খোলা তবু অন্ধ চোখে অবশেষে আমি ছুট দেই, একের পর একের পর এক বাঁধা ধেয়ে আসে আমার দিকে, আমি ধাককা খাই, আছাড় খেয়ে উলটে পড়ি, তবু থামি না...না, এখানে আর পারব না এমন করে কেবল টিকে থাকার তেলাপোকা জীবনযাপন করতে। বিশাল সুদীর্ঘ অন্ধকার সুড়ঙের ভেতর ক্লান্ত পায়ে দৌড়াতে দৌড়াতে হঠাৎ যেন কিসের ক্ষীণ রেখা ! ও কী, ও কী ?! ও কি আলো? এই জীবনে আলোর দেখা পাওনা ছিলো তবে আমার?
কি এক আত্মম্ভর আশায় আমি আরো জোরে ছুটতে থাকি.....।
এক সময় পথের শেষ হয় । শেষের পরে আরো কিছু তবু বাকি থাকে...সেই আলো! দীর্ঘ অন্ধকার সুড়ঙের শেষে আমার চোখ ঝলসে যায় আলোয় আলোয়। আমি চোখের সামনে সূর্য দেখি। আহ, শান্তি ! কত বছর এখানে এমন করে আটকে আছি আমি? কত কত বছর? বন্ধুহীন? আলোহীন? আজ আমার মুক্তির দিন। এই অন্ধকার সুড়ঙের চারপাশে সহস্র মাইলে ছড়ানো আলোয় কাছে আমার মুক্তি।ঠিক ওই মুহুুর্তে লাফিয়ে পড়ে তাকে আলিঙন করতে ইচ্ছা করে। একটা মুহুর্ত ভাবি। কি চাই? জীবন? বেঁচে থাকা? যেখানে কেবল অন্ধকার, শূণ্যতা আর একাকীত্ব? নাকি ওই আলোকিত প্রান্তর?
না, এমনি করে বেঁচে থেকে কোন লাভ নেই। আর অন্ধকার চাই না। ভয়াল বিশাল শূণ্যতা চাই না। চাই আলো, ওই আলোর মাঝে মিশে থাকতে চাই - জীবনের শেষ মুহুর্তে হলেও।
নিশ্চিত প্রাপ্তির আনন্দে আমার অন্ধকারাচ্ছন্ন কোঁচকানো মুখে অদ্ভুত শান্তির হাসি ফুটে...।
আমি পা বাড়াই....আলোর উদ্দেশ্যে...।
তবে তাই হোক।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




