বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের। যাদের আত্নত্যাগে আমাদের আজকের বাংলাদেশ। স্মরণ করছি সকল যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের, আর সে সকল মুক্তিযোদ্ধাদের যারা এখনো আমাদের মাঝে আছেন, অনন্য স্বাধীনতার স্বাক্ষী হয়ে। আর ব্লগের সবাইকে জানাই মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।
প্রিয় জন্মভূমি থেকে হাজার মাইল দূরে আছি। পরিবার, পরিজন, চেনা হাজারো মুখ ক্রমশই ভুলছি। শুধু লাল-সবুজের পতাকা আর "আমার সোনার বাংলা" ভোলা হয়না কখনো, ভুলতেও চাইনা। এতটা ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই পতাকা, এই স্বাধীনতা, ভুলি কি করে? পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকি না কেন, আমৃত্যু হৃদয়ে বাংলাদেশ।
বিগত ৪৫ বছরে বাংলদেশের অর্জনের খাতা বেশ ভারী হয়েছে। অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে প্রার্থনা করি, আমার বাংলাদেশ এগিয়ে যায় অদম্য শক্তিতে। আর সে শক্তি কিন্তুু শুধু আমি বা আপনি নই বরং আমাদের আগামী প্রজন্মও। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, নতুন প্রজন্ম বা অনাগত প্রজন্মকে আমরা কেমন বাংলাদেশ দিয়ে যাচ্ছি, যেখান থেকে ওরাই এগিয়ে নিয়ে যাবে ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে। কতটা প্রকৃত শিক্ষা পাচ্ছে আমাদের আগামী প্রজন্ম?
আজ প্রথম আলোতে স্থপতি মইনুল হোসেন স্যারের উপর লিখাটা পড়লাম। মহান বিজয় দিবসে যখন হাজারো মানুষ স্মৃতিসৌধে যাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের তথা মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা জানাতে, তখন অনেকেই হয়তো জানেন না যে কতটা অবহেলায় আর অযত্নে স্মৃতিসৌধের স্থপতি বিদায় নিয়েছেন অনেকের অগোচরে। আজ মনে পড়ে ছোটবেলায় শেখা ড. শহীদুল্লাহ স্যারের সেই বিখ্যাত উক্তি, "যে দেশে গুণের সমাদর নেই, সে দেশে গুণী জন্মাতে পারে না"। মনে পড়ে ড. হুমায়ুন আজাদের লিখা কবিতার সেই ভবিষ্যৎবাণী, "জানি সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে..."
তবে কি ভুলগুলো কেবলই আমাদের? খুব সম্ভবত। আসুন আবারো সবাই যুদ্ধে নামি, শপথ নিই ক্ষুধা আর দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার, আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই শান্তিপূর্ণভাবে পাশাপাশি থাকার। বিজয়ের চেতনাই হোক সুখী আর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রেরণা। নতুন প্রজন্মকে একটা সম্ভাবনাময় দেশ উপহার দেয়ার জন্য কাজ করার এইতো সময়।
বাংলাদেশ দীর্ঘজীবি হোক।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



