somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

Paliye Jaoa Meye

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

-আপনি কে!!?
-আমি কে মানে!!?
-রাফি আপনাকে পাঠিয়েছে!!!?
-রাফি টা কে!!(অবাক হয়ে)
দেখলাম মেয়েটা তার ফোন চেক করছে।আমি একপলক মেয়েটার দিকে তাকালাম।বিয়ের শাড়ি,হাত গলা মাথা ভরা সোনার অলংকার।
-ও মাই গড!!!u r a ranaway bride,right?
-দেখুন আমার জার সাথে পালানোর কথা ছিল সে আসেনি।
-তো আমার সাথে কি পালাবেন নাকি!!!
-না।আমাকে জাস্ট একটু সামনে এগিয়ে দিয়ে আসেন।তারপর আমি নিজেই যেতে পারবো।প্লিজ,এই উপকার টা করেন।
মেয়েটার করুন মুখের দিকে তাকিয়ে আর না করতে পারলাম না।গাড়ি স্টাট দিলাম।কিছুদুর যাওয়ার পর মেয়েটাকে ডাকতে যাবো,দেখি সে পরম নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে।মেয়েটার এই মায়াবি চেহারা টা দেখে আর ডাক দেওয়ার ইচ্ছা হলো না।।।।
কুমিল্লার একটা মাল্টিনেশনাল কোম্পানির CEO পদে জব করি।যার কারনে মোটামুটি একটা ভাল পজিশনে আছি।সারাদিন কাজের চাপে প্রচন্ড বিজি থাকি।বাবা মার একমাত্র ছেলে।বাবা মা ঢাকায় থাকে।মাসে দুই একদিন ঢাকা আসা হয়।
ঈদ হিসেবে এবার লম্বা একটা ছুটি পেয়েছি।তাই ঢাকা এসেছি বাবা মার সাথে ঈদ করতে।আমার তেমন কোনো ফ্রেন্ডস নাই কথা কম বলার জন্ন।তাই বেশির ভাগ সময় একা ঘুরে বেড়াই।একা থাকার কারনে এখনো প্রেম নামক বস্তুটার সাথে জড়াতে পারি নি।।
বাট মেয়েটাকে দেখে অন্নরকম এক অনুভুতি হলো।হঠাৎ মেয়েটা জেগে উঠল
-সমস্যা কি!!!
-কই কিছু নাতো(অপ্রস্তুত হয়ে)
-তাহলে এভাবে ঝুকে বসে ছিলেন কেনো!!?
-আজিপ!!!আপনি যেইভাবে ঘুমুচ্ছিলেন,মনে হলো এক মাস ঘুমান নাই....
-........
-কি হলো!!?
-না আসলে বাবা বিয়ের জন্ন অনেক প্রেসার দিচ্ছিল।তাই রাতে ভাল ঘুম হতো না।আচ্ছা আমরা এখন কোথায় আছি!"??
-উম...মোহাম্মদপুর হতে পারে।not sure..তা আপনি কোথায় যাবেন?
-জানিনা
-মানে!!(ঘাবড়ে যেয়ে)
-আসলে আমার প্লান ছিল আমার ফ্রেন্ড রাফির মাধমে সিলেটে যাবো।অইখানে আমার ফ্রেন্ড নিলার বাসা।একমাস অইখানে থেকে তারপর.....
-তারপর?
-তারপর বাদ দেন না!!!!?এত কিছু জানার দরকার নাই।বাই দা ওয়ে,আপনার নাম টা কি!!!!?
-বাদ দেন না।এত কিছু জানার দরকার নাই।
-হিহিহি!!!!!!!
-আজিপ।হাসেন কেন!!??
-না এমনেই।আচ্ছা আমার না খুব খিদা লাগছে।
-খিদা লাগছে!!!!(করুন মুখে)
-হুম।এখন কাচ্চি খেতে পারলে জোস হইত।চলেন তো খিদা লাগছে অনেক।
গাড়ি একটি রেস্তোরাঁর সামনে রাখলাম।মেয়েদের পাল্লায় এই ফাস্ট পরসি।তাই বুঝতেছি না কি করব।হোটেলে গিয়ে কাচ্চির অডার করলাম।মেয়েটাকে যত দেখছি ততোই মুগ্ধ হচ্ছি।
-কি বেপার,খাচ্ছেন না কেনো!!?(আমার দিকে তাকিয়ে)
-আপনার পরবতী কাজ টা কি হতে পারে চিন্তা করছি।
-হিহি!!!!!তাই
মেয়েটা খাচ্ছে আর হাসছে।নাহ!!!!আমি মনে হয় ফিদা হয়ে জাচ্ছি যা মোটেও ঠিক না।কার না কার মেয়ে তার উপর আবার বিয়ে থেকে পালিয়েছে।
-আপনার চিন্তা কি শেষ হইছে!?(হাসতে হাসতে)
-হুম।
-তো কি চিন্তা করলেন!!?
-কিছু না।তো এখন কি করবেন!!!?আমার তো বাসায় যাওয়া লাগবে,তাই না!!??
-আমিও আপনার সাথে আসি!!?
-মানে কি!!!!আমার সাথে আসবেন মানে!!!!?
-দেখেন!!২ ঘন্টার আলাপে আমি যা বুঝলাম আপনি একজন ভাল মানুষ।আর এত রাতে আমি কোথায় যাব কিচ্ছু বুজতেছি না।আমাকে আরেকটু হেল্প করেন,প্লিজজ।?
-বাসা থেকে পালিয়ে আসার সময় মনে ছিল না!!(বেশ রাগ করে)
-.........
-সরি।আপনাকে এই মুহুতে আমার বাসায় নিয়ে যেতে পারব না। তাহলে মা ভাববে আমি পালিয়ে বিয়ে করেছি।
-আচ্ছা ঠিক আছে।আমি আসি তাহলে।
এই বলে মেয়েটা উঠে হোটেল থেকে বের হয়ে গেল।ওর যাওয়ার পর থেকেই মন টা মোচর দিয়ে উঠল।সাতপাচ না ভেবে আমিও উঠে গেলাম।ওকে হারিয়ে যেতে দেবো না।
হোটেল থেকে বের হয়েই দেখি অনেক দুরে মেয়েটা আস্তে আস্তে হেটে যাচ্ছে।যেন আমারি প্রতিক্ষায়,যাতে ওকে থামাই।আমি দৌড় দিয়ে ওকে থামাই।দেখি ওর চোখে পানি।
-কি সমস্যা,কোথায় যাচ্ছ???(হাপাতে হাপাতে)
-জানিনা(ভেজা গলায়)
-চল আমার সাথে।
-কোথায়।
-তোমাকে নিয়ে তো বাসায় যাওয়া যাবে না,আপাতত বরিশাল আমার কাজিনের বাসায় যাব।
মেয়েটা নিঃশব্দে গাড়িতে বসল।সামনে একটা বুথ থেকে টাকা উঠালাম।তারপর সোজা শপিং সেন্টার।
-এই নাও টাকা।কিছু কেনাকাটা কর আর এইগুলা চেঞ্জ কর।
-আচ্ছা।
মেয়েটা হঠাৎ এত চুপ হয়ে গেল কেনো বুঝলাম না।
যাই হোক,কিছুক্ষন পর মেয়েটি বের হলো।আমি কিছুক্ষনের জন্ন ওর রুপের ঝলকে হারিয়ে গেলাম।রাতের আধারে বিয়ের সাজে মেয়েটিকে যে দিনের বেলায় এত অপরুপ লাগবে ভাবতেই পারিনি।আমার এভাবে তাকিয়ে থাকা দেখে মেয়েটি কিছুটা লজ্জা পেল
-চলুন যাওয়া যাক।
-আ....কি!!!!ও হে চলো।
গাড়ি ছুটছে বরিশালের দিকে।বাতাসে মেয়েটির খোলা চুল গুলো এলোমেলো হয়ে সামনের দিকে আসছে।কিন্তু সেদিকে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপও নেই।নিরবতা কাটানোর জন্ন আমি বকবক শুরু করলাম।
-আচ্ছা তুমি কিসে পড়ো।
-ঘুমুতে ঘুমুতে খাট থেকে পড়ে যাই।
-আজিপ!!!!আমি বলতে চাইসি কোন ক্লাসে পড়ো?!!
-অনাস ২য় বষে।
-তা বিয়ে থেকে পালালে কেনো?
-কি বলবো আর!!!বাবা এক বলদ ছেলের সাথে বিয়ে ঠিক করেছে।ছবি যদিও দেখি নি বাট আমার ফ্রেন্ড নিলা বল্লো পুরাই লুল টাইপের।
-লুল টাইপ মানে কি!!!
-অইটা আপনার বুঝার দরকার নেই।তারপর.......
কথা যেন আর শেষ হয় না!...আমি অবাক চোখে তাকিয়ে থাকি!!!মেয়েটার নাম টা জানা দরকার।
-আচ্ছা...একটু শুনেন।আপনার নাম টা কি!!"?
-এত কিছু থাকতে আমার নাম কেনো!?
-না এমনেই।বলতে না চাইলে সমস্যা নেই।
-লামিয়া।
-বাহ!!!সুন্দর নাম তো।
-জানেন এই নাম টা না আমার.........
ব্যস শুরু হয়ে গেল কথা ফুলঝুরি।এক সময় ঘুমিয়ে পড়লো।বরিশাল এখনো ৫ ঘন্টার পথ।৪টা বেজে গেছে।তাই এক জায়গায় গাড়ি সাইড করে রাখলাম।লামিয়া ঘুমুচ্ছে দেখে আর ডাক দেইনি।একটা টি-স্টলে এসে সিগারেট ধরালাম।
-আমাকে এভাবে গাড়িতে একা রেখে এসেছেন কেন!!?(ঘুম জড়ানো কন্ঠ)
এখন ওকে ঠিক ছোট বাচ্চাদের মত লাগছে।চোখ ডলতে ডলতে আমার পাশে এসে বসলো।
-আসলে ঘুমাচ্ছিলে তো,তাই ডাক দেই নি।তোমার তো আবার অনেক সন্দেহ।
-আপনি তখনকার কথা মনে রাখছেন!!!!!আজিপ মেন!!!!!!...
-চা খাবে!!!??
-হু খাওয়া যায় বাট তার আগে হাতের জিনিসটা ফালান।।ইয়াক!!!!কি বাজে গন্ধ!!!!
দিলো।আয়েস কইরা সিগারেট টা ধরাইলাম।ধুর""''!!!
চা খেতে খেতে ৫টা বেজে গেছে।তাই তারাতারি আবার গাড়ি স্টাট দিলাম।আমি ড্রাইভ করছি,লামিয়া জানালার ফাক দিয়ে আকাশ দেখছে।
-বিয়ে করেছেন!!!?
-কেনো!!?(অপ্রস্তুত হয়ে)
-আরে এত কথা বলেন কেনো!!!যেইটা জানতে চাইছি ঝটপট বলে ফেলেন....
-না করিনি....
-কেন!?
-বলতে পারো,তেমন মেয়ে পাইনি।
-মানে কি!!!!দেশে কি মেয়ের অভাব পড়ছে নাকি!!!!এত গুলা মেয়ে থাকতে আপনি বলেন মেয়ে পান না!!!!আজিপ...
-(তুমি থাকতে আমার কোনো চিন্তাই নাই) নাহ!!!!এইবার মনে হয় পাব।।
-তাই!!?
-হুম।
অবশেষে বরিশাল আসলাম।কাজিনের বাসা আরো ভিতরে।রাত প্রায় আট টার মত বেজে গেছে।এত রাতে ওদের বাসায় যাওয়া কি ঠিক হবে!!!!তারপর আবার সাথে একটা মেয়ে!!!উফ!!!!কি যে পেরায় পরছি।।
-কি হলো!!"রাস্তা কি ভুলে গেছেন!!!
ধুর!!!!কিসের ভেতর কি কয়।
আমার কাজিনের নাম ফারিয়া।দরজার সামনে গিয়ে টোকা দিলাম
-কিরে!!!!!তুই এত রাতে!!!!আমাদের বাসায়!!!!!কোনো সমস্যা!!!!
-এক সাথে এত কিছু বল্লে কোনটার জবাব দিব!!?আ....
-ওই থাম।তোর পিছনে কে!!!
-জি আমি লামিয়া (ভয়ে ভয়ে)
-আসো,ভিতরে আসো।
আমি ফ্রেশ হতে চলে গেলাম।শরির খুব ক্লান্ত,তাই ভাবলাম তারাতারি ঘুমিয়ে পড়বো।রাতের খাবার এর পর আমি এক রুমে ঘুমুতে গেলাম আর লামিয়া ফারিয়ার সাথে ঘুমুতে গেল।একটু পর ফারিয়া আসল
-কিরে তুই প্রেম করস না!!!?
-না করি না......তো?
-তাইলে এইটারে কবে পটাইলি!!!?
-দেক,আজাইরা পেচাল পারিছ না,ঘুমাইতে দে।
রাত ২ টা। ফোনের শব্দে ঘুম ভাংলো।
-কিরে কই তুই??(মার ফোন)
-মা,আমি তো একটা কাজে ফারিয়াদের বাসায় আসছি।কয়েকদিন থাকা লাগবে।
-তা বলে আসবি না!!!
-হঠাৎ একটা কাজ পরে গেসে তো তাই আর বলা হয়নি।
- আচ্ছা,তারাতারি বাসায় ফিরিস।
-অকে।
সকালে পানির ঝাপটায় ঘুম ভাংলো।দেখি লামিয়া মিটিমিটি হাসতেছে
-বাব্বাহ!!!!আপনি তো অনেক ঘুমাতে পারেন!!?
-মানে কি!!!!!এত সকালে কেউ উঠে নাকি আজিপ!!!?
-এত সকাল কই!!!১০ টা বাজে।খেতে আসেন।ফারিয়া আপু খেতে ডাকছে।
উফ!!!!এত সুন্দর ঘুমটাই নস্ট করে দিল।নাস্তা করার পর বাইরে এসে দাড়ালাম।সত্তি বলতে বাইরে এসে মন টা ফ্রেশ হয়ে গেল।
-উহুম(কাশি দিয়ে)
-আরে তুমি!!!কখন!!!!
-এইতো মাত্রই।এখানে কি করেন!!!
-এমনেই দাড়িয়ে আছি।জায়গাটা অনেক সুন্দর,তাই না!!?
-হুম।
-চলেন না একটু ঘুরে আসি!!?
-ওকে চলো।
ফারিয়াকে বলে ঘুরতে বের হলাম।বিভিন্ন জায়গায় ঘুরলাম।ওর তো ননস্টপ কথা চলতেসে।আমি বুঝতে পারছি যে আমি আস্তে আস্তে ওর প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ছি।দুপুরে একটি ভাল রেস্তোরেন্টে লাঞ্চ করলাম।রেস্ট নিয়ে আবার সুরু করলো পেনপেনানি, নৌকা দিয়ে নদীতে ঘুরবে।কিন্তু আকাশে অবস্থা তেমন ভাল না।যেকোন মুহুতে বৃষ্টি নামতে পারে।কিন্তু কে শোনে কার কথা!!!!
নদীতে ঘুরতে ঘুরতেই বৃস্টি নেমে গেল।তীরে আসতে আসতেই ভিজে গেলাম দুইজনে।বৃস্টি থেকে বাচার জন্ন একটি গাছের নিচে এসে দাড়ালাম।লামিয়ার দিকে হঠাৎ করেই চোখ গেল।
লামিয়া পুরো ভিজে গেছে।বিন্দু বিন্দু পানির কনা মুখে জমেছে।সামনের চুল গুলো লেপ্টে আছে।মুখের মায়াবী ভাব টা আরো বেড়ে গেছে।আমি বেশিক্ষন তাকালাম না।তাহলে পুরোপুরি কাইত হইয়া যাইতে পারি।
রাতেই লামিয়ার জর আসে।সিরিয়াস টাইপ।সারারাত মাথায় জলপট্টি দিয়ে রাখলাম।কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম আর খেয়াল নাই
সকালে ঘুম থেকে উঠতেই দেখি লামিয়া আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
-কেমন লাগছে লামিয়া!?
-আপনি সারারাত ঘুমান নি,তাই না!!?
-কিভাবে ঘুমাবো!!কতবার নিষেধ করলাম বৃস্টি আসতে পারে।আমার কথা শুনলেই না।
-সরিইইই!!!!(বাচ্চাদের মত করে)
-হুম।একটু পর ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাব।এখন ঘুমাও।
-আরেহ!!!কোথায় যাচ্ছেন!!!বসুন এখানে... আমার এখন ঘুম আসবে না।
-ওকে বসলাম।
-আপনার জিএফ আসলেই অনেক লাকি!!!
-হাহা!!!!!আমার জিএফ নাই।।
-কি বলেন!!!!এখনো একটা মেয়েকে পটাতে পারেন নাই!!!
-সেই এবিলিটি নাই আমার।
-কি বলেন!!!ওকে ফাইন।আমি আপনার জন্ন একটা কিউট মেয়ে সিলেক্ট করতেছি।
-(মাইয়া তো পাইসি,রাজি হইলেই হয়)ঠিক আছে।
১০-৩০ দিকে লামিয়া কে নিয়ে রওয়ানা হলাম।রিক্সায় উঠে আমার কাধে মাথা রেখে বল্ল
-মাথা টা না সোজা করে রাখতে পারছি না।
-ওকে।আমার কাধে রাখো
আমার কাধে এমন ভাবে মাথা রাখলো যেন আমরা কাপল।আমার তো পেরেসানি অবস্থা।তবে খুব ভাল লাগছে।
এভাবে কয়েকদিন চলে গেল।লামিয়াও সুস্থ হয়ে উঠলো।তারপর সেই দিনটি আসলো যার জন্ন আমি প্রস্তত ছিলাম না।
-আমার চলে যেতে হবে।(লামিয়া)
-কোথায়!!?
-নীলের সাথে।
-নীল টা আবার কে!!!!
-আমার বিএফ
-বিএফ!!!(আমার মাথায় আকাশ ভেংগে পড়লো)তুমি তো আগে বল নাই!!?
-আপনি তো জিজ্ঞেস করেন নাই!!?
-কবে জাবে!!!??
-কাল।
-ঠিক আছে।
বলেই অইখান থেকে চলে আসলাম।গাড়িতে এসে বসলাম।ফারিয়া বেপারটা বুঝতে পেরেছে।
-কিরে মন খারাপ!!!
-না
-আমার কাছে লুকাবি!!?
-জানিস লামিয়া কে!!!!
-কে!!??
-এই সেই মেয়ে,যার সাথে ৬ মাস আগে আমার বিয়ের কথা চলছিল।কিন্তু ও রাজি হয়নি।কারন আমি লুল টাইপের,বলদ।
-কি বলিস!!?কিভাবে বুজলি জে এইটাই সেই মেয়ে!!?
-তোর বুঝার দরকার নাই।লামিয়াকে কিছু বলার দরকার নাই।ও আরেকটা ছেলেকে ভালবাসে।
-তুই সিওর""?
-হুম।বাদ দে!!!?যা এখন, আমাকে ঘুমাতে দে।
পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমি পিছনের সিটে।যাই হোক,তারাতারি ফ্রেশ হতে হবে।লামিয়াকে বাস পযন্ত দিয়ে আসতে হবে।
আমি গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছি আর ভাবছি বিয়ে মনে হয় আর করা হবে না।আই এম সরি মাদার।
-অই শোন,আমিও তোদের সাথে যাব(ফারিয়া)
-তুই যাবি কেন!!!!দেখ কোনো ঘাপলা করিস না।
-চুপ থাক।
এর কিছুক্ষন পর লামিয়া বের হল।ওকে দেখে মনের ভেতর আবার হু হু করে উঠলো।আমার মন বলছে প্রপোজ টা কর এটলিস্ট।আমি কই না।
লামিয়া অরেঞ্জ কালারের থ্রীপিছ পড়েছে।কিন্তু মুখটা মলিন করে রেখেছে কেন বুজলাম না।চোখ টা সরিয়ে নিলাম।বেশিক্ষন তাকাতে পারছি না।
লামিয়া এসে গাড়িতে বসলো।ফারিয়া ওর পাসে।আমি গাড়ি স্টাট দিলাম।কিছুদুর যাওয়ার পর ফারিয়া নেমে গেল।ওর মতলব আমি কিছুই বুঝলাম না।গাড়ি থেকে নেমে
-আমাকে ভুল বুঝিস না।তোর ভালর জন্ন.....
-কি ঘাপলা করসোত!!!??
বলতে বলতেই ফারিয়া হাওয়া।আমি আবার গাড়ি স্টাট দিলাম।
-অই দিক দিয়ে যান(কাদো কাদো গলায়)
-মানে!!!!
-অই দিক দিয়ে যান বলছি(মনে হল কেদেই দিবে)
অই দিকের রাস্তা একটা নদীর ধারে।বুঝলাম না এখানে কি করবে!!!!কিছুদুর যাওয়ার পর লামিয়া গাড়ি থামিয়ে নেমে গেল।আমিও ওর পিছু পিছু নামলাম
-নিজেকে কি হিরো মনে করো!!!(চোখে পানি টলমল করছে)
-(লামিয়া তুমি করে বলছে)কেন!!!
-তাহলে এত ভাব দেখাও কেন!!!?
-কই ভাব দেখাইলাম!!!!?
-এই যে আমি যেতে চাইলাম আর ওমনি রাজি হয়ে গেলা!!!!এই যে আমি এত্ত কিউট একটা মেয়ে,অন্ন ছেলেরা কি যেতে দিত!!!!তালবাহানা করে ঠিকি আমাকে যেতে দিত না!!!!আর তুমি.....(বাচ্চাদের মতো করে)
-I am different from others....নিজের ইচ্ছা কখনো প্রকাশ করি না
-ও,তাই না।ঠিক আছে।আমি চলেই যাব।
এই বলে আমার হাত থেকে চাবি টা নিয়ে গেল।আর আমিও বলদের মত ঘাসের উপর বসে পড়লাম।লামিয়া ঠিক বলেছে আমি আসলেই লুল টাইপের ছেলে।নাহলে একটা মেয়ে পটাতে পারি না।
পিছনে তাকালাম,লামিয়া দাড়িয়ে আছে।চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে।
-গাড়ি কি নস্ট হয়ে গেসে!!!
লামিয়া আর টিকতে পারলো না।
-কুত্তা,বান্দর,শয়তান,হনুমান,ফাজিল,ইতর.....
উফফ!!!!!কানটা শেষ আমার।
-বিয়েটা কেনসেল করেছি ভালই করেছি।তুমি আসলেই একটা লুল।।
-মানে কি!!!!ফারিয়া সব বলে দিয়েছে!!!!অই হারামিরে....
-চুপ।আমার দিকে তাকাও।তুমি সেই ফেমাস Bstr,তাই না!!!
-ফেমাস মানে!!!(অবাক হয়ে)
-এরকম নাম শুনি নাই তো তাই বল্লাম।
-হুম,আমি Bstr.
-আজকেই আমরা বিয়ে করব....
-তাহলে নিলের কি হবে!!!?
আউচ..........গালে বসাইসে সেইরম এক থাপ্পর।
-গাধা,অইটা তো তোমাকে জেলাস ফিল করার জন্ন বলছিলাম।আমি তো তোমাকে আগের থেকেই......
-আগের থেকেই......
আর বলতে পারলাম না।তার আগেই দেখি লামিয়া শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছে।আর কানে কানে বলছে
-ভালবাসি....
-তাই......
-হুম।।
-তাহলে এত ভুমিকা করলে কেন!!!
-তুমি যে গাধা,তাই!!!!!
সব কিছুর credit ফারিয়া।মেনেজ না করলে হয়তো আমার বিয়ে টাই হইতো না।
Tnx Fariya.............

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:২৩
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

।।মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনার রাস্ট্রীয় জঙ্গীবাদ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮


মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনা ভারতের প্রযোজনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরকে দিয়ে জঙ্গী জঙ্গী নাটক মঞ্চস্থ করতো। বহিবিশ্বকে বোঝাতো দেশে ইসলামী জঙ্গী দিয়ে ভরে গেছে এবং সেই জঙ্গীরা ইউরোপ আমেরিকার ভয়াবহ ক্ষতি করবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=শরত তুই যাস নে ! =

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৩



ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস জীবনে কেবল বৃষ্টির হাপিত্যেশ,
মেঘ বলেছে আসবো আসবো আমার উদ্দেশ,
শুভ্র মেঘেদের নাচন
উত্তাপ হাওয়ায় যায় না আর বাঁচন,
তবুও স্নিগ্ধ আবেশ মনজুড়ে,
হঠাৎ হাওয়ার ঝাপটা, বাজে পাতার বাঁশি সুরে।

বিকেলের হাওয়ায় দেহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ কোটি চাকরি: শর্ত প্রযোজ্য, মেধার প্রবেশ নিষেধ !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:২৫


ভোটের আগে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে প্রথম আঠারো মাসেই এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়া হবে। কথাটা শুনে দেশের বেকার তরুণেরা তো মহাখুশি, কেউ ভাবল সরকারি চাকরি হবে, কেউ ভাবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বে ঋণ খেলাপিতে বাংলাদেশ ১ নম্বর এবং দেশে ঋণ খেলাপিতে শীর্ষ ২০ জনের ১৯ জনই ওনাদের!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



শাস্ত্রীয় কথায় না গিয়ে সোজা কথায় কেউ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করলে তাকে ঋণ খেলাপি বলা হয়। আপনি জানলে অবাক হবেন যে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির ১৯ জনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কি ডার্ক জাস্টিসকে ফলো করছেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১০



ছোটবেলায় দেখা একটি টিভি সিরিয়াল তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিলো। একজন বিচারক যিনি দিনের বেলায় কোর্ট রুমে অপরাধের বিচার করতেন, আর, রাতেরবেলা আইনের ফাঁক -ফোকর গলে বেরিয়ে যাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×