somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যারা আলোর পথ দেখায়!

২৮ শে জুন, ২০০৬ সকাল ১১:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পৃথিবীতে কিছু কিছু মানুষ আছেন, যারা টাকা দিয়ে সম্মান কিনে নিতে চান। আর কিছু কিছু মানুষ আছেন যারা তাদের নিজস্ব কর্ম, চিন্তা-চেতনা তথা সার্বিকভাবে সমাজের দুর্যোগ মুহূর্তে বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে সম্মান পেয়ে থাকে। ড.মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যার তেমনি একজন মানুষ বলেই আমি মনে করি। আমি সব সময়ই চেষ্টা করি স্যারের লিখাগুলো বুঝতে, বুঝতে না পারলেও(তার মতো জ্ঞানী মানুষের সব কথা সব সময় যে আমার মতো ক্ষুদ্র একটা মানুষ বুঝতে পারবে তা আমি মনে করিনা) অন্তত পড়তে।

আজ(28শে জুন,2006) "দৈনিক প্রথম আলো" পত্রিকার "খোলা কলম" কলামে তার লিখাটা পড়লাম। শিরোনাম ছিলো "আমরা যারা শিক্ষক"। ভালো লেগেছে, স্যারের প্রতিটি কথা, যার পেছনে রয়েছে অকাট্য যুক্তি। সামপ্রতিক সময়ে শিক্ষকদের দাবী-দাওয়া নিয়ে সরকারের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা তিনি করেছেন। আমি কখনোই রাজনৈতিক আলোচনায় খুব একটা আগ্রহী নই। তবে সমাজের অবহেলিত, বলা যায় উপেক্ষিত শিক্ষক শ্রেণী নিয়ে কিছু কথা বলতে আগ্রহী।

সম্ভবত বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর সব দেশেই শিক্ষক শ্রেণীকে বিশেষ মর্যাদা দেয়া হয়। শিক্ষকরা সব সময়ই যে, সমাজের সম্মানিত শ্রেণীর ব্যক্তি এ নিয়ে কারো দ্বিমত থাকার কথা নয়। অথচ যাদেরকে মানুষ গড়ার কারিগর বলা হচ্ছে সেই শিক্ষক শ্রেণী আজ তাদের দাবী আদায়ের জন্যে রাজপথে নেমে এসেছেন। এটা যেমন সরকারের তেমনি আমাদের জন্যের লজ্জার বিষয়। একজন মানুষ যখন তার জন্যে দু'বেলা দু'মুঠো ভাত নিশ্চিত করতে পারেন না, তখন বেতন বৃদ্ধির দাবী নিয়ে তিনি রাজপথে নামবেন এটাই স্বাভাবিক। আর পেটে ভাত না থাকলে কোন মানুষের কাছ থেকেই ভালো কিছু আশা করাও ঠিক নয়।

অর্থনীতি আমি ভালো বুঝি না, ওটা বরাবরই আমাকে কাছে জটিল বিষয় বলেই মনে হয়। তবে এতটুকু বুঝি নির্বাচনের আগের বাজেটে তথাকথিত উন্নয়নের নামে "থোক বরাদ্দ" দিয়ে যে বিশাল অংকের টাকা আটকে রাখা হয়েছে, তা কোন ভালো লক্ষ্যকে সামনে রেখে করা হয়নি, এই অর্থনীতি যে সমাজের বিশাল একটা অংশের মানুষকে অন্ধকারে রেখে করা হয়েছে তা স্পষ্ট। সাঁড়ে চার বছরে তারা যা করতে পারেননি, মাত্র তিন/চার মাসে তা তারা কিভাবে করবেন আমি জানিনা, শুধু জানি এটা অসম্ভব। এই বরাদ্দের খুব সামান্য পরিমান টাকা যদি এই শিক্ষক শ্রেণীর দাবী পূরণের জন্যে ব্যয় করা হতো, তবে তা দেশের জন্যে ভালো বৈ খারাপ হতোনা অন্তত কিছু লোক(শিক্ষক) খেয়ে পরে বেঁচে থাকতে পারতেন।

"যে দেশে গুণের সমাদর নেই, সে দেশে গুণী জন্মাতে পারেনা"_ আমি ভুল করে না থাকলে কথাটি সম্ভবত ড.মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছিলেন। জাফর ইকবাল স্যার একটু ঘুরিয়ে বলতে চেয়েছেন যে দেশের সবের্াচ্চ পর্যায়ের একজন ব্যক্তি শিক্ষিত(অন্তত সম্মান শ্রেনী পাস করেননি) নন, তিনি শিক্ষকের মর্যাদা বুঝবেননা বা তাদের ব্যপারে সচেতন হবেন না এটাই স্বাভাবিক। আমি ব্যক্তিগত ভাবেও স্যারের সাথে একমত। একটা জাতির জন্যে ভালো এবং নিবেদিত প্রান শিক্ষক অত্যন্ত জরুরী, আর শিক্ষক তখনই নিবেদিত প্রাণ হবেন যখন তিনি আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল হবেন। শিক্ষার হার(শুধু স্বাক্ষরতা) বাড়ানোর জন্যে ভালো শিক্ষকের প্রয়োজন নেই, কিন্তু দেশকে সার্বিকভাবে উন্নয়নের পথে নিতে চাইলে সে জাতিকে সর্বপ্রথম শিক্ষিত হতে হবে, আর তার জন্যে চাই ভালো শিক্ষক।

সবশেষে বলবো সরকারের স্বদিচ্ছা, বড় বড় আমলাদের অপচয় একটু কমিয়ে এইসব অসহার শিক্ষকদের জন্যে কিছু টাকা খরচ করলে দেশের জন্যেই ভালো হবে। এই দেশের অর্থনীতি তাতে ভেঙ্গে পড়বেনা, আর এখনইবা অর্থনীতি কতটুকু ভালো অবস্থায় আছে তা অনেকেই আমার চেয়ে ভালো জানেন। তবে এখন সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন দেশের শিক্ষিত নাগরিক, ছাত্র-শিক্ষক, তথা সচেতন মানুষের শিক্ষকদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন। যার শুরু হতে পারে আমাদের এই সাইট থেকেই।

বিঃদ্র: লিখাটি পোস্ট করতে গিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলাম বলে লিখাটি আমাকে পুনরায় লিখতে হয়েছে, তবুও শ্রদ্ধেয় জাফর ইকবাল স্যারের লিখা পড়ে অনুপ্রাণিত হয়েই আবার লিখলাম। মানুষ হিসেবে আমার চিন্তা-চেতনায় বা জ্ঞানের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতা থাকতেই পারে, তাই আশা করবো আমার লিখায় কোন ভুল থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দাদুরা বুঝি এমনই হন

লিখেছেন শাওন আহমাদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬



সবুজের বুক চিরে ঝকঝক করে বাড়ির পথে এগিয়ে চলেছে ট্রেন। আনমনে জানলার দিকে তাকিয়ে সবুজের ছুটে চলা দেখছি। সদ্য ধোয়া রাস্তার পাশে শুকাতে দেওয়া পাটের গন্ধ এসে নাকে লাগছে। চোখ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্ভীক অভিযাত্রা

লিখেছেন আকিব হাসান জাভেদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৩

আমি চলি ঐ প্রান্তে,
যেখানে অসৎ থেকে মানুষ হয়েছে সৎ।
আমি চলি উড়ে উড়ে,
ডানাহীন পাখির মতো,
যেখানে দুর্বলতাকে জয় করে
হয়েছে দুঃসাহস।
আমি চলি শক্তির সাথে,
দেহ যায় না ঝুঁকে।
করি না প্রণাম,
করি না চাটুকারিতা আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুপ - একদম চুপ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



আমরা শুধু চুপ থাকবো -
আমাদের কথা বলার মুখ নেই
আমাদের দেখার মতো চোখ নেই
আমাদের শোনার মতো কান নেই
মনে হয়, মনে হয় -
আমাদের হাত-পাও নেই।

আমাদের বিবেক নেই
আমাদের চিন্তা-চেতনাও নেই
আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই মিউজিয়ামঃ স্মৃতির বিরুদ্ধে বিস্মৃতির লড়াই....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৩



জুলাই মিউজিয়ামঃ স্মৃতির বিরুদ্ধে বিস্মৃতির লড়াই....

১৫ আগস্ট আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে গিয়েছিলাম জুলাই মিউজিয়ামে। সেখানে গিয়ে মনে হলো- এটি শুধু একটি জাদুঘর নয়; এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক ভয়াবহ অধ্যায়ের বিরুদ্ধে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২





হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

...................................................................
মানচিত্রের আঁকাবাঁকা রেখায় তারে পাবেনা,
সে নদী তো চেনা কোনো ঠিকানায় যাবে না।
তার কোনো কূল নেই, নেই কোনো ঘাট,
সে বয়ে চলে একা, বুক জুড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×