somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অপমৃত্যুর দিনগুলি

১০ ই নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১২:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভার্সিটি লাইফ নাকি মানুষের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়।কিন্তু আকাশের ভার্সিটি লাইফটা ছিল সম্ভবত সবচেয়ে ভয়াবহ সময়। ফেলে আসা সেই দিনগুলো বারবার মনে পড়ছে তার। প্রদীপ নিভার আগে যেভাবে একবার দপ করে জ্বলে ওঠে, ঠিক যেন সেরকম একটা অনুভূতি হচ্ছে এই মূহুর্তে।
২০১০-২০১১ সালের কথা।
কি ভয়াবহ একাকী সময়গুলোই না কেটেছিল তার। একে একে সব স্বপ্ন, সব আশা গুড়ি গুড়ি করে শেষ হয়ে যাচ্ছিল। সামনের পথটা ছিল প্রচন্ড অন্ধকার সংকীর্ণ। ছোট্ট একটা ভুল, মূহুর্তেই তাকে ফেলে দিতে পারত একটা প্রচন্ড বিশ্রী একটা জগতে।যার পরিণতি হয়ত ধুকে ধুকে মরা ছাড়া আর কিছুই নয়। সেই হাই স্কুল লাইফ থেকেই আকাশের স্বপ্ন ছিল মিলিটারী একাডেমিতে যাওয়ার। যদিও ব্যাক্তি মানুষ হিসেবে আকাশ প্রচন্ড স্বাধীনচেতা, কিন্তু সেনা জীবনের প্রতি একটা প্রবল আকর্ষণ ছিল তার। দেশের সুরক্ষার চাইতে নাকি ভাল কিছুই আর নাই তার মতে। কলেজে পড়ার সময় তার জীবনের একটা নতুন টার্নিং পয়েন্ট পয়েন্ট হয়ে এসেছিল অনন্যা। মেয়েটাকে খুব ভালবাসত আকাশ। একটা সাজানো কবিতার বইয়ের মত ছিল তার স্বপ্নগুলো। কিন্তু এইচ.এস.সি এর পর সবকিছু কিভাবে যেন আকাশের নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাচ্ছিল। তার প্রকৌশলী বাবার ইচ্ছা ছিল সে ডাক্তার হোক। কিন্তু মেডিক্যাল কলেজের সেই বিদ্যাচর্চা তার কোনদিনই ভাল লাগেনি। শেষ পর্যন্ত সেই ডক্তারী পড়ার চাপাচাপি থেকে রক্ষা পেলেও সেনা জীবনকে আর আপন করা হয়নি। শেষ পর্যন্ত ইঞ্জিনিয়ারিং-কেই জীবনের সাথী করে নিল আকাশ।
ফার্স্ট ইয়ার তখন প্রায় শেষ, একদিকে সামরিক জীবনের স্বপ্ন বিসর্জন অন্যদিকে পছন্দের মানুষকে হারানোর বেদনা। অনন্যার সাফ জবাব- সে আকাশের সাথে কোন সম্পর্কেও জড়াতে বা যোগাযোগও রাখতে চাইনা। এমনিতে প্রচন্ড আবেগী-অভিমানী-চুপচাপ ছেলে আকাশ, যেন পথ হারানো পথিকের মত চলতে থাকল সে সময়টাতে। স্বপ্নের অপমৃত্যু হল, ভরসার মানুষটাও থাকল না; এক অর্থহীন জীবনের লক্ষ্যহীন পথে হেঁটে চেলেছিল সেই দিনগুলোতে। যে ছেলেটি একসময় দেশের ভাগ্য বদলের কথা বলত, দেশ মানুষের কথা বলত- সে যেন নিজেই তখন অন্ধকারের বাসিন্দা; অসম্ভব একা, বন্ধুহীন সেই সময়টাতে সামনের পথটাও ছিল তার অজানা।
তখন ঠীক মত ক্লাসে যেত না; সারাদিন বিভিন্ন বই পড়ে আর অনলাইনে বিভিন্ন সাইটে ঘুরে বেড়তো। সারাক্ষন হাতড়ে বেড়াতো নতুন একটা জীনবের, নতুন একটা স্বপ্নের। একবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সে রুয়েট ছেড়ে চলে যাবে, চলে যাবে দেশ ছেড়ে অনেক দূরে। আশেপাশের কেউ-ই তার সে সময়ের কাজগুলোকে ভাল চোখে দেখত না। সবার কাছে সে ছিল অসম্ভব বাজে অকর্মণ্য একটা মানুষ। কিন্তু এতকিছুর পরও স্বপ্ন-ভালবাসা হারানো সর্বহারা ছেলেটা বেঁচে থাকার একটা অবলম্বন খুজে বেড়াতো প্রতিনিয়ত। একটা সময় তার এমন অবস্থা ছিল যে চরম হিংস্রতা বা নিষ্ঠুরতাও তার কাছে স্বাভাবিক মনে হত।জীবন তার কাছে ছিল আবেগ অনুভূতিহীন প্রস্তরখন্ড। সহপাঠীরা ঠাট্টা করে তার নাম দিয়েছিল “রোবট”। তারপরও তার ভেতরের কষ্ট, স্বপ্ন হারানোর সেই অসহনীয় জ্বালা কেউ বোঝেনি। আসলে যে হতাশয় থাকে সেই শুধু বোঝে হতাশাগ্রস্থ মানুষের কষ্ট। মানুষের স্বাভাবিক আবেগ অনুভূতি হারিয়ে ফেলা যে কতটা যন্ত্রনার সেটা বলে বোঝানো মুশকিল। সেই পথটা যে কতটা অন্ধকার, কতটা ভয়ঙ্কর সেটা বলে বোঝানো অসম্ভব।
আজও সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়লে গা শিউরে ওঠে আকাশের। তার নিজেরই বিশ্বাস হতে চাইনা, কিভাবে একটা নতুন স্বপ্ন খুজে ফিরেছে সে সময়, কিভাবে সাড়ে তিনটা বছর নিজের সবচেয়ে পছন্দের মানুষটাকে ফিরে পাওয়ার ব্যর্থ চেষ্ট করেছে, যার জায়গা আর কাউকে দিতে চাইত না সে।সেই পছন্দের মানুষটা আজ অন্যের হয়ে গেছে। নতুন একজন আবার কবে আসবে তাও সে জানেনা। হারানো সব স্বপ্ন পেছনে ফেলে এসে আবার নতুন স্বপ্ন দেখছে আকাশ। আসলে মানুষের জীবন তো আর কোন কিছুর জন্য বা কারও জন্য থেমে থাকেনা। জীবন এগিয়ে চলবেই। জোর করে টেনে ধরে থাকলেও থেমে থাকবে না। জীবনে কি পেল না পেল সেটার হিসাব কষাটাও ছেড়ে দিয়েছে আকাশ। শুধু এটাই জানে এখন- “ বেঁচে থাকতে হবে; নিজের স্বপ্নের জন্য, ভাল একটা দিনের জন্য।“
কারন এটা গুরুত্বপূর্ণ নয় যে একটা মানুষ কোন ভাল সমাজে জন্ম নিল কিনা, বরং এটা গুরুত্বপূর্ণ যে সে একটা ভাল সমাজ নির্মানের জন্য কি করল।
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রিয় কন্যা আমার- ৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৫

ফারাজা তাবাসসুম খান-
অনেকদিন তোমাকে নিয়ে লিখি না। খুব ব্যস্ত আছি। আমার সব সময় নিয়ে নিচ্ছে অফিস। আমি অফিস থেকে তোমাকে ফোন করলে তুমি কথা বলতে চাও না। আবার আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Mystic River – জোয়ারে ফিরে আসে সবকিছু

লিখেছেন রাজসোহান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩১



১৯৭৫ সালের বোস্টন। শ্রমজীবী মানুষের সাধারণ পাড়া। রাস্তায় হকি খেলছিল তিনটে বাচ্চা ছেলে। হঠাৎ বল গড়িয়ে পড়ল ড্রেনে। খেলা ওখানেই শেষ। ফুটপাতের একপাশে তখন সদ্য ঢালা ভেজা সিমেন্ট। ছেলেগুলো কাঠি... ...বাকিটুকু পড়ুন

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের আধিপত্যবাদী নীতি

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৫২

নেপাল সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল পদমর্যাদা সম্প্রতি ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠকে দেওয়াকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশের কিছু সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি করেছে ।
গত ১৭ আগস্ট নেপালের রাজধানী... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×