somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আর একটা সূর্যোদয়

২২ শে জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১২:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ভালবাসার সফল পরিণতি সবাই চায় । যদি দুজন দুজনকে নিয়ে সুখী হতে পারে,ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখতে পারে তাহলে বাবা মায়ের কি সমস্যা বুঝে উঠতে পারেনা সঞ্চিতা। সমপরিমাণ রাগ আর আবেগ নিয়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটছে আর ভাবছে সঞ্চিতা । ধুর সব প্ল্যানই ভেস্তে দিল সে । ঠিকই বলেছিল তনয় । এখনি বাড়িতে জানানোর দরকার নেই।তনয়ের আগে একটা জব হোক, সঞ্চিতাকে নিয়ে তখনি সে তার বাবা মায়ের সামনে গিয়ে দাঁড়াবে । সঞ্চিতার বাড়িতে কোন সমস্যা না , ওর বড়আপু ওকে বিয়ে দিতে পারলেই বাঁচে । তারইবা দোষ কিসের । নিজের সংসারই এখনো গুছিয়ে উঠতে পারেনি বেচারি । কিন্তুনা সঞ্চিতার জেদাজেদির জন্য এখন দুজনের প্রকাশ্যদিবালোকে দেখা করাই দায় হয়ে পড়বে । মনটা ভয়ানক খারাপ হয়ে গেল সঞ্চিতার ।
ঘটনার শুরু -
সঞ্চিতা যখন তনয়ের ছোট বোনের টিউটর হয়ে ওদের বাসায় যায় তনয় তখন ঢাকার একটি পরিচিত প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে ফাইনাল ইয়ার এর ছাত্র । ওদের বাড়িতে ঢুকে সঞ্চিতা কোনদিন তনয়কে দেখতনা । শুধু চলে আসার সময় মাঝেমাঝে দুজনের ঢোকার পথে দেখা হত। তনয়ের মা সঞ্চিতাকে যথেষ্ট আদর করেন, বোধহয় ওর বাবা-মা নেই বলে । ঢাকাতে হোমিকোনমিক্স কলেজে তখন সবেমাত্র ফ্যাশান ডিজাইন এ ভর্তি হয়েছে সঞ্চিতা । বড়বোন আর দুলাভাই এর কাছে সঞ্চিতা একটা বার্ডেনই বলা যায় , তাই নিজের খরচ চালাতে ২,৩ টা টিউশনি করতে হয় ওর । এতে নিজের খরচ ভালভাবেই চলে যায় । প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি তে পড়া তনয় তার ছোট বোনের নতুন শিক্ষিকাটিকে কয়েকদিন ভালই জরিপ করেছিল । আর সব ছেলেরা প্রথম দেখাতে মেয়েদের নিয়ে যেমন করে আরকি । আপাত দৃষ্টিতে মেয়েটিকে তনয়ের সাধারণ কিন্তু জটিল মনে হয়েছিল । কিন্তু ভাব দেখাত সেযেন সঞ্চিতার অস্তিত্ব সম্পর্কে উদাসীন । দিনের পর দিন মেয়েটিকে দেখে কথা বলতে ইচ্ছা করত ঠিকই কিন্তু শেষবেলায় আর বলা হয়ে উঠতোনা । এভাবে ভার্সিটির শেষ বছরটি শুধু দেখাদেখি দিয়ে পার হয়ে গেল । সঞ্চিতাও ততদিন প্রথম বর্ষের পাঠ চুকিয়েছে । একসময় সেই ইচ্ছা পুরনের সম্ভাবনা এল । তনয় ওদের কলেজে গিয়েছিল মাস্টার্স এর রিসার্চওয়ার্ক এর জন্য সঞ্চিতার কলেজের এক প্রফেসরের সাথে দেখা করতে । সামনাসামনি দুজন পরিচিত মানুষ ভিন্ন পরিবেশে এভাবে দেখা হবে সেটা দুজনের কেউই হয়ত আশা করেনি । যাইহোক সঞ্চিতার সাহায্য নিয়ে তনয় তার কাজ সম্পূর্ণ করে চলে আসে বাসায় । কিন্তু সঞ্চিতার মুখে দুশ্চিন্তার আভাটুকু তাকে ক্রমেই ভাবিয়ে তোলে । অনেক চিন্তাভাবনার পর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে তনয় মেয়েটির সাথে ও কথা বলবে, আর যদি পারে ওর সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করবে । তনয় জানতো সঞ্চিতার পারিবারিক অবস্থার কথা । হয়ত সেসবই সাংসারিক জটিলতার ব্যাপার । পরেরদিন ঠিক আগের সময়েই তনয় হাজির হয় সঞ্চিতার ডিপার্টমেন্টের সামনে । কেন জানেনা সঞ্চিতা অইদিন অনেক কথাই বলে ফেলে তনয়কে । হয়ত মনের চাপা কষ্টগুলো কাউকে বলে হাল্কা হওয়ার অপেক্ষায় ছিল ও । কিন্ত তারপর আর একটা মুহূর্ত ও ও থাকেনি ক্যাম্পাসে । ভদ্রতা রক্ষামূলক বিদায় নিয়ে চলে এসেছে । অবাক তনয় ভেবে পায়না কত বড় মনের জোর মেয়েটির । কিন্তু নিজের কোন বন্ধুকে নাবলে ওকে এসব বলল কেন ? জবাব মেলেনা । হয়ত সঞ্চিতাও জানেনা কেন বলে গেল তনয়কে ।
এভাবে প্রায়ই তনয় কাজের বাহানায় যেত আর সময়গুলো সঞ্চিতার সাথে কোথা দিয়ে যে পার হয়ে যেত টের পেতনা । সবই চলছিল নিয়মমতো । মাঝখান দিয়ে দুজন দুজনের অজান্তেই বাধা পড়ছিল ভাললাগার বাঁধনে । রিসার্চ যেদিন শেষ তনয়ের হুশ হোল এরপর এই সময়গুলোতে সঞ্চিতা থাকবেনা তার পাশে । চাইলেই সে পারে সেটাও নিশ্চিত করতে কিন্তু ভয় হয় হারাবার । এখন যদি নাও বলে তাতেও সমস্যার সমাধান হবেনা । সুতরাং বলেই দেখা যাক , মেনেওতো নিতে পারে ।
না মানার কোন কারণ ছিলনা সঞ্চিতার । ততদিনে সেওতো বুঝে গিয়েছে তনয়ের তার সাথে এত সময় কাটানোর অর্থ , সব বুঝেও তার নিজের নীরব সমর্থনের রহস্য । আর সবচেয়ে বড় কথা লোকে যেমন বলে মানুষ তাকেই সব আড়াল থেকে দূরে রাখে যার কাছে নিজের আড়াল বিসর্জন দেওয়া যায় । ও কাজতো কবেই করে ফেলেছে সঞ্চিতা । যেদিন যে কথা একান্ত কাছের মানুষ ছাড়া কাউকে বলা যায়না সেকথা সে তনয়কে বলে ফেলেছিল কিছুনা ভেবেই ।
এরপরের কটাদিন চোখের সামনে দিয়ে উড়ে গেল । তনয়ের রিসার্চ শেষ এখন শুধু result এর অপেক্ষা । এরই মধ্যে সঞ্চিতা গো ধরল সে তার হবু শাশুড়ির আশীর্বাদ নেবে । তনয় অনেক চেষ্টা করেছে বোঝানর কিন্তু মাহারা সঞ্চিতা ইmotional blackmail করেছে তনয়কে । বলেছে এমনিতেই সঞ্চিতাকে অনেক আদর করেন তনয়ের মা । এসব জানলে তিনি মানা করবেন না । তনয় ও ভেবেছে হতেও তো পারে । মা তো আসলেই সঞ্চিতাকে অনেক আদর করেন । কিন্তু সঞ্চিতা বোঝেনি বাস্তবতা অত সহজনা । সব সম্পর্ক আবেগ দিয়ে হয়না । তাইত আজ যখন তন্বীকে পড়ানোর পর সে আর তনয় তার মায়ের সামনে গিয়ে দাঁড়াল ছেলেকে ডেকে নিয়ে সেই যে গেলেন মহিলা আর এলেননা । অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর বুঝল সঞ্চিতা সে বোধহয় তার উত্তর পেয়ে গেছে ।
রাস্তা দিয়ে আনমনে হাঁটছে সঞ্চিতা , আর ভাবছে ওর মা ও কি এমনটাই করত , কেন করবে ? তনয়ের কোন যোগ্যতা টা নেই । নিজের কথা ভাবল সঞ্চিতা । তার কোন যোগ্যতা নেই ? তাহলে কি বাবা-মাহীন মেয়ে বলেই তনয়ের মা রাজিনা ! সঞ্চিতার বাবা-মা মারা গেছে এতে তার কি অপরাধ । তনয় যে বলেছিল জব পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। ও জব পেলে কি মেনে নিতেন উনি । সেলফোন টা বেজে উঠল পরিচিত সুরে । হ্যাঁ তনয়ই ।
তনয়ঃ যতদূর গিয়েছ ওখানেই থাক আসছি ।
খুট করে কেটে দিল তনয় । ভাবছে সঞ্চিতা ওর বোধহয় তনয়দের বাসায় যাওয়া বন্ধ হোল । কি ভেবেছিল আর কি হোল । তবুও হাঁটছে সঞ্চিতা । কিছুক্ষণ পর একটা রিকশা থেকে নামলো তনয় । অপেক্ষা করছিল সঞ্চিতা তনয়ের বকুনি শোনার । ওকে অবাক করে দিয়ে বলে ওঠে ও বাসায় যাবে নাকি ১ ঘণ্টা সময় হবে । নীরবে মাথা দোলায় সঞ্চিতা । পাশাপাশি রিকশাতে বসে প্রথম তনয়ই কথা বলে
তনয়ঃ result এর আগেই আমি apply করব ।
সঞ্চিতা চুপ ..
তনয়ঃ মা আমাকে বকে নাই।
সঞ্চিতা তবুও চুপ ..
তনয়ঃ শোন সঞ্চিতা আজ যা হয়েছে ভুলে যাও । I will manage .
সঞ্চিতা তাকায় তনয়ের চোখে । স্পষ্ট বুঝতে পারে ওকে মিছে সান্ত্বনা দিচ্ছে ও । ও পারবেনা manage করতে । সেই ধৈর্য নেই তনয়ের । শেষমেশ হয়ত ওদের আলাদা ই সংসার পাততে হবে । কিন্তু সঞ্চিতা চায়না ওর জন্য তনয় ঘরছাড়া হোক , আবার ও নিজেও ওকে ছাড়তে পারবেনা । আবার সেই রাগটা এল ফিরে । বাবা-মা কেন বোঝেনা সন্তানদের । ওরা যদি নিজেদের সাথে সুখী হতে পারে ক্ষতিটা কোথায় । হয় ওদের বাবা-মা বোঝেনা অথবা ওরাই বাবা-মাকে বোঝেনা ।
ওকে বাসায় নামিয়ে তনয় চলে যায় নিজের পথে । কাল হয়ত বোঝাপড়া হবে নিজেদের । রাতে শুয়ে এর ভাবতে পারেনা সঞ্চিতা । সকাল টা কি নিয়ে আসছে কে জানে ।
সকালে তনয় ওকে নিয়ে যায় এক বন্ধুর বাসায় । ওখানে আরও অনেক বন্ধু,বান্ধবি আছে তনয়ের । বুঝতে পারেনা সঞ্চিতা কি ঘটতে যাচ্ছে । সবাইমিলে বোঝায় সঞ্চিতাকে এসব নিয়ে মন খারাপ না করতে । আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে সব ।তনয়ের একটা চাকরি হোক তখন সবাইমিলে ওর মাকে বোঝাবে । বুঝতে পারে সঞ্চিতা তনয় ওকে cheer up করতে নিজের বন্ধু-বান্ধবিদের ডেকে এনেছে । আর নিজে এক কোনায় অপরাধীর মত বসে আছে যেন সব দোষ ওর । চোখে জল ভরে ওঠে সঞ্চিতার । বুঝতে পারে তার জন্য ভাবার একজন মানুষ আছে যে তার কষ্টে কষ্ট পাচ্ছে । এতক্ষণ ও ভেবেছিল এই কষ্টগুলো শুধুই ওর নিজের । ভুলেই গিয়েছিল এখনতো আর ও একা নয় , এই কষ্টের আরও একজন ভাগীদার আছে । তাই যা করবে দুজন মিলেই করবে । আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে সঞ্চিতার । আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হতে থাকে ও , দূর থেকে শেষ দীর্ঘনিঃশ্বাসটা ফেলে তনয় । সব ঠিক হয়ে যাবে একদিন , নিশ্চয়ই হবে , হতেই হবে । একটা সূর্যোদয় নিশ্চয়ই হবে ওদের দুজনের যেদিন ওরা মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে , সবার শুভকামনায় একসাথে দেখবে দিনের প্রথম আলো । সামনে এগিয়ে যায় তনয় যেখানে সঞ্চিতা বসে আছে ওর অপেক্ষায় ।

উদাসী মেয়ে
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১২:০৯
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×