somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুকন্যা....

১৮ ই মে, ২০১৬ রাত ১০:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাস ভ্রমন সবসময় আমার কাছে বিরক্তি লাগে।কিন্তু কিচ্ছু করার নাই।টাকার জন্য প্রত্যেক মাসে আমার ঢাকা আসা লাগবে।বাবা মা ঢাকায় থাকে আর আমি থাকি গ্রামের মামার বাসায়।কেন যেন ঢাকার প্যানপ্যানানি শব্দ ভাল লাগে না।তারপরো বাধ্য হয়ে আমার ঢাকা আসা লাগে।
সো,এজ ইউজুয়াল বিরক্ত মুখে রওয়ানা দিলাম বাসস্ট্যান্ডের দিকে।হারামিরে বলছিলাম আমার সাথে চল।নাহ!!!!তার অনেক কাজ(হারামীটা হচ্ছে আমার ফ্রেন্ড তিয়ানা)
টিকেট কেটে বাসে উঠলাম।কন্ডাক্টর কে ঘুষ দিয়ে জানালার পাশের সিট নিলাম কারন আমার আবার বমি বমি ভাব আসে।তাই প্রত্যেকবারে এই কাজটা করি।
সো একটা দীঘশ্বাস ফেলে সিটের উপর ধপ করে বসে পড়লাম।বাস চলা শুরু করল।
কিছুক্ষন চলার পর বাস ব্রেক করল।কাহিনি কি দেখার জন্য জানালা দিয়ে উকি মারলাম।দেখলাম এক সুকন্যা হাত নেড়ে বাস থামানোর ইশারা করছে।আরে!!!!!এইটা তো লোকাল গাড়ি না,মাঝপথে যাত্রী উঠাবে!!!!!কিন্তু কন্ডাক্টর কি সুন্দর মেয়েটাকে উঠিয়ে নিল।বুঝলাম না,এও কি ঘুষ খাওয়াইছে নাকি!!!!!
আমার পাশের সিট টা তখনো খালি ছিল।সুকন্যা দেখলাম আমার মনোযোগ আকষন করারা চেষ্টা করতেছে।আমি আমার মত বসে রইলাম।
-এক্সকিউজ মি....
আমি শুনেও না শোনার ভান করলাম।কানে হেডফোন ছিল,তাই ভান ধরতে সুবিধা হল।কিন্তু হতচ্ছাড়া মেয়েটা এবার হাত নেড়ে ডাক দিল
-এই যেযেযে....মি.....
-জি বলুন....?
-উম....বসা যাবে....?
-কেন...আপনাকে বেধে রাখছি নাকি!!!!!
-না.....মানে.....জানালার পাশে বসা যাবে....?
-জানালার পাশে আর সিট নাই.....
-আসলে আপনি যদি এখানটায় বসতেন.....!!
-সরি....
বলে আমি মুখ ঘুরিয়ে নিলাম।সুকন্যা...তুমি যতই অন্যদের কাছে সুবিধা পাও না কেন....আমার কাছে পাবে না
মেয়েটা দেখলাম অবাক আরর হতাশ হয়ে গেল আমার ব্যবহারে।আমার কিছুই করার নাই।মেয়েটার শান্তিত জন্য আমার অবস্থা পেরেশান করার কোনো মানে নাই।
অগত্যা বাধ্য হয়ে মেয়েটা আমার পাশের সিটে বসে পড়ল।কেমন মনমরা হয়ে বসে আছে।ভাবলাম ব্যাপারটা বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে।তাই অনিচ্ছাসত্ত্বেওও বল্লাম
-আপনি চাইলে এখানে বসতে পারেন।
মেয়েটার মুখটা মুহুতেই ১০০ ওয়াট বালবের মত জলে উঠল
-থ্যাংক্স।
যাই হোক...বিরক্ত মুখে সিটটা চেঞ্জ করলাম।সুকন্যা জানালার পাশে বসেই বাইরে তাকিয়ে থাকল।আমিও আমার মত হেডফোনে গান শুনতে থাকলাম।
-এই যে.....
মেয়েটা হাত নেড়ে ইশারা করছে।বুঝলাম না আবার কি চায়
-জি বলেন...?
-কতবার ডাকলাম...শুনলেন না যে....!!
-সরি হেডফোন ছিল তো....শুনি নি....বলেন কি বলবেন...?
-আপনাকে সেই প্রথম থেকেই দেখলাম চুপ....এত দুরের পথ।কথা না বল্লে তো বোরিং লাগবে।
উফ!!!!!এই মেয়ে আবার কোন ধরনের!!!!!!
-ও।
-আসেন পরিচিত হই।আমি লামিয়া
-নীল...
-এবার ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে।আপনি...?
-অনাস থাড ইয়ার।
-তারপর কোথায় যাচ্ছেন...?
-এই বাস যেখানে যাওয়ার কথা সেখানে যাচ্ছি।
-আজপ...সেটা তো আমিও জানি।আমি বলতে চাইছিলাম কারো সাথে দেখা করতে যাচ্ছেন...?
-জি...আমার বাবা মার বাসায়।
-তাদের থেকে আলাদা থাকেন...?
-অনেকটা....ঢাকার পরিবেশ প্যারা লাগে..
-প্যারা মানে....?
-ঝামেলা।
-ও!!!!!প্যারা মানে ঝামেলা।নতুন কিছু শিখলাম।
-ওকে।
আবার খানিকক্ষন চুপ।মেয়েটা মনে হচ্ছে আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করতে চায়
-কিছু বলবেন....?
-না মানে....!!!একটা জিনিস জানার ইচ্ছা ছিল...
-বলেন...?
-ছ্যাকা খাইছেন নাকি...!!!!
কথাটা শুনে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম।আসলে ভাবতে পারিনি এই টাইপের কথা বলবে...
-না খাইনি....তো...?
-তো কেমন মজনু মজনু ভাব ধরে বসে আছেন!!!!মনে হচ্ছে কেউ একবারের বসায় ১০ বার ছ্যাকা দিছে....
-সমস্যা কি আপনার....?
-না কোনো সমস্যা নাই....
-তাহলে একটু চুপ থাকেন।
সুকন্যা একটু মুচকি হাসি দিয়ে চুপ হয়ে গেল।হাসির কারনটাও ঠিক বুঝলাম না।যাই হোক আবার গান শোনায় মগ্ন হয়ে গেলাম।
কিছুক্ষন পর দেখলাম আমার হেডফোন কেউ টানছে।ব্যাপার কি!!র‍্য
-কি হইছে....কোনো সমস্যা.....?
-কি গান শুনছিলেন....?
-মানে কি!!!!
-আরে....একটু গান শুনতাম আর কি!!!!!!আপনি তো গোমড়া।ছ্যাকা খাইছেন এজন্য মেয়েদের সাথে কথা বলেন না।আমি তো আর ছ্যাকা খাইনি.....(বলেই হাসি)
আমি রাগ করতে গিয়েও পারলাম না।সুকন্যার হাসির কাছে আমার রাগ পরাজিত হয়ে গেল।আমি তার হাসিতেই কিছুক্ষন বিমোহিত হয়ে গেলাম।
-ও....হ্যালো...!!!কি হল...?
-না কিছুনা।
বলে আমি হেডফোন খুলে দিতে যাব তখনি সুকন্যা বল্ল
-আরে আরে.....পুরোটা দেওয়ার দরকার নাই।শেয়ার করি....?
-মানে...?
-একটা আপনি শুনেন...আরেকটা আমি শুনি....
আমি অবাকের উপর অবাক হলাম।এইভাবে অপরিচিত ছেলের সাথে মিশাটা একদমই অবাক করা বিষয়।
কিন্তু অবাক করা হলেও সুকন্যা আমার সাথে হেডফোন শেয়ার করে গান শুনতে থাকে।যার ফলে সুকন্যা আমার অনেকটা কাছে চলে আসে।আমার অসস্থি লাগলেও তার কিছুই হল না।
একসময় আবিষ্কার করলাম সুকন্যার মাথাটা আমার কাধে।তারমানে মেয়েটা ঘুমিয়ে গেছে।কি অদ্ভুদ!!!!!
আমি মাথাটা সরাতে গিয়েও পারলাম।সজাক সুকন্যা আর ঘুমন্ত সুকন্যার মধ্যে বিশাল ব্যবধান।আমি ভাবতেও পারি নি মেয়েটাকে এত মায়াবি লাগবে।আমি ওর কপাল থেকে চুল গুলো সরিয়ে দিলাম।কেমন জানি মনে হল আমি হয়তো সুকন্যার প্রেমে পড়ে গেছি.......!!!!
কখন যে ঢাকা আসলাম বুঝতেও পারলাম না।সুকন্যার সাথে সাথে আমিও ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।দেখলাম মেয়েটা এখনো ঘুমাচ্ছে।কি ঘুমকাতুরে মেয়েরে বাবা!!!!!!!
-এই যে.....
-zzzzzz
-এই যে মিস.....
-হু....!!!
-বাস এসে পড়েছে....?
-হু.....
-এইইইইইইই
-উহ!!!!!দিলেন তো কানটা ফাটিয়ে.....অদ্ভুদ!!!
-এত ঘুমান কিভাবে....?
-কই আর ঘুমাই(হাই তুলে)...
-নামবেন না....?
-হু।
স্ট্যান্ডের সামনে দাড়িয়ে আমার কেমন যেন অস্থির লাগা শুরু করলো।মনে হচ্ছে কিছু একটা যেন আমার কাছ থেকে চলে যাবে।আমার অস্থিরতা মেয়েটা হয়তো বুঝতে পেরেছে।
-এই যে ছ্যাকাখোর....কোথায় যাবেন....?
-উত্তরা.... আপনি..??
-মিরপুর...
-ও....
মনটা খারাপ হয়ে গেল।আমি বুঝতে পারলাম মেয়েটা প্রবলভাবে মনে গেথে গেছে।প্রপোজটা কি করব....?নাহ!!!!!২-৩ ঘন্টার আলাপে কিভাবে করব...?তারপর তো ভাববে পোলায় পুরাই লুইচ্ছা।
-কিছু বলবেন....?
-না মানে.....
-(মুচকি হাসি দিয়ে) নাম্বার লাগবে....?
মেয়ে কি এডভান্স।আগেই সব বুঝে..
-ইয়ে মানে....
-ও...লাগবে না...ঠিক আছে
-আরে না না....লাগবে....
নাম্বারটা নিলাম।এখন যেন একটু শরিরে শক্তি আসছে
-আসি তাহলে.....
-এখনোই চলে যাবেন....?
-হুম....!!!
-ও আচ্ছা।
সুকন্যা রিক্সায় উঠলো
-সুকন্যা.....?
-মানে....সুকন্যাটা কে....?
-আপনি...
-মানে কি!!!!
-আবার কি দেখা হবে.....?
-হতেও পারে।বাট একটা কথা....ছ্যাকা কিন্তু আর খাবেন না।
আমি হাসলাম
-আমি ছ্যাকা এখনো খাইনি।তবে মনে হচ্ছে নিকট ভবিষ্যতে খাব
সুকন্যা হয়তো বুঝতে পারছে।
-আচ্ছা..আসি....দেরি হয়ে যাচ্ছে।
-আচ্ছা।ভাল থাকবেন
রিক্সা চলতে শুরু করল।আমার ভীতরটাও কেমন মোচর দিল।সুকন্যা হাত নেড়ে বিদায় দিল।আমিও দিলাম।
হয়তো আবার দেখা হতেও পারে।দেখা যাক।ছ্যাকা খাইতে চাই না
TO BE CONTINUED.......
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মে, ২০১৬ রাত ১০:৩৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে ফিরে আসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬


সময়ের সাথে সাথে নিজেকে বদলে নিতে হয়,
তোমার শরীর জুড়ে যখন
অভিজ্ঞতার গল্প পাঠের আসর,
তখনও ছেলে ভোলানো ছড়ায়
নিজেকে ভোলালে চলে?

আঁজলা ভরে সময়ের যন্ত্রণাকে পান কর,
পান কর সত‍্যকে।
পান কর... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্জুর চৌধুরীর ছোট গল্প "নভেম্বরের শেষ বৃষ্টি"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:১৩

নভেম্বরের শেষ বৃষ্টি
মঞ্জুর চৌধুরী

নীরা কথাটা বিশ্বাস করতে পারছে না। তাঁর স্বামী আরমানের আরেক মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিল? এই আরমান কিনা সবসময়ে আবৃত্তি করতো "এই হাত ছুঁয়েছে নীরার মুখ, আমি কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৭ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৭



আমাদের সেই পুরনো ভিটেটার অস্তিত্ব  এখন আর নেই। তবে বুকের গহীনে ভিটেমাটির মায়াটুকু  ঠিক আগের মতোই রয়ে গেছে। কত স্মৃতি, কত গান, কত গল্প-কোলাহল,  মান- অভিমান ! চাইলেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×