somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রিয় নবীর চল্লিশ হাদিস-১

০৬ ই অক্টোবর, ২০১৬ দুপুর ১:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আসসালামু আলাইকুম, ইসলামি শরীয়াতের দ্বিতয় মজবুত ভিত্তি সুন্নাতে রাসুলের এক পর্বতসম সংগ্রহ “সিহাহ সিত্তা” ছয়টি বিশুদ্ধ হাদিস গ্রন্থ। এই সিহাহ সিত্তার বিশাল ভান্ডার থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বুযার্গানে দ্বীন নিজেদের প্রয়োজনে হাদীসে রাসুলের আলাদা আলাদা সংগ্রহ গড়ে তুলেছে। নিজেদের রুচি ও প্রয়োজনে নবী প্রেমিকেরা হাদীসে রাসুলের বিচ্ছিন্ন ফুল দ্বারা নানা গুলদেস্তা সাজিয়েছে। প্রতিটি গুলদেস্তার প্রতিটি ফুলই এখানে সকীয় বৈশিষ্ট্য সমুজ্জল। হাদীসের বাগানে এমন একটি গুলদেস্তার নাম প্রিয় নবীর চল্লিশ হাদিস। যা সংকলন করেছেন হাদীসের ইমাম ইয়াহহিয়া বিন শরফুদ্দিন আন নববী। সেই সংকলনটি ধারাবাহিকভাবে সত্যের পথে প্রকাশ করার নিয়্যত করেছি। আপনাদের দোআ পেলে আমি সফল হব। সংকলন ধারাহিকার এ পর্যায়ে আজকের পোষ্টটিতে ৩টি হাদিস প্রকাশ করা হলো:প্রিয় নবীর চল্লিশ হাদিস

হাদিস নং – ১
আমিরুল মোমেনিন হযরত আবু হাফস ওমর বিন খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেছেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছি, নিয়ত হচ্ছে মানুষের সকল কাজের মূল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করেছে সে তাই পাবে। অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসুল (স) এর জন্য হিজরত করেছে তার হিজরত আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসুলের জন্যই হয়েছে, আর যার হিজরত ছিল দুনিয়া (তথা পার্থিব বস্তু) অর্জণের জন্যে কিংবা কোন মেয়েকে বিয়ের জন্যে তার হিজরত সেই জন্যেই বিবেচিত হবে, যে জন্য সে হিজরত করেছে। মোহাদ্দেসদের দুজন প্রধান ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ বিন ইসমাঈল বিন ইব্রাহিম বিন মোগীরাহ বিন বারদেযবাহ আল বুখারী এবং আবুল হাসান মুসলিম বিন হাজ্জাজ বিন মোসলেম আল কোশায়রী আন নিশাপুরী আপন আপন সহীহ গ্রন্থে এ বর্ণনাটি পেশ করেছেন। যা সব সংকলিত হাদিসের কিতাব থেকে সহীহ গ্রন্থে**** শুদ্ধ বলে বিবেচিত হয়েছে।

হাদিস নং – ২
এই হাদিসটি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, একদিন রাসুলে করিম (সা) এর কাছে বসেছিলাম এমন সময় সেখানে হঠাৎ করেই একজন লোক আমাদের সামনে উপস্থিত হন, যার পরিধানের কাপড় ছিল খুবই সাদা এবং চুল ছিল খুবই কালো। তার ওপর সফরের কোন লক্ষণই ছিল না। আমাদের মধ্যে কেউ তাকে আদৌ চিনত না। তিনি নবী (সাঃ) এর কাছে গিয়ে বসেন এবং নিজের হাঁটু তাঁর হাটুঁর সঙ্গে মিলিয়ে দেন এবং নিজের হাত তাঁর উরুতে স্থাপন করে বলেন, হে মোহাম্মদ ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন। হুজুরে পাক (সাঃ) বলেন, ইসলাম হচ্ছে এই যে, তুমি সাক্ষ্য দিবে, আল্লাহ তায়ালা ছাড়া আর কোন মা’বুদ নাই এবং মোহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর রসুল, নামায কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে, রমযানে রোযা রাখবে এবং যদি সামর্থ থাকে তবে আল্লাহর ঘরের হজ্জ করবে।
তিনি বললেন, আপনি ঠিক বলেছেন। তার প্রতি আমাদের বিস্ময় হলো এ জন্যে যে, তিনি নিজে তাঁর কাছে জানতে চাচ্ছেন, আবার নিজেই তাঁর উত্তরকে সঠিক বলে ঘোষণা করছেন। তিনি বললেন, আচ্ছা আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন, ঈমান হচ্ছে আল্লাহ তায়ালা, তাঁর ফেরেশতা, তাঁর গ্রন্থসমূহ, তাঁর রসুলরা ও পরকালের বিশ্বাস করা এবং তাকদিরের ভাল মন্দকে বিশ্বাস করা । তিনি বললেন আপনি সঠিক বলেছেন। তিনি বললেন আমাকে এবার ইহসান সম্পর্কে বলুন। তিনি (রাসূল সাঃ) বললেন: তা হচ্ছে এই যে, তুমি এমনভাবে আল্লাহর এবাদত করবে যেন তুমি আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছো, আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও তবে একথা জানবে যে, তিনি অবশ্যই তোমাকে দেখছেন। তিনি বললেন, কিয়ামত বিষয়ে আমাকে অবহিত করুন। তিনি বললেন, যাকে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে তিনি জিজ্ঞেসকারীর চেয়ে এ ব্যাপারে বেশি কিছু জানেন না। তিনি বললেন, কেয়ামতের লক্ষণ সমম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন, তা হচ্ছে এই, দাসী (কোন কোন ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে মহিলা) নিজের মালিককে জন্ম দিবে, জুতা বিহীন ও বিবস্ত্র দরিদ্র রাখালরা উঁচু উঁচু ঘরবাড়ি বানাতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করবে।
তারপর লোকটি চলে গেলেন। আমি আরো কিছু সময় সেখানে বসে থাকলাম। এবার রাসূল (সা) আমাকে বললেন, হে ওমর ! তুমি কি জানো প্রশ্নকারী ব্যক্তিটি কে ছিলেন ? আমি বললাম আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভাল জানেন। তিনি বললেন, তিনি ছিলেন জিব্রাঈল (আঃ) তিনি তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শিক্ষা দিতে তোমাদের কাছে এসেছিলেন। [মোসলেম]

হাদিস নং – ৩
হযরত আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ বিন ওমর বিন খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাঃ)কে বলতে শুনেছি, পাঁচটি খুঁটির উপর ইসলামের ভিত্তি রাখা হয়েছে। একথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই এবং মোহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর রাসূল। নামায কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, আল্লাহর ঘরে হজ্জ করা এবং রমযানের রোযা রাখা। [ বুখারী ও মুসলিম]

পূর্বে প্রকাশিত
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই অক্টোবর, ২০১৬ দুপুর ১:৪০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×