আকাশ আহসান, নামের মতই মনটাও আকাশের মতই বিশাল। সেই বিশাল আকাশে মুক্ত বিহঙ্গের মত উড়ে বেড়ানোই যেন তার নেশা। খুব ছোটবেলা থেকেই অনেকটা যাযাবর জীবনে অভ্যস্ত আকাশ। কখনো পাহাড়ের সাথে মিতালী করেছে, তো কখনও আবার খেলা করেছে যমুনার জলে। কখনও ইট-কাঠের শহরে বেড়ে উঠেছে, তো কখনও আবার ঘুরে বেড়িয়েছে সীমান্ত শহরে। এই যাযাবর জীবনের মাঝেই সে ভালবেসে ফেলেছিল যে বস্তুটিকে তার নাম বাংলাদেশ।
দেখতে দেখতে জীবনের এক-তৃতীয়াংশই পার করে দিয়েছে আকাশ। এই সময়টার মধ্যে, কম চড়াই-উতড়াই পার করতে হয়নি তাকে।ছোট বেলা থেকেই মনে গেঁথে নিয়েছিল যে দেশ আর দেশের মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা। স্বপ্ন দেখেছে এডভেঞ্চার আর উড়ে বেড়ানোর। তথাপি বাংলাদেশের আর দশটা ছেলের মতই তথাকথিত বাস্তবতা, দায়বদ্ধতা, পারিবারিক ইচ্ছার কাছে নতি স্বীকার করতেই হয়েছে তাকেও। শুধুমাত্র পরিবারের বড়দের সম্মান করতে যেয়ে, তাদের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিতে যেয়েই নিজের ইচ্ছাকে কবর দিতে হয়েছিল তাকে। নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই পড়তে হয়েছে প্রকৌশল বিদ্যা। এক সময় যেই পেশার মানুষদেরকে প্রচন্ড অপছন্দ করত সে, শেষ পর্যন্ত সেই পেশাতেই যেতে হল তাকে, ব্যাপারটাকে এখনও মেনে নিতে পারেনা আকাশ। হয়ত সেদিন বড়দের ইচ্ছাকে সম্মান করতে যাওয়াটাই তার জীবনের সব চাইতে বড় ভুল ছিল, যার জন্য তাকে এখনও কষ্ট পেতে হয়।
অনেক এবছর আগের কথা, খুব সম্ভবত আকাশ তখন হাইস্কুলের শেষ দিকে। কে একজন যেন তাকে বলেছিল, “ আকাশ জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়ে যাবে, হাল ছড়বেনা কখনও। আর নিজেকে কখনও কারও কাছে কাছে সমর্পিত করবেনা।“ কথা দুটো এতটাই মনে ধরে ছিল অর যে কখনও এক মূহুর্তের জন্যেও ভুলেনি সে। অবশ্য এর ফলাফলটাও যে খুব নেতিবাচক হয়েছিল তাও না। আকাশের মধ্যে যে সীমাহীন আত্মবিশ্বাস আর অটল থাকার শক্তি জন্মেছে, সেটা সম্ভবত সেখান থেকেই। যদিও বহু চড়াই-উতড়াই পার করে অনেকটা পথ পারি দিয়েছে তবুও কখনও অনুভব করে যে আসলে তার প্রায় সবকিছুই শেষ হয়ে গেছে। কারন যা তার স্বপ্নের মধ্যে ছিল, তার কিছুই তো পেল না সে।
মাস কয়েক আগে যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া শেষ করল, তখন থেকে বারবার পুরোন স্মৃতি বারবার মনে পড়ছে তার। পুরোন ভুলগুলোকে শোধরাতে ইচ্ছা করছে তার, কিন্তু সে নিরুপায়। বারবার মনে হচ্ছে জীবনের সব স্বপ্ন হারিয়ে ফেলেছে, হারিয়েছে ভালবাসার মানুষকে, হারিয়েছে খুব সাধারন আবেগগুলোকে। ইদানিং জীবনটাই অসহ্য হয়ে উঠেছে তার কাছে। খুব কাছের মানুষগুলোর সাথেও বনিবনা হচ্ছে না কেন জানি। শুধু মনে হচ্ছে সেই সীমাহীন আত্মবিশ্বাস আর দৃঢ়তাই তাকে শেষ করে দিচ্ছে কুঁড়েকুঁড়ে। যে গুণগুলো একসময় তাকে চরম বিপর্যয় থেকে বাঁচাত, এতটা পথ পাড়ি দিতে সাহায্য করেছে; সেই ব্যাপারগুলোই এখন তার আশেপাশের মানুষের কাছে তাকে এখন অপ্রিয় করে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। সবার কাছে থেকে এখন তার হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করছে, চেয়ে চেয়ে দেখতে ইচ্ছে করছে নিজের ধ্বংস্তূপ। দেখতে ইচ্ছা করছে, কিভাবে বাকি সম্ভাবনাগুলো বাধাহীনভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। তারপর না হয়, আবার নিজেকে নিয়ে ভাবতে শুরু করা যাবে। একেবারে শুন্য থেকে নিজেকে গড়ে তোলার সংরাম করা যাবে। কি আর আছে জীবনে, কাটুক না যাবেভে কাটতে চাই জীবন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


