somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মিশ্র অনুভূতি

২২ শে মার্চ, ২০১৫ রাত ১:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২০০৮-০৯ এর সময়টায় বাংলা ব্লগ প্রথম আমার নজরে আসে। ওসময় ব্লগগুলো এতটা জনপ্রিয় হয়ে না উঠলেও বেশ ইনফরমেটিভ লেখা পেতাম। বিনোদন, হালকা, ভারী, রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, পারিবারিক, ভোজন রসনা- সবই থাকত। সবচেয়ে ভাল লেগেছিল যে বিষয়টা সেটা হচ্ছে সংখ্যায় কম হলেও মেয়েরাও ব্লগিঙে এসেছে। আর একটি বিষয় খুব উপভোগ করতাম। তাহল আদর্শিক কারনে যারা ব্লগিং করতে এসেছে তাদের সবাইকেই এখানে পাওয়া যেত। ডানপন্থী-বামপন্থী, পুঁজিবাদী-সাম্যবাদী, অবিশ্বাসী-বিশ্বাসী, জামায়াত-কমিউনিস্ট, লীগ-দল সবই এখানে ছিল। কামারুজ্জামানের ছেলে, (এইমুহুর্তে নামটা ঠিক মনে পড়ছে না। ওয়ামি অথবা ওয়াফি হবে সম্ভবত) ডানপন্থী কবি মতিউর রহমান মল্লিক, ঐসময়ে শিবিরের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার ব্লগও দেখেছি। অমি পিয়াল, নিঝুম মজুমদার, কৌশিক- এদের ব্লগও পড়েছি। এই জিনিসটা খুব ভাল লাগত। এপক্ষ-অপক্ষ দুইপক্ষের লেখা পড়ে সচেতন মানুষরা যেকোন বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসতে পারত।

আমি বিশ্বাস করি, প্রতিটি খোলা মনের মানুষ (মুক্তমনা শব্দটি ব্যবহার করলাম না, কিছু ব্যক্তি এই শব্দটির অপব্যবহারের মাধ্যমে একে গালির সমপর্যায়ে নিয়ে গেছেন) দুই পক্ষের যুক্তি শুনে সত্যকে বেঁছে নেয়ার সামর্থ্য রাখে। কাজেই সব পক্ষকে কথা বলার সুযোগ দেয়া উচিত। কে সীমালংঘন করল সেটাও সে লক্ষ্য করুক। সীমালংঘনকারীর প্রতি তার বিরুপ ধারনা জন্মাক। ২০১০ সাল পর্যন্ত মোটামুটি এরকম একটা সহাবস্থান দেখেছি। প্রথমে হালকা খোঁচা, ব্যঙ্গ শুরু হল। এরপর গালিগালাজ। এরপর শুরু হল আক্রমন- নিষিদ্ধ কর, ফাঁসি চাই, ব্যান মারো। কেউই কাউকে ছাড় দেয় নাই। ব্লগ দিয়ে ইন্টারনেট চালানো ছেলেগুলোও ফাঁসি চেয়েছে, ইরোটিক লেখালেখির মাধ্যমে চেতনা ছড়িয়ে দেয়া লোকটিও ফাঁসি চেয়েছে। এখান থেকেই ভিন্নমত দলন শুরু হল। বিএনপিপন্থী এবং ইসলামপন্থী (বিশেষত জামায়াতি) ব্লগারদের বের করে দেয়া হল। দুইপক্ষের যুক্তি শুনে সত্যটা বেঁছে নেয়ার সুযোগ আর রইল না।

প্যাঁচ বেশী দিলে টাইট হয়। কিন্তু প্যাঁচ অতিরিক্ত বেশী দিলে প্যাঁচ কেটে যায়। কে জানত যে শাহবাগ-হেফাযতের সময় হিটের সর্বোচ্চ শিখড়ে অবস্থান করা ব্লগগুলোর স্মরনকালের ভয়াবহতম ধ্বস নামবে দুই দিন বাদে? সামহোয়্যার ইন থেকে শুরু করে প্রতিটি ব্লগ ধ্বসে গেল। হেফাযত পরবর্তী সময়ে ব্লগের চাহিদা কমে প্রায় শূন্য হয়ে গেল। দেশে থাকা আমার এক ভাতিজা ক্যাডেট কলেজ ব্লগে লিখত। এক জায়গায় নিজেকে ব্লগার পরিচয় দেয়ায় তাকে মারধোর করা হয়েছিল। ব্লগার মানেই নাকি নাস্তিক! এই ভুল ধারনা ঢুকিয়ে দেয়ার পেছনে আমরা যারা ব্লগার এবং আমরা যাদের দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হই সেই ব্লগ কর্তৃপক্ষের অবদান নেহায়েত কম নয়। মডারেটর এবং কর্তৃপক্ষের আচরন অনেক সময়ই ভারত-বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনালের ইয়ান গোল্ড-আলীম দারের মত নিরপেক্ষ ছিল। এটা অস্বীকার করলে মিথ্যা বলা হবে।

মাস খানেক আগে দেশ থেকে খুব প্রিয় ছোট ভাই ফোন দিয়েছিল। বেশ নামী ব্লগার। ব্লগিঙের সাথে জড়িত আছে ২০১১ থেকে। শীতবস্ত্র বিতরনের জন্য টাকা চেয়েছিল। সেই সময়টায় আমি অলরেডি অন্য জায়গায় কন্ট্রিবিউট করে ফেলার কারনে ওকে সাহায্য করতে পারিনি। তবে প্রসঙ্গটির অবতারনা করলাম একারনে যে কথাপ্রসঙ্গে ও ব্লগগুলোর ভবিষ্যতের কথা বলছিল। সামহোয়্যারইন ব্লগের সুদিন ফিরিয়ে আনতে খুব শীঘ্রই পদক্ষেপ নেবে এরকম একটা আশা দেখালো সে। আমি বলেছিলাম সম্ভব তবে খুব একটা সহজ না।

ওর কথার প্রমান পেলাম কিছুদিনের মধ্যেই। সামহোয়্যার ইন ফেসবুকে অনেক টাকা-পয়সা ঢেলে কিছু ব্লগের লিঙ্ক প্রমোট করতে শুরু করল। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্নভাবে বিতর্কিত অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসা শুরু করে। প্রথম পাতায় যথেষ্ট পরিমান ধর্মীয় লেখা দেখতে পেতে থাকলাম। বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের জীবনীও দেখলাম প্রথম পাতায় আসতে। পর্নোগ্রাফি নিয়ে ব্লগার স্বর্নমৃগের অসাধারন একটি পোস্ট এবং অভিজিত ইস্যুতে সাবধানী পা ফেলে ব্লগার মাসুদ রানা কর্তৃক লিখিত একটি পোস্টের মাধ্যমে ধর্মপ্রিয় মানুষের আস্থা অর্জনের একটা প্রয়াস সামহোয়্যারইন কর্তৃপক্ষ দেখিয়েছে। ঘৃণার বিষবাষ্প ছড়ায় এরকম লেখা কমিয়ে আনা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি ভালবাসাটা সহনীয় মাত্রার মধ্যেই আছে, এটাকে উন্মাদনার রুপ দেয়ার আগের সেই প্রচেষ্টা আর লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। রাষ্ট্রধর্মের অবমাননাকারীদের প্রশ্রয় দেয়ার অভিযোগ ওঠে এরকম কোন ঘটনাও আর ঘটছে না। গনহারে ব্লগারদের সেইফ করা হয়েছে। সেদিন কে যেন বলল এখন নাকি ব্লগ খোলার ৩-৪ দিনের মধ্যেই সেইফ ব্লগার হওয়া যাচ্ছে। অথচ একসময় সামুর ৭ দিন আর সাহারা খাতুনের ৪৮ ঘন্টা নিয়ে কত হাসাহাসিই না হয়েছে!

এসব কিছু ভেবে আবার আশাবাদী হতে ইচ্ছে করে। তাহলে কি সেই সুন্দর দিনগুলো ফিরে আসছে? আবার কি তাহলে সহবস্থান হবে? বাঘে মহিষে এক ঘাঁটে জল খাবে? কিন্তু বাস্তবতা বড় নিষ্ঠুর। বাস্তবতা এরকম দূরাশা করতে ভয় দেখায়। তাহলে কি আবার ব্লগ উঠিয়ে এনে ছুঁড়ে ফেলা হবে এক পক্ষকে? আমরা যারা সত্যানুসন্ধানী, তারা কিন্তু চাই দু' পক্ষই থাকুক। অন্ধকার না থাকলে আলোর অস্তিত্ব টের পাওয়া যায় না। মন্দ না থাকলে ভালকে চেনা যায়। গনতান্ত্রিক বিশ্বে অপরাধীরও কিন্তু ভোটাধিকার আছে। আশা করব এবার আর আগের ভুলগুলো ব্লগ কর্তৃপক্ষগুলো (বিশেষত সামহোয়্যারইন) করবে না।

হ্যাপী (নাজনীন আক্তার হ্যাপী নয়, অক্সফোর্ড ডিকশনারীর Happy) ব্লগিং।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দিল্লির রাজপথে তরুণদের ‘জেনজি ২.০’ অভ্যুত্থান এবং বাংলাদেশের জুলাই-পরবর্তী রূপান্তরের নির্মম বাস্তবতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৮

ভারতের রাজধানী দিল্লির বুকে যা ঘটে গেল, তা সাম্প্রতিক ইতিহাসে সত্যিই অভূতপূর্ব। ভারতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা ও এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে ‘তেলাপোকা’ বা ককরোচ জনতা পার্টির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিমানবন্দরে নির্ঘুম রাত (সাময়িক পোষ্ট)

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৭

আমার এখানে বাজছে রাত প্রায় দুটা! এখনো জেগে আছি। জেগে থাকার শানে নুযুল হলো, আমি অনেকটা ফাইসা গেছি! হায়দার সাহেবের গানের মতো, "আমি ফাইসা গেছি, আমি ফাইসা গেছি মাইনকা চিপায়!"... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতামত পোস্ট: ১ আগস্ট ২৪ এ লেখা: আমার কথা ৯৫ ভাগ মিলে গেছে

লিখেছেন অর্ক, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭



এবারের ছাত্র আন্দোলনের মূল যে দাবি বা উদ্দেশ্য, তা আসলে অত্যন্ত সাধারণ। সে সব সকল মাধ্যমে বহু চর্চিত, প্রচারিত ও আলোচিত। তাই পুনরাবৃত্তি থেকে বিরত থাকছি। আন্দোলনের নেতৃত্ব যারা দিচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ম্যান মেড প্রাণীজ দুগ্ধ......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৯



ম্যান মেড প্রাণীজ দুগ্ধ......

বির উনি একজন গোয়ালা (গোয়ালিনী)। তাহার নিজের কোনো গরু(গাভী) নাই। তারপরও তিনি দৈনিক প্রায় একশত লিটার দুধ বিক্রি করেন। নিজের 'কয়েকজন বান্দা কাস্টমার আছে'।... ...বাকিটুকু পড়ুন

এলপিজি কার্ডে সংকট কমবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:১৬


অনেক হতাশার মধ্যেও মাঝেমধ্যে সরকারের কোনো ভালো উদ্যোগের খবর দেখলে ভালো লাগে। অন্তত মনে হয়, সাধারণ মানুষের কষ্টের জায়গাগুলো নিয়ে সরকার কিছুটা হলেও ভাবতে শুরু করেছে। তেমনই একটি খবর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×