ৬ই জুন রাত্রি, সারাটা দিন আগের মতই চুপচাপ তুমি, একটু বেশিই গম্ভীর, রাত্রিতে আমি খুব শব্দহীনভাবে ডাইনিং রুম এ প্রবেশ করি যাতে তোমার মৌনতায় ব্যাঘাত না ঘটে। ভেতরে ঢোকা মাত্রই তোমার সাথে ধাক্কা লাগার উপক্রম হয়। তুমি লুঙ্গি পরে ঘরের একটি চেয়ারে বসে আছো। হাতের সিগারেটটা তখনো জ্বলছে। ‘কেমন আছো বাবা?’- আমি বললাম। তুমি উত্তরে বললে ‘এই তো...’। ‘তুমি এখনো ঘুমুতে যাওনি কেন, বাবা?’ ‘খুব শীঘ্রই যাবো।’- বললে কিন্তু গেলে না।

এক ঘণ্টা পর বুকের ভেতর মোচড় দিলো দৌড়ে গেলাম কিন্তু তুমি আবারো আমাকে ফাকি দিয়ে চলে গেছো, ভাইয়া অন্যদের নিয়ে তোমাকে হস্পিটাল নিয়ে গেছে, কেনো যেনো মনে হলো তোমার সাথে আর দেখা হবে না। ভোর বেলা আমাকে তোমার কাছে নিয়ে গেলো সবাই, কিন্তু তুমি তখন অন্য ভুবনে। কতগুলো বছর তোমাকে খুঁজেছি তোমাকে পাই নি। এবার পেলাম গণ জাগরণ মঞ্চে দাঁড়িয়ে যখন আকাশ পানে বজ্র মুঠী ছুড়ে বলছিলাম “একাত্তরের হাতিয়ার গর্জে উঠ আরেকবার” দেখি তুমি আমার পাশে দাঁড়িয়ে চির চেনা সেই দুষ্ট হাসি দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছো, বাবা আজ শাহবাগে আর কেউ যায় না, আমাদের নাস্তিক বলে হত্যা করার ফতোয়া জারি হয়েছে, আমার অফিস এ হামলা হয়েছে, তোমার বৌমাকে ( তুমি তো ওকে দেখইনি ) তুলে নেবার হুমকি দিয়েছে....... তাও আমি শাহবাগ যাই। কেনো জানো? আমি জানি যে দিন সবকয়টার রায় হবে তোমাকে আমি আবার এই শাহবাগেই খুঁজে পাবো। এখন কটা বাজে জানো? ঠিক ১০:৩০, তুমি ফাকি দিয়ে চলে গিয়েছিলে হস্পিটাল এ, এরপর গভীর রাতে অন্যভুবনে চলে গেছো। এরপর থেকে ৬ই জুন রাতে আমি আর ঘুমাতে পারি না। সবকয়টার রায় হোক আমি জানি এরপর থেকে ৬ই জুন রাত আমার আর নির্ঘুম কাটবে না, কারণ আমি জানি তখন তুমি আমার পাশেই থাকবে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়াবে। পাড়াবে না বলো?
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“সূয্যি মামা জাগার আগে উঠবো আমি জেগে” (দিনলিপি, ছবিব্লগ)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৫


রোদের মাঝে একাকী দাঁড়িয়ে....
ঢাকা
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বেলা ১২৩৩

"সূয্যি মামা জাগার আগে উঠবো আমি জেগে" -- নিজ শিশুর মুখে একথা শুনে মানব শিশুর মায়েরা সাধারণতঃ কপট রাগত স্বরে এমন প্রতিক্রিয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাশিয়াকে ড্রোন দিয়ে ইরান নিজে কি পেল ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৫


ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে একটা প্রশ্ন ঘুরেফিরে এসেছে — রাশিয়াকে ড্রোন দিয়ে ইরান আসলে কী পেল? ইরানের Shahed-136 ড্রোন ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করেছে, সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি... ...বাকিটুকু পড়ুন

"মেলা সুন্দর হতো আমাদের শৈশবে, যখন বই ছিল স্বপ্নের প্রতিশব্দ" ~ বইমেলা ২০২৬ উপলক্ষ্যে বাংলা ট্রিবিউনকে দেয়া আমার সাক্ষাৎকার

লিখেছেন সাজিদ উল হক আবির, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৮



প্রশ্ন: মেলায় আপনার নতুন কী বই প্রকাশিত হচ্ছে?

সাজিদ উল হক আবিরঃ গত বছরখানেক ধরে দুটো বইয়ের কাজ করছিলাম। একটা আমার দ্বিতীয় উপন্যাস, সরীসৃপতন্ত্র; দ্বিতীয়টি, মিলান কুণ্ডেরার উপন্যাস দা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জল্লাদ খামেনি বাঙ্গুদের কাছে হিরো

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১২



বাঙ্গুদের কাছে খামেনি হিরো কারণ সে ইউএসের বিরুদ্ধে দাড়িয়েছিল। কিন্তু বাঙ্গুরা কখনোই জানবেনা এই খামেনির ইরান ২০০৬ সালে তাদের এয়ারস্পেস আমেরিকার জন্য খুলে দেয় যাতে সাদ্দামের বাহিনীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুদ্ধ বিরোধী কবিতা: তোমরা বিড়াল হত্যার উৎসবে মেতেছো

লিখেছেন অর্ক, ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৪২



আর আমি ভীষণ দুঃখ পেলাম দেখে
দল বেধে বিড়াল হত্যার উৎসবে মেতেছো
কুয়াশাচ্ছন্ন বরফসাদা হিম রাত শীতের
তোমরা বিরাটকার কালো আলখাল্লা পরা
উলের ভারি দস্তানা ও মুজো হাতে পা’য়ে;
পাশবিক উল্লাসে শীর্ণকায় শিশু বিড়ালটিকে
কামড়ে আঁচড়েহাঁচড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×