আমার দুটো ছোট বোন ছিলো, আমার ছোট বোনগুলো পর্দা করেই চলাফেরা করতো কিন্তু সেই পর্দা পারেনি এলাকার বখাটেদের উত্যক্ত হাত থেকে রক্ষা করতে। বাবা থানায় দু একটি জিডি করার পরও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। অতঃপর বাধ্য হয়েছিলাম নিজের হাতে অস্ত্র তুলে নিতে, বাধ্য হয়েছিলাম রাত দুটো পর্যন্ত ওঁতপেতে ছোটবোনের উত্যক্তকারীকে ধরে মাথায় অস্ত্র ঠেকাতে। আমার অনেক বন্ধুরাও আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। হ্যা এমন একটি উগ্র ভাই থাকলে বোনদের আর আর রাস্তাঘাটে ইভ-টিজিং এর শিকার হতে হয় না। আমার বোনেরা না হয় সেদিক থেকে রক্ষা পেল। প্রশাসন নয় প্রত্যেকটা মেয়ের দরকার একটি ভাই কিন্তু যাদের ভাই নেই তাদের কি হবে?।



গতকাল টিএসসির ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে দেয়া কয়েকজনের স্ট্যাটাসের কিছু কিছু মানুষ নামের জানোয়ারের কমেন্টস পড়ে মনে হলো তাদের চোখে সেদিনের টিএসসিতে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি জায়েজ ছিলো। হিজাবহীন, উগ্র পোশাক পরিধান করে সেদিন টিএসসি তে যাওয়া তরুণীরা (নির্যাতনকারী জানোয়ারদের চোখে যারা মাল) নির্যাতনের শিকার হোন। দুঃখিত শুধু নির্যাতন নয় যৌন নির্যাতনের শিকার হোন। ঘটনাটিকে জায়েজ করতে একটি কথাই শুধু বলা হচ্ছে "পর্দাহীনতা" এই ঘটনার মূল কারণ যদি পর্দাহীনতাই হয় তাহলে শিশুরা কেন নির্যাতিত হচ্ছে? প্রতিনিয়ত শিকার হচ্ছে যৌন নির্যাতনের? যাদের বক্ষ এখনো উন্মীলিত হয়নি, শরীরে এখনো কোনো যৌনতার আবেদন নেই তারা কেন নির্যাতিত হচ্ছে? ধর্ষিত হচ্ছে? শিশু নির্যাতনের খবর প্রকাশিত হয়নি এমন কোনো দিন কি রয়েছে?
হিজাব বলতে শুধু পোশাক বোঝায় না। বরং মানুষের আচার-আচরণ,ব্যবহার, দৃষ্টিভঙ্গি এমনকি অভিপ্রায়কেও বোঝায়। পোশাকের পাশাপাশি চোখ, মন, চিন্তা এমনকি হৃদয়েরও হিজাব থাকতে হবে। পর্দাহীনতার দোহাই দিয়ে যারা সেদিনের ঘটনাটি জায়েজ করতে চাইছে তাদের এবং সেদিনের পুরুষ নামের জানোয়ারদের মাঝে কোনো পার্থক্য দেখছি না। নিজেও একজন পুরুষ তার জন্য আজ নিজেরই লজ্জা হচ্ছে, লজ্জাটা আরো বেড়ে যায় যখন সেদিনের ঘটনার স্বপক্ষে কেউ যুক্তিস্থাপন করতে আসে। তাদের ভাষ্যমতে পুরুষদণ্ড এতোই সংবেদনশীল যে, "হালকা বসনে নারীকে দেখলেই দণ্ড খাড়া হইয়া যায়, টেম্পার বাইড়া গেলে কি আর ঠিক রাখোন যায়!" আর তখনোই তারা ঝাপিয়ে পরে। ঠিক এমনটি যারা মনে করেন যে নারীর উগ্র পোশাকের জন্য সেদিন তরুণীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তাদের উদ্দেশ্য করে কিছুই বলার নেই শুধু বলতে চাই তাদের টেম্পার বেড়ে গেলে কেউ নিরাপদ নয় এমনকি তার নিজের মা বোনেরাও।
যেই সব জানোয়ারগুলো মনে করে শুধুমাত্র পোশাকের জন্য সেদিন এভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিলো তরুনীদের, তাদের ধিক্কার দেয়ার ভাষা আমার জানা নেই আর ধিক্কার দিয়েইবা কি হবে যাদের কোনো বোধই নেই! সেদিন ঘটনার সময় সেই স্থানে শুধু নারীর শরীর দেখলেই দণ্ড খাড়া হয়ে যায় এমন পুরুষ ছিলো না, সেখানে আরো লিটন নন্দী, সুজন সেনগুপ্ত, অমিত দে'র মতো পুরুষরাও ছিলো, কিন্তু কই তারাতো তরুণীদের উপর ঝাপিয়ে পরেনি বরং নিজ দায়বোধ থেকে পাশে দাঁড়িয়েছে তরুণীদের। যার কারণে নিজেরাও হামলার শিকার হয়েছেন। প্রশাসন সেখানেও নিরব ছিলো। হায়রে আমার দেশের প্রশাসন!
আপনারা যারা মনে করছেন সেদিন টিএসসিতে ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য শুধু তরুণীদের পোশাক দায়ী তাদেরকেই বলছি শুনুন দেশে বৈধ অবৈধ মিলিয়ে পতিতালয়ের সংখ্যা কয়েক হাজার, নিজেকে যদি সংযত করে রাখতে নাই পারেন তাহলে ভদ্রতার মুখোস পরে টিএসসিতে গিয়ে নিকৃষ্ট ও জঘন্যতম এমন কাজ করার চেয়ে বরং পতিতালয়ে যাওয়াই উত্তম। তবে হে সংবেদনশীল পুরুষ সাবধান ঘরে বসে উগ্র পোশাক পরিধান করা অভিনেত্রীর কোনো মুভি দেইখেন না তাহলে কিন্তু.................

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


