somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোয়ারেন্টিন জীবন

২৪ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ১১:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হঠাৎ করেই জানুয়ারির শেষে অফিস থেকে জানানো হলো, অফিসের কাজ কমে আসছে, প্রজেক্টও হাতে কম। লে-অফ হচ্ছে, কিছুটা ভয় পাচ্ছিলাম বৈ কি! অবশেষে ভয়টাই সঠিক হলো। ফেব্রুয়ারি থেকেই ঘরে বসে আছি, মাঝে কয়েকটা ইন্টারভিউ দিয়েছি, কিন্তু করোনার প্রভাবে সবকিছুই কোন কিছুই আর সামনের দিকে এগুচ্ছেনা। ফেব্রুয়ারি শেষ হয়ে মার্চ শুরু হলো, কিছু একটা হওয়ার আশাতেও গুড়েঁবালি ঢেলে করোনা এলো। নিউ ইয়র্কের সবকিছুই এখন বন্ধ, অনেকেই চাকুরি হারিয়েছেন, বাড়ি ভাড়া, ক্রেডিট কার্ড বিল নিয়ে হিমশিম খাচ্ছি আমরা সবাই। এপ্রিলে ট্যাক্স ফাইলিং করার শেষ সময় থাকলেও যেদিন আমি ফাইলিং করলাম সেদিনই জানলাম, ডেট বাড়ানো হয়েছে। যাইহোক ট্যাক্স রিটার্ন তেমন একটা কিছু পাবোনা এমনিতেও তাই খুব বেশী কষ্ট হয় নি।

সারাদিন বাসায় বসে থাকছি, খাচ্ছি, অবেলায় ঘুমোচ্ছি, নামাজ পড়ছি। এভাবেই দিন কাটছে। হঠাৎ করেই ব্যাকআপ ড্রাইভে অনেক পুরোনো কিছু গেম খুঁজে পেলাম। গেমগুলো ২০০০ সালের দিকে খেলেছি, মাঝে চলে গেছে প্রায় দু'ই দশক। গেম নিয়ে বসে পড়লাম বেশ কিছু ভিডিও ইউটিউবে আপলোডও করলাম, লোকজন খাচ্ছে না। খুব সম্ভবত খাবেও না, তবুও সময় পার করার জন্য গেম প্লেগুলো রেকর্ড করে আপলোড করছি। পুরোনো কিছু ব্যক্তিগত প্রজেক্ট হাতে নিয়েছি আবারও, কাজ করছি, দিন যাচ্ছে।

ঠিক কিভাবে সকাল গড়িয়ে সন্ধ্যে থেকে রাত হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছি না। অজানা উৎকন্ঠায় কাটছে দিনগুলো। করোনা সহসাই বিদায় নেবে না বুঝতে পারছি, মৃত্যু পথ যাত্রীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে, হয়তো আরো বাড়বে। পুরোটা শহর থমথমে হয়ে আছে, রাস্তায় কেউই বের হচ্ছে না, অজানা মৃত্যুর ভয় সবাইকে গ্রাস করছে। আমি মাঝে মাঝে হাটতে বের হচ্ছি, মন্দ লাগছেনা, কিন্তু মনে হচ্ছে অচেনা কোন শহরে বাস করছি। নিউ ইয়র্কে সাধারণত মানুষ গিজগিজ করছে, অথচ গত ক'দিনে বদলে গেছে সব। মানুষ নেই বললেই চলে, মাঝে মধ্যে গাড়ি চলে যাচ্ছে শাই শাই করে। আমার কেন যেন ভয় করছেনা, বরং একাকী জনশূণ্য রাস্তায় হাটতে বেশ ভালো লাগছে। মাঝে মাঝে অনেকেই ভয় দেখাচ্ছে, বের হতে বারণ করছে, মৃত্যুর ভয়, আমার ভয় করছে না। মৃত্যুতো অমেঘ পরিণতি, ভয় পেয়ে কি হবে, যেখানেই থাকি না কেন, সময় হলে যেতেতো হবেই।

বারগুলো বন্ধ, মিউজিক বন্ধ কিছুটা হলেও ভালো লাগছে। অশ্লীল নৃত্য ছেড়ে এখন বার ড্যান্সারও হয়তো নিজেকে ঢেকে মুড়িয়ে নিয়েছে পোশাকে, করোনার ভয়ে। অথচ, এইতো ক'দিন আগেও হয়তো তার উদ্দাম নৃত্য দেখে কোন অচেনা যুবক হয়তো তার কষ্টার্জিত টাকা উড়িয়েছে। অবাধ যৌনতা ছেড়ে নষ্ট ছেলেটাও এখন জীবনের মায়ায় নিতান্তই ভদ্র বনে গেছে। ভাবতে মোটেও খারাপ লাগছে না।

অনেকেরই কষ্ট হচ্ছে, আমারও হচ্ছে। চাকুরি নেই, পকেটে টাকা নেই, মাস শেষে দেশে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থাও নেই। সবকিছু থমকে গেছে। মদ, মেয়ে মানুষ আর টাকার নেশায় বুঁদ হয়ে থাকা এ শহরের প্রতিটি ইট-পাথরের গায়ে যে দুর্গন্ধ জমেছে, তা ধীরে ধীরে কাটছে। পুরোপুরি পবিত্র হয়তো হবে না, তবে কিছুটা গন্ধ কমবে বৈ কি!

যে পৃথিবীটা ক্রমাগত ছুঁটেছে শুধু টাকার নেশায়, অন্যায়, অবিচার, শোষন, নিপীড়নের সব মাত্রা ছাড়িয়ে, আজ সেখানেও পড়েছে করোনার দাবদাহের প্রভাব। প্রয়োজন ছিলো এই স্তব্ধতার, জ্ঞানের বাড়াবাড়ি আর আত্ম অহমিকার বিনাশ, প্রয়োজন ছিলো আয়নায় নিজের মুখোশের ভেতরে লুকিয়ে থাকা আমিকে দেখার। আমি, তুমি, আমরা কেউই হয়তো এই সুত্রের বাইরে নই, যে পাপের বোঝা বইছে মানবজাতি, তার মূল্যতো একদিন পরিশোধ করতেই হবে। তাহলে, আজ অযাচিত এই ভয় কিসের? যখন অন্যায় করেছো, শোষণ করোছো নিরীহ মানুষদের, অসত্যকে সত্য ভেবে নিজেকে কলঙ্কিত করেছো তখন কোথায় ছিলো এই ভয়?

অনেক কিছু কেড়ে নিয়ে, করোনা হয়তো ফিরে যাবে একদিন। কিন্তু মনে রেখো অন্যরুপে সে আবারও ফিরে আসবে, শতাব্দী থেকে শতাব্দীতে তেমনটাই হয়েছে, হতে থাকবে অনন্তকাল ধরে।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ১১:০৩
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুকেশ আম্বানি । বিশ্বের চতুর্থ ধনী

লিখেছেন শাহ আজিজ, ০৯ ই আগস্ট, ২০২০ সকাল ১১:৪৩



ধীরুভাই আম্বানি , রিলায়েন্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা যার কথা পড়ছিলাম ১৯৯৮ সালে ঢাকার একটি পত্রিকাতে । ১৯৭৪ সালে তার কোম্পানির ১০০ রুপির শেয়ার তখন ১৯৯৮ তে ৮০০০০ আশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

৯ আগস্ট ২৬তম আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসঃ চাই আদিবাসী হিসেবে তাদের স্বীকৃতি

লিখেছেন নূর মোহাম্মদ নূরু, ০৯ ই আগস্ট, ২০২০ দুপুর ১২:৩৩


আজ ৯ই আগষ্ট'২০২০ ইং ২৬তম আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। । এ বছর আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের ঘোষণা হচ্ছে COVID-19 and indigenous peoples resilience. যার বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘কোভিড-১৯ ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরণখাদ (প্রথম পর্ব)

লিখেছেন ঐশিকা বসু, ০৯ ই আগস্ট, ২০২০ দুপুর ২:২৩

সত্যস্বর পত্রিকার একটি প্রতিবেদন
২৩শে অক্টোবর, ২০০৮
অমরগিরিতে যুবতীর মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদন – অমরগিরিতে সাগরের উপকণ্ঠে এক যুবতীর ক্ষতবিক্ষত দেহকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শিখা দাস নামে ঐ যুবতী স্থানীয় একটি ধাবায় কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আলোহীন প্রদীপ একজন নয় এমন আরো বহু আছে বাংলাদেশে।

লিখেছেন নেওয়াজ আলি, ০৯ ই আগস্ট, ২০২০ দুপুর ২:৫৭

জেলে ভাল আছেন ওসি প্রদীপ বাবু। বাবুর মতোই ফুরফুরে মেজাজে দিন পার করছেন । তিনি জেলকর্মীদের সঙ্গে হাসিখুশি কথা বলছেন। তাদের কাছে শুধু একা থাকার সুবিধা চেয়েছেন। ওসি প্রদীপ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাস্কো দা গামা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ৮:২১



যুগ যুগ ধরে নানা দেশের, নানা জাতির লোকেরা ভারতে এসেছে, ভারতকে শাসন করেছে, বসতি স্থাপন করে থেকেছে। বছরের পর বছর এদেশে থাকতে থাকতে তাদের রীতি-নীতি, আদব-কায়দা, শিল্প-সংস্কৃতি-ভাষা, খাওয়া-দাওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×