একটি দেশের কোন অঞ্চলের ব্যপক জনগনের উপর যখন দুর্যোগ আসে তখন সে দেশের সরকার সেখানে জরুরী অবস্থা ঘোসনা করে সকল শক্তি কাজে লাগিয়ে বিপদগ্রস্থ মানুষের সমস্যা সমাধানে সচেস্ট হয়। বাংলাদেশের প্রায় বিশ ল লোক যখন সৌদি আরবে এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তা এবং শংকার মধ্যে আছে তখন বাংলাদেশ সরকার এর কার্যক্রম খুবই হতাশাজনক। ল ল লোককে অনিশ্চয়তার দোলাচলে রেখে দেশে বসে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাসি হাসি মুখ করে কি করে সরকারের উপদেষ্টারা অতিথি হিসাবে উপস্থিত হয়ে বড় বড় নীতিকথা শোনাচ্ছেন? কোন সংস্থা দেশের বেকারত্ব নিয়ে কি বললো তা নিয়ে এক রকমের সাংবাদিক সম্মেলন করার সময় এই সরকারের আছে কিন্ত সৌদি প্রবাসী ল ল মানুষ যখন বিপদে আছে তখন তাদের সমস্যা সমাধানে কি করা হচ্ছে বা হবে এই বিষয়ে কোন রকম বক্তব্য দেয়ার সময় এই ব্যাস্ত সরকারের নাই। বর্তমান সমস্যায় সৌদি প্রবাসীদের জন্য এই সরকারের কার্যক্রম ব্যাস্ত ডাক্তার এর চিকিৎসার মতোই প্রতিয়মান হচ্ছে।
যে সরকারের প্রভাবশালী ব্যাক্তিরা কথায় কথায় সাংবাদিক সম্মেলন করে জনগনের কাছে নিজেদের গ্রহনযোগ্যতা বজায় রাখার চেস্টা করেন সেই সরকার এই রকম ভয়াবহ পরিস্থিতিতে কেন কিংকর্তব্য বিমুঢ হয়ে বসে আছেন? কি করছেন সরকারের প্রভাবশালী উপদেষ্টারা? প্রধান উপদেষ্টা কেন নিজেই সরাসরি চলে আসছেননা সৌদি আরবে? তার কাছে কি ল ল লোকের দুঃখ কস্ট এবং হাহাকারের কোন গুরুত্ব নেই? কিছুদিন আগে যখন প্রধান উপদেষ্টা হজ্জ পালন করতে সৌদিআরব আসলেন তখন তো জেদ্দা প্রবাসীরা নিজের পকেটের টাকা খরচ করে প্রধান উপদেষ্টা এবং সেনা প্রধানকে সংবর্ধনা দিলেন। তাদের কথা কি একটু ও মনে পড়েনা মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা কিংবা সেনা প্রধানের? প্রধান উপদেষ্টা এবং সেনা প্রধান যেসব মানুষের সামনে অনেক আশার কথা শুনিয়ে যাদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করলেন তারা যে আজ চরম হতাশার মধ্যে জীবন যাপন করছেন এটা বুঝবার মতো সময় কি আপনাদের আছে? সেই হাসিমুখ গুলো যে এখন অসহায় মুখ নিয়ে দাড়িয়ে আছেন আপনাদের সঠিক পদপে এর প্রতিায় তা কি আপনাদের অধঃস্থনরা আপনাদের জানতে দিচ্ছেন?
একটি ওয়েবসাইটের উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণার ফাদে পড়ে সৌদিআরবে বাংলাদেশীদের যে ইমেজ সংকট তৈরী হয়েছে সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ড্যামেজ কন্ট্রোল কার্যক্রম হিসাবে সরকারের এই মুহুর্তে তড়িৎ পদপে নেয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। প্রতিদিন খবর আসছে বিভিন্নভাবে মানুষজন হয়রানি হচ্ছেন। অনেক এলাকাতেই অবৈধ বাংলাদেশীদের ধরতে পুলিশি রেইড হচ্ছে, অবৈধ লোকদের সাথে বৈধ লোকদের ও নাকি ধরা হচ্ছে। অনেকেরই নাকি ওয়ার্ক পারমিট এর মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছেনা, এয়ারপোর্টে বাংলাদেশীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অনেক কোম্পানীতে নাকি বাংলাদেশীদের বেতন দিচ্ছেনা এই অপপ্রচার শুরু হ্ওয়ার পর থেকে। এসব কিছুর থেকে বড় যে, সমস্যা তা হলো বিভিন্ন দেশের মানুষের মুখে মুখে রটে গেছে এই কথা যে, বাংলাদেশীদেরকে বের করে দেয়া হবে, সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশীদের চাকরি দিয়ে কেউই বিপদে পড়তে চাচ্ছেনা। যেহেতু আরবী পত্রিকায় অপ প্রচারটা বেশি হয়েছে সেহেতু সৌদিআরবের সকল শ্রেণীর লোকেরা বিশ্বাস করতে শুরু করছে যে, বাংলাদেশীরা খুবই খারাপ, তাদেরকে কাজে রাখা উচিত নয়। যে সৌদিরা মুসলিম দেশ হিসাবে বাংলাদেশ এর জনগনকে বন্ধু এবং পরিশ্রমি হিসাবে জানতে আজ তারাই বাংলাদেশীদের খারাপ দৃষ্টিতে দেখছে। যদি আমরা দ্রুত এই অবস্থার পরিবর্তন করতে না পারি ,বাংলাদেশীদেও সম্পর্কে এই নেগেটিভ মানসিকতা দীর্ঘস্থায়ী তি ডেকে আনবে বাংলাদেশীদের জন্য । আমাদের সরকার যদি মনে করে থাকে যে, একজন উপদেষ্টা সৌদিআরব এসে দু একজন সৌদি মন্ত্রীর সাথে মিটিং করলেই সকল সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে তাহলে সেটা হবে বিরাট এক ভুল ভাবনা। বেশ কিছু পদপে জরুরীভাবে নিতে হবে যা সৌদি সরকার , মিডিয়া এবং সাধারণ সৌদি নাগরিকদের নেগেটিভ চিন্তাভাবনাকে পাল্টে দিবে। এই জন্য সরকারের সকল শক্তির পাশাপাশি সৌদি আরবে বসবাসরত অভিজ্ঞ এবং কমিউনিটিতে সক্রিয় বাংলাদেশীদের কাজে লাগাতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



