somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাঙ দে বাসান্তি - এখন যৌবন যার

২৭ শে জুন, ২০০৬ ভোর ৪:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"রাঙ দে বাসান্তি"। কিছুদিন আগে দেখা এই মুভিটা খুব বেশী মাথার মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছে কদিন ধরে...নতুন করে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে অনেক পুরনো ভাবনা,তাই মনের তাগিদ থেকেই এই লিখা।

দিল্লী ইউনিভার্সিটির এক ঝাঁক তরুণ-তরুণী , তাদের বন্ধুত্ব , আধুনিক জীবন-যাপন আর হঠাৎ বদলে যাওয়া আদর্শ-এই নিয়ে এগিয়ে গেছে "রাঙ দে বাসান্তি" মুভির কাহিনী।

কারান,আসলাম,সুখী,ডিজে,সোনিয়া চমৎকার একটি বন্ধুদল। বন্ধুত্বের উচ্ছ্বলতায় কেটে যাওয়া দিনের মাঝে হঠাৎ করেই বিদেশ থেকে এলো "সু" নামের একটি মেয়ে। উদ্দেশ্য ভগৎ সিং-এর উপরে একটি ডকুমেন্টারি বানানো। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের দু"শ বছর পরে দেশপ্রম যে কতখানি আজব অন্তসারহীন একটা "টার্ম "-এ পরিণত হয়েছে এই প্রজন্মের কাছে ওদের কথাবার্তায় তা স্পষ্ট। পপুলেশান,করাপশান-এই বেপারগুলোয় উর্দ্ধগতি ছাড়া দেশকে নিয়ে গর্ব (!) করার মত আর কিছুই তারা খুঁজে পায় না ! অথচ লিজেন্ড হয়ে ভগৎ সিং টিকে আছে সেই বৃটিশ মেয়েটির কাছে যার পিতামহ স্বয়ং বৃটিশ সরকারের প্রতিনিধি হয়ে তার দায়িত্ব পালন করে গেছেন চাকরীর খাতিরে আর ক্রমাগত অনুশোচনায় পুড়ে তার অভিজ্ঞতা লিখে রেখেছেন ডায়েরীতে ।

এই ডকুমেন্টারীতে অভিনয় করতে করতেই এই অতি আধুনিক,নিজস্ব সংস্কৃতি প্রায় ভুলতে বসা তরুণদের মধ্যে জেগে ওঠে এতদিন মনের মাঝে লুকিয়ে থাকা দেশপ্রেম।তা আরো প্রয়োগিক হয় নিজেদের বন্ধুর ( যে মিগ 21-এর পাইলট) বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পরে। দু'শ বছর আগের শহীদদের কাছ থেকে পাওয়া দেশপ্রেমের দীক্ষা নতুন করে সঞ্চারিত হয় তাদের মাঝে, শুরু হয় নতুন প্রজন্মের আন্দোলন- শাসকের বিরুদ্ধে, পার্থক্য কেবল তখন শাসক ছিলো ভিনদেশী আর এখন নিজেদের স্বাধীন দেশের নিজেদের নির্বাচিত সরকার।

সিনেমাটি দেখতে দেখতে আমি নির্বাক হয়ে যাই। অনেকটা সময় কেটে যায় তেমন করেই....ভেতর থেকে কিছু একটা করার তাগিদ ঠেলে বের হয়ে আসে। এরকম হাজারটা অন্যায়, দূর্ণীতি রোজ আমাদের চোখের সামনে ঘটে যাচ্ছে আর দেয়ালে পিঠ ঠেকে রুখে দাঁড়ানোর বদলে সব আমাদের গা-সওয়া হয়ে যাচ্ছে। সত্যি কি কিছুই করার নেই আমাদের? নিজের দিকে তাকাই, নিজে কি কখনও কিছু করতে পেরেছি?

না পারিনি...কিছুই পারিনি। একটু কেবল চেষ্টা করেছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্রদের আন্দোলগুলোতে যোগ দিয়ে নিজের বোধের দায় মেটাতে। শামসুন্নাহার হলের ছাত্রী নির্যাতনের প্রতিবাদে গড়ে ওঠা আন্দোলনের কথা মনে পড়লে এখনও আশাবাদী মনে হয় নিজেকে, কেমন করে অতি সাধারণ কিছু ছাত্র-ছাত্রী এক মুহুর্তে গর্জে উঠেছিলো প্রতিবাদে।

এই সময়ের তরুণ প্রজন্মকে আপাতদৃষ্টিতে কেবল ফ্যাশনপ্রিয় বাস্তবতাবর্জিত আত্মকেন্দ্রিক বলে মনে হতে পারে , কিন্তু আমি বিশ্বাস করি তাদের চোখটা হয়তো কোন কোন ক্ষেত্রে বন্ধ হয়ে আছে, খুলে দেবার দায়িত্ব প্রবীণদের। কেউ যদি ইতিহাস না পড়ে, কি করে নিজেকে সত্যের আলোয় আলোকিত করবে? আমরা যখন ইতিহাস পড়ি, ঐতিহাসিক কোন মুভি দেখি তখন নিজেকে বীরের আসনে বসিয়ে তার মত হবার ইচ্ছা জাগে মনে। নিজের ভেতরে আন্দোলনের আগুন জ্বলে ওঠে নিজের অজান্তেই। সেই আগুনকে কাজে লাগাতে হবে।

আমাদের এই অতি প্রিয় মাতৃভূমি কেবলই দূর্ণীতিতে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচিত থাকতে পারে না। নিজেদের চেষ্টায় তাকে আমাদের শহীদদের স্বপ্নের দেশ বানাতে হবে। অস্ত্রের আন্দোলনে না হোক, আমরা নিজেরা প্রত্যেকে তো নিজেদের অন্তত শুধরে নিতে পারি। সৎ মানুষ হিসেবে নিজের নিজের দায়িত্বটুকু পালন করতে পারি। চেষ্টা করতে পারি অন্তত পাশের মানুষটির মাঝে সেই আলো ছড়িয়ে দিতে। আমরা প্রত্যেকে যদি একেকজন সৎ মানুষ হই পুরো দেশটা কি তবে আমাদেরই সমষ্টি হবে না?

ষাট বছর অতিক্রম করেছে ভারত তার স্বাধীণতার। সেখান থেকে যদি তারা শিক্ষা নিতে পারে আমরা কেন পারব না আমাদের মুক্তিযুদ্ধ থেকে উদ্দীপনা নিতে? প্রতি মুহুর্তে তাকে স্মরণ করতে ! মাত্র 35 বছরেই কি আমরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মহান ইতিহাস ভুলে যাবো? ভুলে যাবো লাখ লাখ শহীদের রক্তদানের কথা? আমাদের আছে একাত্তুর,আছে বায়ান্ন,উনসত্তুর....আছে ইংরেজবিরোধী স্বদেশী লড়াই...। তাদেরই রক্ত যে বইছে আমাদের ধমণীতে...।

তবে? আমরা কেন আশাবাদী হব না?


---------------------------------

কোলাজের দ্্বিতীয় সারির প্রথম দু'টি ছবি অমি রহমান পিয়ালের ব্লগ থেকে নেয়া।

সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুন, ২০০৬ সকাল ৮:০৫
২৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রতিদ্বন্দ্বী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪৮


গফুর মিয়া অভাবের তাড়নায় গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় এসেছিল। সংসারে মানুষ মোট ছয়জন, গফুর, তার স্ত্রী আর চার সন্তান। দুই সন্তান হওয়ার পর তার স্ত্রী আর সন্তান নিতে চায়নি। সে গফুরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জজ মিয়া চিত্রনাট্য নিয়ে নির্মিত হোচ্ছে ভয়ংকর নতুন সিক‍্যুয়াল!!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৪:৪৭



বিএনপির পুলিশ এতো করিৎকর্মা যে চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে । খুনের তদন্ত করে একেবারে আদালতের রায় সহ রিপোর্ট দিয়ে দেয় ! পৃথিবীর সবচেয়ে আপগ্রেডেড আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন শিলং সালাউদ্দিনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাসওয়ার্ড রিসেট করতে সমস্যা এবং ওয়েবসাইটে ক্যাপচা এরর (Invalid site key) সংক্রান্ত।

লিখেছেন চারাগাছ, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:১৪


পাসওয়ার্ড রিসেট করতে সমস্যা এবং ওয়েবসাইটে ক্যাপচা এরর (Invalid site key) সংক্রান্ত।


প্রিয় সামু সাপোর্ট টিম,
আশা করি ভালো আছেন। আমি সামহোয়্যার ইন ব্লগের একজন নিয়মিত পাঠক ও লেখক। দীর্ঘদিন ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কালবেলার মুগ্ধতা থেকে নবকুমারের গ্ল্যামার দুনিয়ায়

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০



সমরেশ মজুমদার আমার বরাবরই প্রিয় লেখকদের একজন। কৈশোর আর যৌবনের এক বড় অংশ জুড়ে তিনি ছিলেন আমার মনোজগতে। বই কিনে পড়া, পাড়ার লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকার যদি ৩% হারে লোন দেয় দেশের প্রতিটি বাড়ীর ছাতে সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করলে বিদ্যুের কস্টের অনেকটাই কিছুটা সমাধান হইতে পারে।

লিখেছেন নতুন, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:০৬


দেশে বর্তমানে Net Metering Guideline–2025 অনুযায়ী অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে দেওয়া যায় এবং তা বিলের সঙ্গে সমন্বয় হয়। এটা খুবই ভালো একটা ব্যবস্থা, সরকারের উচিত এটাকে আরো উতসাহিত করা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×