তিড়িং বিড়িং নাচতে নাচতে নিজের রুমে ঢুকেই গলা ছেড়ে বেসুরা সুরে শিরোনামহীন এর এই বৃষ্টি ভেজা রাতে তুমি নেই বলে গাইতে গাইতে আয়নার সামনে দাঁড়াল পুষি । অন্যদিন নিজের গলার গান শুনলে নিজেকে মোটেও মেয়ে মনে হয়না , এটা প্রমানিত সত্য এবং পুষির এটা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই যে লোকে যা বলে তার এক বর্ণ ও মিথ্যা নয় ! আসলেই গান গাইলে ওর গলা ছেলেদের মত লাগে । কিন্তু আজ লোক লজ্জার কটু দৃষ্টির পরোয়া না করে গান গেয়েই চলেছে সে । আজ পুষি স্বপ্ন পূরণের প্রথম ধাপ যে পেরিয়ে এসেছে , নিজের চরম অপমানের পুষি নামটিও মধুর লাগতেছে ,কারণ এই নামে যে তার স্বপ্নের মানুষ তাকে ডাকে । আজ সে তাকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ কথা বলার জন্য রবিবার দেখা করতে বলেছে । পুষি জানে ও কি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলবে । আজ যখন ছেলেদের আড্ডার কাছ দিয়ে আসছিল তখন লম্বুকে বলতে শুনেছে সু রবিবার তার pet কে মনের কথা বলবে । সু-এর pet মানেই তো পুষি ! ওর চেয়ে ভাল আর কে বুঝবে ? শির শির অনুভূতি হচ্ছে কথাটা ভাবলেই । উড়ে উড়ে খাবার টেবিলে গিয়েই ফাটা বেলুনের মত ভুস করে ফুটুস করে সমস্ত আনন্দ বেরিয়ে দুশ্চিন্তা এসে ভর করল পুষির মাথায় । হায় হায় এইটা কি হইল ? এইটা কোন কথা ? আর দিন পাইল না দুলাভাই পিকনিক এর দিন ফিক্সড করতে ? রবিবারই ছিল নাকি ফাকা ? ধুর শালা এখন একগাদা মিথ্যা বলা লাগবে । কে যেন ভেতর থেকে বলে উঠল পুষির “ মিথ্যার দেখছ কি চান্দু সবে তো শুরু ” , পাত্তা দিলনা পুষি এখন ওটা শোনার চেয়ে চিন্তা করাটা জরুরী । উভয়সংকটে পড়ে গেল পুষি , সু-কে ও না বলতে তো পারবেইনা আবার বাসাতেও পিকনিকে না যাওয়ার উপযুক্ত কারণ দর্শাতেও পারবেনা । কতদিন তড়পানোর পর রবিবার সেই তিনটি শব্দ শোনার দিনক্ষণ আসছে তার জীবনে যার জন্য সে নিজেও এতদিন কিছু বলেনি সু-কে । ১ সপ্তাহ ভার্সিটি বন্ধ সুতরাং বাড়িতে ভেবেছিল বলবে রবিবার আপুর বাসায় যাবে , এখন আপু ও থাকবেনা আবার অসুস্থতার দোহাই দিয়ে পিকনিকে যাওয়াও বন্ধ করা যাবেনা । প্রেম শুরুই হলনা এর মধ্যেই ভিলেন এসে হাজির । মুখ কাল করে রুমে এসে রন-কৌশল আবিষ্কার করতে ধ্যানমগ্ন হোল পুষি । একটা ব্যাপারে ও নিশ্চিত সু-এর সাথে রবিবার দেখা ও করবেই , এখন কাজ একটাই , আপু অথবা দুলাভাইকে ম্যানেজ করতে হবে ।
রবিবার –
ক্যাম্পাসের চায়ের দোকানে এই প্রথম লজ্জিত মুখভঙ্গি করে হাজির হোল পুষি । চশমার ফাঁক দিয়ে দূর থেকে একটা অচেনা হলুদপরী কে নিজের দিকে আসতে দেখে হাবার মত তাকিয়ে থাকতে থাকতে একসময় কাছে আসার পর বুঝল চশমার পাওয়ার বাড়ানো উচিত তার । একটুর জন্য ইজ্জত হারাতে বসছিল সু । ভাগ্যিস ডাইনিটা দেখেনাই ওকে টাস্কি খাইতে । প্রথমদিনই গাড়ির চাকা পাংচার হলে প্রেমের মধুপুরে আর যাওয়াই হবেনা । ভাবটা এমন যেন খুবই tension এ পুষির সাথে আলোচনা করে একটা decision নিতে এসেছে আজ ও । পুষি,সু-এর অপ্রস্তুত ভাবটা লক্ষ করলেও স্বভাববিরুদ্ধ ভঙ্গিতে এড়িয়ে গেল । অন্যদিন হলে পচানি খাইতে খাইতে সু-এর বিপি high হয়ে যাইত আজ । বেচারা একটুতেই tensed হয়ে যায় , কিন্তু আজ সে অনেক সাহস সঞ্চয় করে এসেছে । আসার আগে ২ রাকাত নফল নামাযও পড়ে এসেছে সু । আল্লাহ্ আজ যেন বলতে পারি , ভেতর থেকে বলে দিল একজন যা বেটা বলে ফেল । মেয়েদের সামনে ন্যাকামি করবি তো মরবি । মানুষ বিয়ের রাতে বউয়ের গলায় ঘণ্টা বাঁধার কথা বলে কিন্তু তোর বাবা propose করার আগেই ঐ কর্মটি করতে হবে নাহলে গলায় দড়ি পড়ে আজীবন ঐ ডাইনিটার পিছে পিছে ঘুরতে হবে । এমনিতেই ২৪ ঘণ্টার ১০ ঘণ্টা হাড় জ্বালায় ও সু-এর । তারপরও সে আজ একেই “ভালবাসি” বলতে এসেছে । কিবা আর করবে সে ? একে ছাড়া আর কারো সামনেই তো ওর নিজেকে একই সাথে সুপারম্যান আর ঝিমানো মুরগা লাগে । আজব কারিগর কি যে লীলাখেলা খেলল । যাইহোক বাস্তবে ফেরত আসে সু ।
অপেক্ষা করছে পুষি । ওর এই হলুদপরী হওয়ার প্রশংসাতো করবেনা এই গাধাটা , ও বুদ্ধি ওর নেই আর তা আশাও করেনা পুষি । ও শুধু ঐ তিনটি শব্দ শুনতে চায় যার জন্য সু-এর propose এর আগেই ও আপুকে বলে এসেছে আজ সুয়ের সাথে ওর dating. ওর দৃঢ় বিশ্বাস সু এই কথাই বলতে ডেকেছে আজ ওকে । কিন্তু ভাব দেখে মনে হচ্ছে বলার আগেই বেচারা সেন্সলেস হয়ে যাবে । কি করবে পুষি , নিজেই বলবে ?
সু – তুই এসেছিস ?!? বাসায় কি বলে আসছিস ? aunty জিজ্ঞেস করেনি ছুটির দিনে কই যাস ?
একই সাথে দুঃখে,রাগে হতবুদ্ধি হয়ে গেল পুষি। এই পোলা কি এইসব বলবে এখন ?কিন্তু আরসব দিনের মত ফেটে পড়তে পারলনা পুষি ।
পুষি – তুই কি এগুলা জিজ্ঞেস করতে ডেকেছিস ?
সু- না মানে , এমনিতেই বলতেছি । জিজ্ঞেস করা নিষেধ নাকি ?
চুপচাপ হয়ে গেল দুজনই । সু-এর ভালই লাগছিল । পুষিকে এত চুপচাপ কোনদিন দেখেনি ও । ওর এই রুপ উপভোগ করছিল সু ।
আস্তে আস্তে পুষির ভীতু মন ভিতুতর হতে শুরু করল । তাহলে যা ভেবেছিল তাকি সত্যি না । ভাবতেই রাগে শরীর জ্বলতে শুরু করল পুষির । ফেটেই পড়লো একসময় স্বভাবসুন্দর ভঙ্গিতে
পুষি – তুই কি আমাকে এখানে এইসব ঢং করতে আসতে বলছিস ? তুই জানিস আমি কত ঝামেলা করে আসছি?কত মিথ্যা বলে আসছি ?
সু- আশ্চর্য রাগিস কেন ।আমিতো বলতেছি,মানে বলব আরকি ।
পুষি – কি বলবি হ্যাঁ ? এই তোর বলার ন……
কথা শেষ করার আগেই চুপ করে যায় পুষি সু-এর কথায় । সু বলছে বলতে চাইছিলাম I I I I………………
পুষি – I Love You!
চশমার উপর দিয়ে হা করে তাকিয়ে রইল সু । একটু আগে যা শুনল তা মাথার রাডারের উপর দিয়ে গেলেও পরিস্কার শুনেছে সে । পুষি! ঐ ডাইনিটা নিজের মুখে I Love You বলেছে ওকে ? এটাও সম্ভব ? সম্বিৎ ফিরে আসে পুষির কথায় । হ্যাঁ সম্ভব , ভালবাসায় সব সম্ভব । আশ্চর্য ছেরি বুঝল ক্যামনে ওর মনের কথা ! sorry পুষি তোকে ছেরি বলা উচিত হয়নি ! sorry again , তোমাকে আর কখনো এরকম কথা বলবনা । মুখে বলল সু , “ হু, আই লাভ ইউ পারমিতা ” । মিষ্টি করে হেসে বলে শুভঙ্কর
উদাসী মেয়ে

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


