ঠিক যখন আমি এই লিখা লিখছি ততক্ষণে সমগ্র পৃথিবী জেনে গেছে বাংলাদেশ নামের ছোট্ট একটা দেশের ক্রিকেট দল ভারতের মত শক্তিশালী ক্রিকেট দলকে কতটা লজ্জায় ডুবিয়েছে। বাসায় কেবল কানেকশন নেই, তাই অগত্যা নেট-এর সাহায্যই নিতে হলো, দেখলাম লাইভ খেলা। বাংলাদেশের এই জয়ে ভিত রচনায় অবদান সকল খেলোয়াড়ের, বিশেষ করে মাশরাফি, রফিক, রাজ্জাক, তামিম আর রহিমদের কথা না বললেই নয়। অনেকদিন বাংলাদেশের খেলা দেখ হয়নি, পত্রিকায় পড়েছি, ওয়ার্ম-আপ ম্যাচে বাংলাদেশের সাফল্যের কথা।
আমার বড় ভাই যিনি জার্মানীতে পড়াশোনা করছেন, তিনিও খেলা শুরু হওয়ার আগের রাতেও আমার সাথে কথা বলে বাংলাদেশের সম্ভাব্য পরাজয়ের কথাই মনে করিয়ে দিয়েছেন। বলেছেন,"দেশের খেলা দেখতে খুব ইচ্ছে করছে, কিন্তু আমি কিভাবে দেখবো টেন্ডুলকার, গাঙ্গুলী, দ্রাবিড়, শেবাগ ওরা আমাদের ছেলেদের নাস্তানাবুদ করছে?"। কিন্তু আমি বরাবরই বলেছি বাংলাদেশ ভালো করবে, জয় নিশ্চিত না হলেও দারুন উত্তেজনাময় একটা খেলা আমরা দেখবো বলেই আশা করছি। অবশেষে যখন খেলা শুরু হলো, তখন আমার বড় ভাইয়ার শুধু অবাক হওয়ার পালা। ভারতের এত শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন-আপকে যখন বাংলাদেশের বোলাররা কেবল সাজঘরে পাঠাচ্ছে তখনতো আমারও চোখ ছানাবড়া! আমিও কি ভেবেছি আমার বাংলাদেশের দামাল ছেলেরা এরকমভাবে মুড়ি-মুড়কি ভেবে সব উড়িয়ে দেবে! যতই দেখছিলাম ততই শুধু অবাক হওয়ার পালা! এ কি হচ্ছে! আমি স্বপ্ন দেখছিনাতো!
ভারতের ব্যাটিং শেষ হওয়ার পর বড় ভাইয়া আবারও হতাশার কথা বলতে শুরু করলেন, মনে মনে একটু ভয়ও হচ্ছিলো, কারণ ভারতের বোলিং এ্যাটাককে খুব খারাপ বলার কোন অবকাশ নেই। সত্যি কথা বলতে কি ভাইয়া সবসময়ই চাইতেন বাংলাদেশ সবাইকে হারিয়ে দেবে, কিন্তু বাস্তবতায় তেমনটি খুব বেশী হয়নি বলেই হয়তো তিনি খুব বেশী হতাশ ছিলেন, যদিও তিনি সত্যিকার অর্থে দেশকে খুবই ভালোবাসেন, আর ভালোবাসেন বলেই হয়তো পড়াশোনার চাপ ঝেড়ে ফেলে খেলা দেখতে বসেছিলেন।
বাংলাদেশের ব্যাটিং দেখেতো আমার মাথা নষ্ট হওয়ার জোগাড়, তামিমের ব্যাটিং দেখে মনে হলোনা ও 18-20 বছরের কোন তরুন, যথেষ্ট অভিজ্ঞ ব্যাটস্ম্যানদের মতো যখন জহির, হরভজনকে নাকানি-চুবানি খাওয়াচ্ছে তখন আমার বারবারই মনে মনে বলছিলাম,"হরিবাবু, তুমি তোমার টুপি সামলাও, নয়তো হরি রাম, হরি রাম বলতে বলতে বাড়ি যাও!"। অসম্ভব ভালোলাগা বাংলাদেশের ব্যাটিং দেখে নিজেও খুবই অবাক হয়েছি। মনে হয়েছে একটা কথা,"বাংলার দামাল ছেলেরা নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিলে, সবকিছুই সম্ভব"। প্রার্থনা করছি যেন, উপরওয়ালা মানজারুলের আত্নাকে শান্তি দেন, যেন বাংলাদেশের ক্রিকেট এবং সবের্াপরি আমার সোনার বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যায়। শুভকামনা থাকলো বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের প্রতি। বাংলাদেশের এই জয়যাত্রা অব্যাহত থাকুক।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মার্চ, ২০০৭ দুপুর ১:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




