জাতি হিসেবে আমাদের একটা অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য আছে। যদি কোন একটা বিষয় নিয়ে ভাল বা খারাপ ধারনা কোন ভাবে আমদের মধ্যে ইনপুট করে দেয়া যায়, তাহলে ইনপুট যদি বদলেও যায় তবুও কয়েক জেনেরেশন ধরে আমাদের চিন্তার আউটপুট এর কোন পরিবর্তন হয়না।
যেমন ধরুন এখনো সাদা চামড়ার ইউরোপীয় দেখলেই তাকে প্রভু বা মালিক টাইপ ভাবতে আমরা বেশ পছন্দ করি। ব্যাপারটা এরকম যে কোন ব্রীটিশ ভিক্ষুকও আমদের কাছে মিলিয়নিয়ার।
আবার সেই ৭০ এর দশকে আমাদের লুটকরা টাকাই ফুলে ফেপে ওঠা পাকিস্থানি অর্থনীতির কথা সরণ করতেই এদেশে বহু মানুষের মনে ভেসে ওঠে এক টুকরো শক্তিশালী উন্নত পাকিস্তান। অথচ বাস্তবতা এই যে দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত পাকিস্থানের রিজার্ভ আর মুদ্রামান আমদের নিচে নেমে যাওয়ায় এই নিয়ে তাদের রথি-মহারথিদের চিন্তার শেষ নাই। এদের অনেকে আবার তাদের দেশে বাংলাদেশ মডেল কাজে লাগানো যাই কিনা সেটা নিয়েও নাকি ভাবছে।সেই ৭০ এর দশকে পাকিস্থান এর অর্থনীতি বেশ ভাল ছিল, তারা আমদের চেয়ে ভাল খেত-পড়ত। কিন্তু গত ৪০ বছরে আমরা ঠীক যতটা এগিয়েছি, তারা ততটা পিছিয়েছে।
এই জিনিসটার একটা সুবিধা আছে পুঁজিবাদের বিস্তারে। ধরুন কোন একটা কোম্পানি তাদের কোন প্রোডাক্ট নিয়ে এখানকার বাজার দখল করে ফেলল। এরপর সে যা-ই বেচুক না কেন আর অন্য কোন কোম্পানির যত ভাল জিনিস-ই আসুক না কেন, সেই কোম্পানি আরামে বস্তাপচা জিনিস দিয়েও দিব্বি আরও কয়েক বছর ব্যবসা করে যেতে পারবে। এতে বড় ব্যবসায়ীরা হয়ত কোন ভাবে ধাক্কা সামলে দাঁড়াতে পারলেও নতুন উদ্যোগতা তৈরী হবার সাম্ভাবনা কমে যায় বহুগুণ। যে কারনে সহজেই অপ্ল কিছু পুঁজিবাদীর কাছে পুরো জাতি জিম্মি থাকাটা সহজ এবং স্বাভাবিক। স্বাভাবিক এজন্য বললাম কেননা ওই যে, মানুষের চিন্তার আউটপুট বদলায় না, যেটাকে আমরা প্রচলিত ভাষায় ভাগ্য-এর উপর দিয়েই দায় সেড়ে দেই।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ১:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


