somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

Russian Soviet Union // ইউরি গ্যাগারিন //

১৩ ই মে, ২০১৪ বিকাল ৩:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ইউরি গ্যাগারিন





Yuri Gagarin
Юрий Гагарин

Gagarin in Sweden.jpg

Gagarin Signature.svg
Soviet Union cosmonaut
The first human in space



জাতীয়তা
Russian Soviet Union

জন্ম
৯ মার্চ ১৯৩৪
Klushino, Russian SFSR, Soviet Union

মৃত্যু
২৭ মার্চ ১৯৬৮ (৩৪ বছর)
Novosyolovo, Russian SFSR, Soviet Union

অন্য পেশা
Pilot



ইউরি আলেকশেইভিচ গ্যাগারিন (রুশ: Ю́рий Алексе́евич Гага́рин
রুশ উচ্চারণ: [ˈjurʲɪj ɐlʲɪˈksʲeɪvʲɪtɕ ɡɐˈɡarʲɪn]; মার্চ ৯ ১৯৩৪ – মার্চ ২৭ ১৯৬৮) একজন সোভিয়েত বৈমানিক এবং মহাকাশচারী। তিনি সর্বপ্রথম ব্যক্তি যিনি মহাকাশ ভ্রমণ করেন, তিনি ভস্টক নভোযানে করে ১৯৬১ সালের ১২ই এপ্রিলপৃথিবীর কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করেন।

গ্যাগারিন এর ফলে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন, এবং তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের নায়কে পরিণত হন এবং দেশে বিদেশে বহু পুরস্কার এবং পদক লাভ করেন। ভস্টক ১ তার একমাত্র মহাকাশ যাত্রা হলেও, তিনি সুয়োজ ১ মিশনের ব্যাকআপ হিসেবে সহায়ক ভূমিকা পালন করেন (যা একটি ধ্বংসাত্মক বিস্ফোরণের মাধ্যমে শেষ হয়েছিল)। গ্যাগারিন পরবর্তীতে মস্কোর বাইরে অবস্থিত মহাকাশচারী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ডেপুটি ট্রেইনিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, পরে যা তার নিজের নামানুসারে নামকরণ করা হয়। গ্যাগারিন ১৯৬৮ সালে একটি মিগ ১৫ প্রশিক্ষণ বিমান চালনার সময় বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হোন।




পরিচ্ছেদসমূহ
১ প্রারম্ভিক জীবন
২ সোভিয়েত বিমান বাহিনীতে কর্মজীবন
৩ সোভিয়েত মহাকাশ কার্যক্রমে কর্মজীবন ৩.১ নির্বাচন এবং প্রশিক্ষণ
৩.২ মহাকাশ যাত্রা
৩.৩ খ্যাতিমান হয়ে ওঠা
৩.৪ ভস্টক ১ এর পরের জীবন

৪ মৃত্যু ৪.১ বিমান দুর্ঘটনার কারণ

৫ কিংবদন্তী ও শ্রদ্ধাঞ্জলি ৫.১ কিংবদন্তী
৫.২ শ্রদ্ধাঞ্জলী
৫.৩ ৫০ বর্ষপূর্তিতে শ্রদ্ধাঞ্জলী




প্রারম্ভিক জীবন

গ্যাগারিন ১৯৩৪ সালের ৯ই মার্চ জাটস্কের/1} কাছে ক্লুসিনো গ্রামে (বর্তমানে রাশিয়ার মোলেনস্ক ওবলাস্ট) জন্মগ্রহণ করেন। তার সম্মানে ১৯৬৮ সালে নিকটস্থ জাটস্ক শহরের নাম পরিবর্তন করে তার নামানুসারে রাখার হয়। তার পিতামাতা, অ্যালেক্সে ইয়ানোভিচ গ্যাগারিন এবং আন্না তিমোফিয়েভনা গ্যাগারিন একটি কৃষি খামারে কাজ করতেন। যদিও তার পিতামাতাকে "ছোট চাষী" বলা হয়েছে তবে জানা যায় তার মা ছিলেন খুবই উৎসুক পাঠক এবং তার বাবা ছিলেন একজন দক্ষ সূত্রধর। ইউরি তাদের চার সন্তানের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন, তার বাবা মা যখন কাজ করতেন তখন তার বড় বোন তাকে লালন পালন করেন। সোভিয়েত ইউনিয়নের লাখ লাখ মানুষের মত, গ্যাগারিন পরিবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎজি দখলদারিত্বের ভুক্তোভোগী। এক জার্মান অফিসার তাদের বাড়ি দখল করে নিলে, পুরো পরিবার এক বছর নয় মাস একটি মাটির ঘরে বসবাস করেন। ১৯৪৩ সালে তার দুই সহোদরকে নাৎজি জার্মানরা দাস হিসেবে ধরে নিয়ে যায়, তারা যুদ্ধের পরে ফিরে আসেন। ১৯৪৬ সালে পুরো পরিবার জাটস্কে চলে আসেন।
সোভিয়েত বিমান বাহিনীতে কর্মজীবন

কৈশরেই ইউরি মহাকাশ এবং গ্রহ সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে ওঠেন এবং তার মহাকাশ যাত্রা নিয়ে স্বপ্ন দেখা শুরু করেন যা একদিন বাস্তবে পরিণত হয়। লুবার্টসিতে এক বছর একটি ভোকেশনাল কারিগরী স্কুলে পড়ার পর, গ্যাগারিন সারাতোভে একটি কারিগরী উচ্চ বিদ্যালয়ে আরও পড়াশোনার জন্য নির্বাচিত হন। সেখানে পড়ার সময়ে তিনি "অ্যারোক্লাবে" যোগ দেন, এবং সেখানে হাল্কা বিমান চালনার প্রশিক্ষণ নেন, যা ছিল তার শখের একটি বড় অংশ।

১৯৫৫ সালে, কারিগরী বিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে, তিনি ওরেনবার্গে পাইলট'স স্কুলে যুদ্ধবিমান চালনা প্রশিক্ষণে ভর্তি হন। সেখানে ভ্যালেন্টিনা গোরেচেভার সাথে তার পরিচয় হয়, যাকে তিনি ১৯৫৭ সালে মিগ-১৫ চালনায় উইং লাভের পর বিয়ে করেন। পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন, তাকে নরওয়েজীয় সীমান্তের কাছে মুরমানস্ক অবলাস্টে অবস্থিত লুওস্তারি এয়ারবেইজে নিয়োগ দেওয়া হয়, যেখানে বৈরি আবহাওয়ার জন্য বিমান উড্ডয়ন বেশ ঝুকিপূর্ণ ছিল। তিনি ১৯৫৭ সালের ৫ই নভেম্বরে সোভিয়েত বিমান বাহিনীতে লেফটেনেন্ট পদ লাভ করেন এবং ৬ই নভেম্বর ১৯৫৯ সালে তিনি সিনিয়র লেফটেনেন্ট পদে পদন্নতি পান।
সোভিয়েত মহাকাশ কার্যক্রমে কর্মজীবন[



নির্বাচন এবং প্রশিক্ষণ

১৯৬০ সালে, বিভিন্ন অনুসন্ধান এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে, ইউরি গ্যাগারিন সহ আরও ১৯ জন্য বৈমানিক সোভিয়েত মহাকাশ কর্মসূচির জন্য পছন্দ করা হয়। গ্যাগারিন সোচি সিক্স নামে পরিচিত বিশেষ প্রশিক্ষণ দলের জন্যেও নির্বাচিত হন, যাদের মধ্য থেকে ভস্টক কর্মসূচির জন্য প্রথম মহাকাশচারী পছন্দ করা হয়। গ্যাগারিন এবং অন্যান্য সম্ভবনাময় মহাকাশচারীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সম্মুখিন হতে হয় যা তাদের দৈহিক এবং মানসিক সহ্যশক্তি পরিমাপের জন্য নকশা করা হয়েছিল; তিনি সামনের ফ্লাইটের জন্যে বেশ কষ্টকর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। নির্বাচিত ২০ জনের মধ্যে, চূড়ান্তভাবে প্রথম যাত্রার জন্য গ্যাগারিন এবং ঘেরমান টিটোভকে প্রশিক্ষণের সময় তাদের কার্যকারিতা এবং তাদের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কারনে পছন্দ করা হয়, কারণ ভস্টক ১ ককপিটে জায়গার পরিমাণ খুবই কম ফলে উভয় ব্যক্তিকেই অবশ্যই খাটো আকৃতি হতে হবে। গ্যাগারিন লম্বা ১.৫৭ মিটার (৫ ফু ২ ইঞ্চি) ছিলেন, যা ছোট ভস্টক ককপিটে তার জন্য সুবিধা জনক ছিলো।

আগস্ট ১৯৬০, গ্যাগারিন ২০ জন্য সম্ভাব্য প্রার্থী থাকা অবস্থায়, বিমান বাহিনীর এক চিকিৎসক তার ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে বলেছিলেন:


Modest; embarrasses when his humor gets a little too racy; high degree of intellectual development evident in Yuriy; fantastic memory; distinguishes himself from his colleagues by his sharp and far-ranging sense of attention to his surroundings; a well-developed imagination; quick reactions; persevering, prepares himself painstakingly for his activities and training exercises, handles celestial mechanics and mathematical formulae with ease as well as excels in higher mathematics; does not feel constrained when he has to defend his point of view if he considers himself right; appears that he understands life better than a lot of his friends.

—Soviet Air Force doctor,
গ্যাগারিন তার সহকর্মীদের কাছেও জনপ্রিয় ছিলেন। যখন ২০ জন প্রার্থীকে একে অন্য প্রার্থীর জন্য ভোট দিতে বলা হল যে তারা কাকে প্রথম ভ্রমণে দেখতে চান, তিন জন বাদ দিয়ে বাকি সবাই গ্যাগারিনকে পছন্দ করেছিলেন।
গ্যাগারিন শারীরিকভাবে সারা জীবন সুস্থ ছিলেন, তিনি একজন ভাল ক্রীড়াবিদ ছিলেন। মহাকাশচারী ভালেরি বাইকভস্কি লিখেছিলেন:

“ Service in the Air Force made us strong, both physically and morally. All of us cosmonauts took up sports and PT seriously when we served in the Air Force. I know that Yuri Gagarin was fond of ice hockey. He liked to play goal keeper... I don't think I am wrong when I say that sports became a fixture in the life of the cosmonauts.[৯] ”

আইস হকি খেলোয়ারের সাথে সাথে, গ্যাগারিন একজন বাস্কেটবল ভক্তও ছিলেন, এবং তিনি সারাতোভ ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনিক্যাল স্কুল দলের কোচ এবং রেফারি ছিলেন।
মহাকাশ যাত্রা
মূল নিবন্ধ: Vostok 1





Vostok I capsule used by Yuri Gagarin, now on display at the RKK Energiya Museum outside of Moscow.
১২ই এপ্রিল ১৯৬১ তারিখে, ভস্টক ৩কেএ-৩ (ভস্টক ১) উৎক্ষেপন করা হয়, গ্যাগারিন পরিণত হন পৃথিবী প্রথম মানুষ যিনি প্রথম মহাকাশ ভ্রমণ করে, এবং একই সাথে প্রথম মানুষ যিনি পৃথিবীর কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করেন। তাকে ডাকা হতো কেদর (Siberian Pine, রুশ: Кедр)বলে।
তার ভ্রমণ পরবর্তী প্রতিবেদনে, গ্যাগারিন মহাকাশ ভ্রমণের এবং প্রথম মহাকাশচারী হওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন:


The feeling of weightlessness was somewhat unfamiliar compared with Earth conditions. Here, you feel as if you were hanging in a horizontal position in straps. You feel as if you are suspended.

মহাকাশ ভ্রমণের পর, অনেকেই দাবি করেন যে গ্যাগারিন, মহাকাশ ভ্রমণের সময়, তিনি মন্তব্য করেন যে, "আমি এখানে উপরে কোন ইশ্বর দেখতে পাচ্ছি না।" যদিও, মহাকাশ ভ্রমণের সময় পৃথিবীর আর্থ-বেজড স্টেশনের সাথে গ্যাগারিনের কথোপকথনের ধারণকৃত অডিও রেকর্ডে এমন কোন শব্দ পাওয়া যায় নি। ২০০৬ সালের এক সাক্ষাৎকারে গ্যাগারিনের কাছের বন্ধু, কর্নেল ভ্যালেন্টিন পেট্রোভ, বলেন যে গ্যাগারিন কখনও এমন উক্তি করেননি, এবং এই কথাটি মূলত এসেছে সিপিএসইউ এর কেন্দ্রীয় কমিটির একটি পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে নিকিতা খ্রুসচেভের এর এক বক্তব্য থেকে, যেখানে ধর্ম-বিরোধী ক্রিয়াকলাপ ও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল।. সেখানে খ্রুসচেভের বলেছিলেন, "গ্যাগারিন মহাকাশে ভ্রমণ করলেন, অথচ সেখানে তিনি কোন ইশ্বরকে দেখতে পেলেন না"।
কর্নেল পেট্রোভ আরও বলেন, গ্যাগারিন ছিলেন শিশুকাল থেকে অর্থডক্স চার্চের বাপ্টিস ছিলেন। এছাড়া এও জানা যায় গ্যাগারিন বলেছিলেন: "যে ব্যক্তি পৃথিবীতে ইশ্বরের দেখা পায়নি, সে কখনই মহাকাশে তার দেখা পাবে না।

খ্যাতিমান হয়ে ওঠা




A postcard with an image of Yuri Gagarin
মহাকাশ ভ্রমনের পরে, গ্যাগারিন পৃথিবীজুড়ে খ্যাতি লাভ করেন এবং তিনি বহু দেশে ভ্রমণ করেন। সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রথম রাষ্ট্র যা মহাকাশে মানুষ পাঠিয়েছে এটি প্রচার করতে তিনি ইতালী, জার্মানি, কানাডা, ব্রাজিল, জাপান এবং ফিনল্যান্ড ভ্রমণ করেন। ভস্টক ১ এর সফলতার তিন মাস পরে তিনি যুক্তরাজ্যে ভ্রমণ করেন, এ সময় তিনি লন্ডন এবং ম্যানচেস্টার শহর ভ্রমণ করেন, যা পরবর্তীতে তিনি সস্নেহে স্মরণ করতেন।
ভস্টক ১ এর পরের জীবন
১৯৬২ সালে, তিনি সুপ্রিম সোভিয়েত অফ দ্যা সোভিয়েত ইউনিয়নের ডেপুটি হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি মহাকাশচারি সুযোগ সুবিধার জন্য স্টার সিটিতে ফিরে আসেন, যেখানে তিনি পুনব্যবহারযোগ্য মহাকাশযান নকশার উপরে সাত বছর কাজ করেন। তিনি ১৯৬২ সালের ১২ই জুন তারিখে সোভিয়েত বিমান বাহিনীর লেফটেনেন্ট কর্নেল (বা পদপলকোভনিক) পদে এবং ১৯৬৩ সালের ৬ই নভেম্বরে সোভিয়েত বিমান বাহিনীর কর্নেল (পলকোভনিক) র‌্যাংক লাভ করেন। সোভিয়েত অফিসারেরা তাদের নায়ককে দুর্ঘটনাজনিত কারণে হারানোর ভয়ে তাকে নতুন কোন ফ্লাইট থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেন। সুয়োজ ১ ফ্লাইটের জন্য ভ্লাদিমির কোমারভের ব্যাকআপ বৈমানিক হিসেবে গ্যাগারিনকে রাখা হয়েছিল। কোমারভের ফ্লাইট দুর্ঘটনার কারণে শেষ হলে, গ্যাগারিন তাতে মহাকাশ ভ্রমণের জন্য প্রশিক্ষণ বা অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ হন।

গ্যাগারিন স্টার সিটি মহাকাশচারী প্রশিক্ষণ বেইজের ডেপুটি ট্রেইনিং ডিরেক্টর হিসেবে যোগ দেন। একই সাথে তিনি ফাইটার পাইলট হিসেবে পুনরায় শিক্ষা গ্রহণ শুরু করেন।

মৃত্যু

২৭শে মার্চ ১৯৬৮ সাল, চকালভস্কি এয়ার বেইজে একটি রুটিন প্রশিক্ষণ ফ্লাইটের সময় কিরঝাচ শহরের কাছে, তিনি এবং তার প্রশিক্ষক ভ্লাদিমির সেরিওগিন মিগ-১৫ইউটিআই বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন। গ্যাগারিন এবং সেরিওগিনের মৃতদেহ রেড স্কয়ারে ওয়ালস অফ দা ক্রিমলিনে সমাহিত করা হয়।

বিমান দুর্ঘটনার কারণ

যে দুর্ঘটনায় গ্যাগারিনের মৃত্যু হয়েছিল তা সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং চলতি কয়েক দশক ধরে রহস্যময় এবং ষড়যন্ত্রমূলক একটি বিষয় হয়ে রয়েছে।

২০০৩ সালে রুশ নথিপত্রে প্রকাশ পায় যে দুর্ঘটনার একটি সরকারী এবং দুইটি সামরিক তদন্ত হওয়ার সাথে সাথে কেজিবি তারা নিজেরা পৃথকভাবে এই দুর্ঘটনার তদন্ত করে। কেজিবির প্রতিবেদন বেশ কিছু ষড়যন্ত্রের অভিযোগ খারিজ করে দেয়, যে এয়ার বেইজে কর্মকর্তার কার্যক্রম এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী নয়। প্রতিবেদনে বলা হয় একটি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার গ্যাগারিনকে আবহাওয়া সম্পর্কিত পুরনো তথ্য প্রদান করে, এবং তার ফ্লাইটের সময় আবহাওয়ার অবস্থা আরও খারাপের দিকে ছিলো। গ্রাউন্ড ক্রু জ্বালানীর অতিরিক্ত ট্যাঙ্ক বিমানের সাথে সংযুক্ত অবস্থাতেই রেখেছিল। গ্যাগারিনের ঐ ফ্লাইটের জন্য পরিষ্কার আবহাওয়া এবং বাড়তি ট্যাংক পরিত্যাগের প্রয়োজন ছিল। তদন্তের উপসংহারে বলা হয় যে গ্যাগারিনের বিমানটি একটি একটি ঘূর্ণিতে পতিত হয়েছিল, যার হয়তো পাখির ধাক্কা অথবা হঠাৎ অন্য কোন বিমানকে এড়িয়ে যাওয়ার কারনে ঘটেছে। পুরনো আবহাওয়া প্রতিবেদনের কারনে ক্রুরা বিশ্বাস করেন যে তারা যে উচ্চতায় অবস্থান করছিলেন তার চেয়ে আরও উপরে অবস্থান করার কথা ছিল, উচ্চতা কম হবার কারণে মিগ-১৫ বিমানটি ঘূর্ণি থেকে বের হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ পায়নি

অ্যালাক্সে লিওনোভ ২০০৪ সালে তার বই টু সাইড অফ দ্যা মুন (চাঁদের উভয় প্রান্ত) বলেন যে ঘটনার দিন তিনি একই অঞ্চলে একটি হেলিকপ্টার চালনা করছিলেন এবং তিনি "দূরে দুটো বিকট শব্দ" শুনতে পেয়েছিলেন। অন্য একটি তত্ত্ব মতে, তার উপসংহার ছিল এই রকম যে একটি সখুই জেট (যা তিনি সু-১৫ 'ফ্লাগন' বলে চিহ্নিত করেন) অনুমোদিত উচ্চতার চেয়ে কম উচ্চতায় উড়ছিলো, এবং "খারাপ আবহাওয়ার কারনে কিছু না বুঝেই, এটি গ্যাগারিন এবং সেরেগিনের বিমানের ১০ থেকে ২০ মিটারের দুরত্বে শব্দের গতিবেগ ভেঙ্গে উড়ে যায়।" বাতাসের এই আলোড়ন মিগ বিমানটিকে একটি নিয়ন্ত্রণহীন ঘূর্ণিতে ফেলে দেয়। লিওনোভ বিশ্বাস করেন প্রথম শব্দটি তিনি বিমানের বাতাসের গতিবেগ ভাঙ্গার শব্দ শুনেছিলেন এবং দ্বিতীয় শব্দটি ছিল গ্যাগারিনের বিমান বিস্ফোরণের।


২০০৫ সালে মূল তদন্তের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা অন্য একটি তত্ত্ব মতে, একটি কেবিন এয়ার ভ্যান্ট বা বাতাসের নির্গমন পথ অসাবধানতাবশত ক্রু অথবা আগের পাইলট খুলে রেখে গিয়েছিলো, যার কারণে অক্সিজেন ঘাটতি দেখা দেয় এবং যা ক্রুকে বিমান নিয়ন্ত্রণে অসমর্থ করে তোলে। এয়ার এন্ড স্পেস ম্যাগাজিনে একই রকমে একটি তত্ত্ব প্রকাশিত হয়, ক্রু খোলা নির্গমন পথ চিহ্নিত করেছিল এবং যা বিমানটিকে দ্রুত নিচের দিকে ফেলে দিয়েছিল। বিমান দ্রুত নিচের দিকে নামার ফলে বিমান চালকগণ চেতনাহীন হয়ে পরেন এবং দুর্ঘটনায় পতিত হন।
২০০৭ সালের ১২ই এপ্রিল, গ্যাগারিনের মৃত্যুতে নতুন করে তদন্তে ক্রিমলিন আপত্তি প্রকাশ করে। সরকারী কর্মকর্তাগণ বলেন যে তারা নতুন করে তদন্ত শুরু করার কোন কারণেই দেখছেন না।

এপ্রিল ২০১১ এ, ১৯৬৮ সালে কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক গঠির এক তদন্ত কমিশনের এক গোপন নথি ফাঁস হয়ে পরে। নথিটি কমিশনের তদন্তের মূল উপসংহার প্রকাশ হয়, গ্যাগারিন এবং সেরিওগিন হয়তো কোন আবহাওয়া বেলুন এড়িয়ে যাওয়ার মত কিছুর জন্য নৈপুন্যের সাথে বিমান চালনা করছিলেন, যা বিমানটিকে "পরিচালনার জন্য জটিল করে তুলেছিল এবং বায়ুমন্ডলের কোন জটিল অবস্থায় ফেলে দিয়েছিল"। প্রতিবেদনে বলা হয় "মেঘ আচ্ছাদনের প্রথম ধাপের উর্ধ্বসীমায় ঢোকা" এড়িয়ে যেতে জেট বিমানটি নৈপুন্য সহকার পরিচালনা করা হয়েছিল।

কিংবদন্তী ও শ্রদ্ধাঞ্জলি

কিংবদন্তী

৫ ফুট ২ ইঞ্চির শারীরিক কাঠামোর পাশাপাশি গ্যাগারিনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল তার মুখের হাসি। অনেকেই গ্যাগারিনের এই হৃদয় জয় করা হাসির মন্তব্য করেছেন। ভস্টক ১ মিশন পরবর্তী কয়েক মাসে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে তিনি ভ্রমণ করেছেন বিশেষ করে যখন তিনি যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার ভ্রমণে গিয়েছিলেন। সোভিয়েত মহাকাশ কর্মসূচির শুরুর দিকের অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী সারগেই করলেভ পরবর্তীতে বলেন যে, গ্যাগারিন এমন এক হাসির অধিকারী ছিলেন "যা শীতল যুদ্ধকে হালকা করে দিয়েছিল"।

শ্রদ্ধাঞ্জলী




Russian Rouble commemorating Gagarin in 2001
সোভিয়েত ইউনিয়ন তার মহাকাশ ভ্রমণের ২০ এবং ৩০তম বর্ষপূর্তিতে প্রথম মহাকাশ যাত্রাকে স্মরণ করে দুইটি স্মারক মুদ্রা প্রচলন করে: ১ রুবল মুদ্রা (১৯৮১ সাল, কপার-নিকেল) এবং ৩ রুবল মুদ্রা (১৯৯১, রৌপ্য)। ২০০১ সালে, গ্যাগারিনের মহাকাশ ভ্রমণের ৪০ তম বর্ষপূর্তিতে তার মুখায়ব-সহ ৪টি মুদ্রার একটি সিরিজ প্রচলন করে রাশিয়া: ২ রুবল মুদ্রা (কপার-নিকেল), ৩ রুবল মুদ্রা (রৌপ্য), ১০ রুবল মুদ্রা (ব্রাশ-কপা, নিকেল), এবং ১০০ রুবল মুদ্রা (রৌপ্য)।
২০০৮ সালে কন্টিনেন্টাল হকি লীগ তাদের চ্যাম্পিয়নশীপ ট্রফির নাম রাখে গ্যাগারিন কাপ।

২০১০ সালে স্পেস ফাউন্ডেশনের এক জরিপে প্রকাশ করে, গ্যাগারিন জনপ্রিয় মহাকাশ নায়কদের মধ্যে ৬ নম্বর র‌্যাঙ্কে রয়েছেন। এ অবস্থানে যৌথভাবে রয়েছেন স্টার ট্র্যাকের কাল্পনিক ক্যাপ্টেন জেমস টি. ক্রিক.
২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে আরমেনীয় বিমান সংস্থা আরমাভিয়া তাদের প্রথম সুখই সুপারজেট ১০০ এর নাম রাখেন গ্যাগারিনের সম্মানে।
১৪ই জুলাই ২০১০ থেকে ১০ ই জুলাই ২০১১ পর্যন্ত গ্যাগারিনের প্রতিকৃতির একটি অনুলিপি লিউবার্টসিতে তার সাবেক স্কুলের বাইরে থেকে নিয়ে লন্ডনের দ্য মলের শেষে অ্যাডমিরাল্টি আর্চে জেমস কুকের স্থায়ী ভাস্কর্যের অপর পাশে বসানো হয়।

উৎস[সম্পাদনা]
Siddiqi, Asif A (2000)। Challenge to Apollo: The Soviet Union and the Space Race, 1945-1974। Washington, D.C.: NASA। ওসিএলসি 48909645। SP-2000-4408। Part 1 (page 1-500), Part 2 (page 501-1011).
Gavrilin, Vyacheslav Mikhailovich (1973)। Sportsmen of the Soviet Army। Moscow: Novosti Press Agency। ওসিএলসি 23374154।

সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১:২৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গাজীপুর থেকে কক্সবাজার: চার বাইকে ছয় সহকর্মীর ১৪ ঘণ্টার নাইট রাইড অ্যাডভেঞ্চার

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০২


আমি শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, থাকি সাভার এলাকায়। ভ্রমণের নেশা আর মোটরসাইকেলের প্রতি ভালোবাসা আমার দীর্ঘদিনের। আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করব গাজীপুর থেকে কক্সবাজার হয়ে টেকনাফ ও শাহপরীর দ্বীপের দিকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

Personal Cancer Vaccine: আশার আলো দেখাচ্ছে

লিখেছেন কলাবাগান১, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৩২


আপনি কি কখনও চিন্তা করে দেখেছেন যে ক্যান্সার টিউমারকে কেন শরীর এর রোগ প্রতিরোগ করা ইমিউন সেল (যেমন টি সেল) একেবারে ধ্বংস করতে পারে না!!! যেখানে টি সেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ১০০

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৮



মাঝে মাঝে খুব অবিশ্বাস্য ব্যাপার সহজ ভাবে ঘটে যায়।
এই যে আমি শাহেদ। শাহেদ জামাল। রমিজ উদ্দীনের ছেলে। আমাকে একটা ঘরে বন্ধী করে রাখা হয়েছে। ছোট ঘর। ঘরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২



শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

গতকাল এক বাবার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে একটি মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল যৌন নিপীড়ন করেছেন। বাবার প্রতিক্রিয়া সঠিক ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশটাতো এখন রাজাকারদের....

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৮




একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭)। মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি চলার সময় জামাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×