somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সবাই জাগুন। বন্ধ হচ্ছে না সাইবার ক্রাইম

১৩ ই অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৯:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেখতে দেখতে মানুষের পবিত্র শৈশব নষ্ট হয়ে গেল।

অনলাইন পর্নোগ্রাফি বা সেলফোন পর্নোগ্রাফি সম্পর্কে এখন কমবেশি সবাই অবগত। পর্নোগ্রাফি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব-এর সর্বাপেক্ষা লাভজনক ব্যবসার অন্যতম। আর শুধু ‘চাইল্ডপর্নোগ্রাফি’ থেকেই প্রতি বছর তিন লাখ বিলিয়ন ডলার আয় হয়ে থাকে। তাই শিশু হোক আর প্রাপ্ত বয়স্ক, সবার জন্যই পর্নোগ্রাফি হচ্ছে নৈতিক অবক্ষয়ের মোক্ষম হাতিয়ার। শুধু মাত্র শিশুরা নয়, উঠতি বয়সের কিশোর, বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে এটি ভাইরাসের মতো ছড়াচ্ছে। মধ্য ও নি¤œবিত্ত স্কিুল-কলেজ শিক্ষার্থীরা ও টিনএজ তরুণীরাও এ ক্রাইমের শিকার। কিন্তু বন্ধ হচ্ছে না সাইবার ক্রাইম।
একটি গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু ঢাকা শহরের বিভিন্ন সাইবার ক্যাফে থেকে প্রতি মাসে তিন কোটি টাকার পর্নোগ্রাফি ডাউনলোড করে বিভিন্ন বয়সের মানুষ। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু, কিশোর ও তরুণ-তরুণীরা। যাদের বড় একটা অংশ স্কুলগামী শিক্ষার্থী। নগরীর অধিকাংশ এলাকায় সাইবার ক্যাফের দোকানের মাধ্যমে অল্প টাকায় ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। কিন্তু সব বয়সীদের প্রবেশাধিকার উন্মুক্ত থাকায় ছোট ছোট শিশুও ভিড় করে সেখানে। তারা শুধুই পর্নোভিডিও দেখতে ক্যাফেতে যায়। পর্নোছবির দর্শকদের ৭৭ শতাংশ শিশু। এখনকার শিশুরা অতি সহজেই হাতের নাগালের মধ্যেই পর্নোওয়েব সাইটগুলো পেয়ে যাচ্ছে।
ইন্টারনেটের এমন কিছু সাইট রয়েছে, যেগুলো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পর্নো প্রচার করে থাকে। আর এ ফাঁদে শিশুরাই প্রথম ধরা পড়ে। পিতা-মাতার অজান্তেই যখন খুশি তখন ইন্টারনেটের পর্নোসমুদ্রে সাঁতার কাটতে পারছে শিশুরা। এর ফলে ভবিষ্যত প্রজন্মের কোমলমতি শিশুদের যে ধ্বংসাত্মক সর্বনাশ ডেকে আনছে তা অপূরণীয় ক্ষতি।
যৌনানুভূতি মানুষের চিরন্তন শাশ্বত একটি বিষয়। আর কিশোর বয়সে এটা আরো বেশি তীব্র আকার ধারণ করে। শিশুদের এটা নিয়ন্ত্রণ কৌশল শেখানোর দায়িত্ব সমাজের। কিন্তু আমাদের সমাজে সেটা হয় না। নিয়মিত ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শিশুদের ১৯ শতাংশ কোনো না কোনোভাবেই যৌনাবেদনের মুখোমুখি হয়েছে। ফলে ইন্টারনেট মাধ্যমটি উভয় সংকটে ফেলেছে সচেতন অভিভাবকদের। ইন্টারনেট একদিকে শিশুদের দিচ্ছে জ্ঞানের অবারিত দরজা, অন্যদিকে পর্নোসাইডের ফাঁদে পড়ে চারিত্রিক অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হয়ে তৈরি হচ্ছে সমাজ ও নৈতিকতা বিধ্বংসী দানব।
ইন্টারনেট ওয়াচ ফাউন্ডেশনের (আইডব্লিউএফ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুদের যৌন নিপীড়নের ছবি রয়েছে-ইন্টারনেটে এমন ওয়েবসাইটের সংখ্যা গত বছর বেড়েছে। সংগঠনটি তিন হাজার ওয়েবসাইটের ১০ হাজারেরও বেশি পাতায় শিশুদের যৌন নির্যাতনমূলক উপাদান খুঁজে পায় এবং ১২ বছরের নিচের শিশুদের ছবিই এসব ওয়েবসাইটে বেশি স্থান পেয়েছে। এ হার শতকরা ৯১ ভাগ।
সাইবার অপরাধী ও পর্নো সন্ত্রাসীরা কৌশলে কিংবা ফাঁদে ভিডিও ধারণ করে তা ইন্টারনেটে এবং মোবাইলে ছড়িয়ে দিচ্ছে। সিডি ভিসিডি বানিয়ে বিক্রি করছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গোপন ভিডিও ক্যামেরার মাধ্যমে করা হচ্ছে।
পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১২-তে বলা আছে, যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী কোন অশ্লীল বই, সাময়িকী, ভাস্কর্য, কল্পমূর্তি, মূর্তি, কার্টুন বা লিফলেট, অভিনয়, অঙ্গভঙ্গি, অশ্লীল সংলাপ, বিবস্ত্র বা অর্ধবিবস্ত্র নৃত্য যা চলচ্চিত্র, ভিডিও চিত্র, অডিও ভিজ্যুয়াল চিত্র, স্থির চিত্র, গ্রাফিকস বা অন্য কোনো উপায়ে ধারণকৃত ও প্রদর্শনযোগ্য এবং যা কোন শৈল্পিক বা শিক্ষাগত মূল্য নেই তার সবই পর্নোগ্রাফি। এসব পর্নোগ্রাফি উৎপাদন, সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ, বহন, সরবরাহ, ক্রয়, বিক্রয়, ধারণ বা প্রদর্শন করা যাবে না।
যারা এ আইন মানবে না তাদের দুই থেকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদ- এবং এক লাখ টাকা থেকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদ- ভোগ করতে হবে। অথচ এই আইনের প্রয়োগ না হওয়ায় দেদারছে আইন লংঘন করে চলছে এক শ্রেণির মুনাফালোভীরা। চোখের সামনে পর্নো আইনকে লংঘন করে নিয়মিত ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার কারণে অপরাধীরা প্রতিদিন প্রযুক্তির পরিবর্তন নিয়ে আসছে। ফলে তাদের পক্ষেও সাইবার ক্রাইমকারীদের শনাক্ত করা সহজে সম্ভব হয় না।
শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহার থেকে যেমন বিচ্ছিন্ন করা যাবে না, ঠিক তেমনি ইন্টারনেটকে সম্পূর্ণ পর্নোমুক্ত করাও সম্ভব নয়। আর এ আগ্রাসন থেকে শিশুদের বাঁচাতেই হবে। সব জায়গায় সর্ব প্রকারের ইন্টারনেট পর্নো ওয়েবসাইট সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। এটা অবাস্তব কিছু নয়, করলেই করা যায়। আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার ও সামাজিকভাবে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
পাঠ্য বইয়ে এ সম্পর্কে সচেতন করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। তবে এ অপরাধ রোধে পরিবারের ভূমিকাও কম নয়। শিশুর হাতে তুলে দিতে হবে নিরাপদ ইন্টারনেট। প্রতিটা শিশুর নৈতিক শিক্ষার ভিত্তি মূলত পরিবার থেকেই আসে। আর নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত একটি মানুষ কখনই এতো খারাপ হতে পারে না। সচেতনতা হতে পারে সাইবার ক্রাইম রোধের শক্তিশালী হাতিয়ার।
[/su

এই জনগুরুত্বপূর্ণ পোষ্ট সবাই শেয়ার করুন। ছড়িয়ে দিন সব জায়গায়। আপনার শিশুর জন্য এই উপকারটুকু করুন।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১:২৯
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

লালনের বাংলাদেশ থেকে শফি হুজুরের বাংলাদেশ : কোথায় যাচ্ছি আমরা?

লিখেছেন কাল্পনিক সত্ত্বা, ০৫ ই মে, ২০২৪ দুপুর ১:১৪



মেটাল গান আমার নিত্যসঙ্গী। সস্তা, ভ্যাপিড পপ মিউজিক কখনোই আমার কাপ অফ টি না। ক্রিয়েটর, ক্যানিবল কর্পস, ব্লাডবাথ, ডাইং ফিটাস, ভাইটাল রিমেইনস, ইনফ্যান্ট এনাইহিলেটর এর গানে তারা মৃত্যু, রাজনীতি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনেতা

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ০৫ ই মে, ২০২৪ দুপুর ১:১৫



বলতে, আমি নাকি পাক্কা অভিনেতা ,
অভিনয়ে সেরা,খুব ভালো করবো অভিনয় করলে।
আমিও বলতাম, যেদিন হবো সেদিন তুমি দেখবে তো ?
এক গাল হেসে দিয়ে বলতে, সে সময় হলে দেখা যাবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমেরিকার গ্র্যান্ড কেনিয়ন পৃথিবীর বুকে এক বিস্ময়

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ০৫ ই মে, ২০২৪ দুপুর ১:৪১


প্রচলিত কিংবদন্তি অনুসারে হাতে গাছের ডাল আর পরনে সাধা পোশাক পরিহিত এক মহিলার ভাটাকতে হুয়ে আতমা গ্র্যান্ড কেনিয়নের নীচে ঘুরে বেড়ায়। লোকমুখে প্রচলিত এই কেনিয়নের গভীরেই মহিলাটি তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুরি! চুরি! সুপারি চুরি। স্মৃতি থেকে(১০)

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ০৫ ই মে, ২০২৪ দুপুর ২:৩৪


সে অনেকদিন আগের কথা, আমি তখন প্রাইমারি স্কুলে পড়ি। স্কুলে যাওয়ার সময় আব্বা ৩ টাকা দিতো। আসলে দিতো ৫ টাকা, আমরা ভাই বোন দুইজনে মিলে স্কুলে যেতাম। আপা আব্বার... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলীগ এর ভয়ে ফরজ নামাজ পড়ে দৌড় দিয়েছেন কখনো?

লিখেছেন লেখার খাতা, ০৫ ই মে, ২০২৪ রাত ৯:২৬


আমাদের দেশের অনেক মসজিদে তাবলীগ এর ভাইরা দ্বীন ইসলামের দাওয়াত দিয়ে থাকেন। তাবলীগ এর সাদামাটাভাবে জীবনযাপন খারাপ কিছু মনে হয়না। জামাত শেষ হলে তাদের একজন দাঁড়িয়ে বলেন - °নামাজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×