মনে পড়ে তখন মাত্র ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য অপেক্ষা করছি। বদের হাড্ডি ছিলাম তাই তখনই বেশ পরিচিত একটা চ্যাট রুমে গিয়ে আড্ডা মারা হতো নিয়ম করে। অনেকের সাথেই পরিচয় হয়েছিল, ব্যাস তেমনি একদিন পরিচয় হয়ে গেলো তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া একটা বড় আপুনির সাথে।
অনেকক্ষণ চ্যাট করার পর আপুনি বললো:
- তুই কোথায় থাকিস? তোর ফোন নম্বর দেতো?
কোনকিছু না ভেবেই ফোন নাম্বার দিয়ে দিলাম। আপুটাও ফোন দিলো সাথে সাথে। কথা শুরু হলো। এটা-সেটা কত কি! বেশ কিছুক্ষণ কথা বলার পর আপুনি বলোঃ
- ঠিক আছে, তুই ভালো থাকিস। সময় করে আবার ফোন দিবোনে।
আমি ঠিক আছে বলে ফোনটা রেখে দিয়ে যেই উঠতে যাবো আবারও আপুর ফোন। আমি হ্যালো বলার আগেই আপু বলে চলছে।
- শোন, কাল ক্যান্টিনে চলে আয় তোকে শিঙারা খাওয়াবো।
আমি বললামঃ
- জ্বী আচ্ছা আসবো।
ফোনটা রেখে দিলো কোন কিছু না বলে। আমি ফোনটা রেখে দেয়ার সাথে সাথে আবারো ফোন। এবারও আপু।
- শোন, তোকে একটা কথা বলার জন্য আবারও ফোন দিলাম।
আমিঃ
- হুম সেটাতো বুঝতেই পারছি। বলো।
আপুঃ
- তোর ভয়েসটা অনেক সুন্দর।
এরপর আমি কিছু বলার আগেই আবারো ফোনটা রেখে দিলো। মনে মনে ভাবলাম, এই মাইয়ার মনে হয় মাথা খারাপ হয়ে গেছে।
পরের দিন সত্যি সত্যি আপুর সাথে দেখা হলো টি.এস.সিতে। তিনি তার বান্ধবীকে নিয়ে এসেছিলেন। আমাকে শিঙাড়া - চা খাওয়ালেন। অনেকক্ষণ কথা-বার্তা হলো। মানে আমার ইন্টারভিউ নেয়া হলো। কোন মেয়ের সাথে প্রেম-ট্রেম করছি কিনা, কাউকে পছন্দ করি কিনা! অপ্রয়োজনীয় সব প্রশ্ন। না না দিয়ে ইন্টাভিউ শেষ হলো।
যাবার আগে আপু বললো, তোর ভয়েস শুনে ভীষণ ভালো লেগেছিলো তাই তোকে দেখার জন্য আসতে বলেছি। তু্ইও মাঝে মাঝে ফোন দিস সময় করে। আমি তাকে আর কোনদিনও ফোন দেইনি, তা সাথেও আর কথা হয়নি।
হঠাৎ করেই তার কথা আজ মনে পড়লো। সুন্দর ভয়েসের প্রশংসা শুনিনি অনেকদিন হয়তো তাই। আপুর নাম্বারটা থাকলে আপুটাকে হয়তো ফোন দিতাম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

