আমার বন্ধু, তার আবার প্রেম করার বহু শখ। কত দরবেশ, হাতদেখা, জোতিষী ঘুরেও যখন প্রেমের সন্ধান পেলনা তখন এক প্রকার হতাশই হল বটে। তবু দমে গেলনা। ”চেষ্টার অপর নাম জীবন” থুক্কু পানির থিওরী এখানে কিভাবে এসে পড়ল । “চেষ্টার অপর নাম সাকসেস” - সে আবার মনে প্রাণে এই থিওরী বিশ্বাস করে তাই লেখাপড়ায়ও সে যেমন পটু তেমনি চাকরি জীবনেও বেশ উজ্জ্বল। শুধু একটি জায়গায় সে ধরা খেয়ে আছে, আর তা হল ” প্রেম”। কোন মেয়ে আজ পর্যন্ত তাকে প্রেম নিবেদন করেনি কিংবা সে বহু চেষ্টা করেও এই লাইনে সাকসেস হতে পারেনি।
অবশেষে অনেক তদবির, খরচা পাতি করে একটি মেয়ের আংশিক মন পাওয়ার সিগনাল পেয়ে আমার বন্ধুটির খুশিতে এলাকায় টিকে থাকাটাই আমাদের জন্য মুশকিল হয়ে পড়ল। এতদিন শুধু ফোনেই কথা হয়েছে, বাস্তবে সাক্ষাৎ হয়নাই, অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষার পর মেয়েটি বন্ধুটিকে সাক্ষাৎের ভিআইপি পাস দিলেন। সে কি অবস্থা বিকেলে সাক্ষাৎ পর্ব, অথচ সকাল থেকেই প্রস্তুতি, অফিস থেকে ফিরে এল বেশ অনেক আগেই। বিকেলে এ্যপয়ন্টমেন্ট কোনভাবেই যে মিস করা যাবেনা, এ যে জীবনের যোগ বিয়োগের হিসেব। বন্ধুটি এক প্রকার ভীতুও বটে তাই সাহসের অতিরিক্ত যোগানদাতা হিসেবে সম্মেলনে যোগ দেবার আগে আমাকে সাথে নিতে ভুললনা।
যথাসময়ে আমরা হাজির। কি বলে বোটানিক্যাল গার্ডেন, সেখানে নাকি কত কি হাই কোয়ালিটির ইতিহাস জড়িয়ে আছে ! মেয়েটির এমন স্থান বেছে নেয়ার ব্যাপারে ভাল ঠেকলনা, আজকাল ঢাকা শহরের কত বড় সড় ফুড কোর্ট, কিংবা পার্ক রয়েছে কিনা তা বাদ দিয়ে বন বাদারে প্রেম আদান - প্রদান! যাই হোক বন্ধু বৎসলকে সাহস দিয়ে সামনে আগিয়ে দিলাম যেখানে মেয়েটি দাড়ানোর কথা ছিল।
হ্যা হ্যা দাড়িয়ে আছে একটি মেয়ে, কালো বোরকা পড়া একটি মেয়ে, প্রথমে সন্দেহই হল, বোরকা পড়ে মেয়ে এসেছে প্রেম করতে ! না না তা কি করে হয়, বোধ হয় মেয়েকি আসেইনি। তারপরেও বন্ধুকে একপ্রকার জোড় করেই পাঠিয়ে দিলাম। বাহ! বাহ! পরিচয় শেষে রেসপন্স ভালই হচ্ছে বোঝা যাই, একি! ওরা দুজনে কোথায় যাই ? এতো গভীর বনে প্রবেশ করছে, গভীর থেকে আরো গভীরে যেখানে জন মানবের অতীব পদচারণা নেই। প্রেম বোধহয় নীরব নিভৃত স্থানই খোজে। যাই হোক একটা নির্দিষ্ট দূরত্বে আমি অবস্থান করে বন্ধুকে যেকোন প্রতিকূল অবস্থা থেকে রক্ষা করার জন্য সার্বক্ষনিক তাদেরকে চোখে চোখে রাখলাম।
বেশ মধুর, রঙ্গ, রোমান্টিক আলাপই হচ্ছে মনে হয়, তাদের বসার মাঝের গ্যাপটুকুও আর থাকলনা। বাহ ! বন্ধুটি তার হাতখানা তার কাধের উপর উঠিয়ে দিয়েছে। এত অল্পতেই ! এই তো এতক্ষনে মেয়েটি তার বোরকার ..... খুলল, আহা আমার বন্ধুটি তার নূরাণী চেহারাটা দেখছে, তার ভাবখানাটাই এমনই যেন স্বর্গের এসফার ওসফার দেখ।ে আরে শুধু চেহারা দেখলে কি সব হয়ে যাবে? চোখটাও নামাচ্ছেনা মনে হল গিয়ে একবার টোকা দিয়ে আসি, থাক ! ওমা ! এবার দেখি দুজনে মুখোমুখি, সেকি রোমান্টিক সিন ! মনে হয় ঠোটে ঠোট মেলাবার সম্মতি পেয়ে গিয়েছে, যতই কাছে যাচ্ছে আমার হার্ট বিটও তত বেড়ে যাচ্ছে, যাহ! সব ভেস্তে গেল, যেই না ছুবে ওমনি ... টি মুখের সামনে পড়ে গেল। হাত মোজার উপর হাত রেখে বন্ধুটি যে খুব তৃপ্তি পাচ্ছেনা তা অনুমান করাই যায়।
মুখখানা বেশ কালো করেই ফিরে এল,
-কিরে প্রেমের ভাব বিনিময় ভাল হয়নি ?
আরে ধ্যাৎ বোরকার উপর দিয়ে কি আর প্রেম হয়?
-মানে ?
জীবনে একটা প্রেম জুটল, তাও আবার বোরকাওয়ালী, কপাল মন্দ না হলে কি এমনটা হয়?
-বোরকায় সমস্যা কি? তোরা বিনিময় করবি মনের আদান প্রদান
আরে মনের আদান প্রদান করতে গেলে কিছু শারীরিক সাইন মানতে হয়, সেগুলাই তো হলনা এই বোরকার জন্য
বন্ধুটির কাছে প্রেমের নতুন সংজ্ঞা শিখতে চাইলম না, শুধু শেষ শব্দগুলো কানে আসতে লাগল “হে বিধাতা কারও যেন বোরকাওয়ালীর সাথে প্রেম না হয়”

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




