somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ইফতেখার ভূইয়া
সাধারণ একজন মানুষ। বলার মতো বিশেষ কিছু নেই। মনের ভাবনাগুলো তুলে ধরতে চাই। ভালো লাগে কবিতা, লিখা-লিখি আর ছবি তোলা, এইতো! https://prokashoni.net

ইউ আর ইউর মেইন এনিমি

০২ রা জুলাই, ২০২২ রাত ১১:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোটবেলা থেকেই মানুষের দুঃখ-কষ্ট আমাকে ভীষণ পীড়া দেয়। বহুদিন বহুবার মানুষের কষ্ট দেখে চোখে জল এসেছে। তার চেয়ে বড় কষ্ট পাই কারো কষ্টে কিছু করতে না পারার অসহায়ত্ব থেকে। বড় হওয়ার পর থেকে ব্যাপারগুলো আরো অনেক বেশী জেঁকে ধরেছে মনে হয়।

মাত্র চার-পাঁচদিন আগের ঘ্টনা। অফিস শেষ করে জ্যাকসন হাইটের দিকে হেঁটে যাচ্ছি বাংলাদেশে কিছু টাকা পাঠাবো ভেবে। তখনও আমার পকেটে ২/১ ডলার ছাড়া কোন টাকা নেই। আমার বাসা থেকে জ্যাকসন হাইটসে যাওয়ার পথে আমি যে ব্যাংকগুলো ব্যবহার করি, তার তিনটে ব্রাঞ্চ পড়ে। প্রথমটা এলমহার্স্ট হাসপাতালের উল্টো দিকে, তবে ইদানীং সেখানে হোমলেস আর মাতাল লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ার আমি এই ব্রাঞ্চ এড়িয়ে চলি। লোকগুলো দরজা ধরে দাঁড়িয়ে থাকে, ঢোকার বা বের হওয়ার সময় দরজা খুলে দেয় এই আশাতে যাতে কেউ তাদের দু'এক টাকা দেয়। আমিও দিয়েছি প্রথম দিকে এখন অবশ্য দেই না। কারণ পরবর্তী দেখলাম লোকগুলো টাকা দিয়ে মদ/গাঁজা কিনে খায়, প্রায়ই রাস্তার এখানে সেখানে পড়ে থাকে।

এই ব্রাঞ্চের উল্টো দিকেই একটা মোবাইল ফুড ভেন্ডর আছে। যারা যায়রো যাতীয় খাবার বিক্রি করেন। এর এটা বাংলাদেশী লোক চালায়, তার কাছ থেকেও বহুদিন খাবার কিনে খেয়েছি, মোটামুটি মানের। আমি ভেন্ডরের পাশ দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় দেখলাম এক ককেসিয়ান ভদ্রলোক, বাঙালী দোকানদারকে বলছে, "আমি খাবার কিনবো না, কিন্তু ঐ খাবারটির দাম কত?" লোকটি ময়লা টি-শার্ট পড়া। কিন্তু পাশ কাঁটিয়ে কয়েক কদম যাওয়ার পর আমি পেছনে ঘুরে তার চেহারা দেখার চেষ্টা করলাম। চেহারায় কোন হোমলেসনেস এর কোন লক্ষণ দেখা গেলো না। খুব সম্ভবত সাম্প্রতিক সময়ে চাকরি-বাকরি হারিয়ে কোন সমস্যায় পড়েছেন বলে মনে হলো। সত্য-মিথ্যে আল্লাহই ভালো জানেন! আরো কয়েক কদম হেটে যেতেই মনে হচ্ছিলো লোকটা খুব সম্ভবত ক্ষুধার্ত, তাকে আমার সাহায্য করা উচিত। আমেরিকায় এসে "ক্ষুধা" শব্দকে আমি নতুনভাবে অনুধাবন করতে শিখেছি।

লোকটা শুকনো মুখে চলে যাচ্ছিলো, তার মুখে ক্ষুধা এবং হতাশা দুটোই বেশ পরিষ্কার বোঝা গেল। আমি কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, "স্যার, ইফ ইউ ডোন্ট মাইন্ড মি আসকিং, আর ইউ হাঙ্গরি?"
সে মৃদু হেসে বললো: "ইয়াহ বাট দে আর এক্সপেন্সিভ"।
আমি বললাম, "কাম উইথ মি স্যার"।
ভেন্ডরের কাছে গিয়ে ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করলাম, "হোয়াট ইউ ওয়ানা হ্যাভ?"

সে চিকেন যায়রো খেতে চাচ্ছিলো। আমি বাঙালী দোকানদারকে বললাম, "ভাই, এই ভদ্রলোককে একটা চিকেন যায়বো দেন।"
এবার লোকটা নিজে থেকেই জিজ্ঞেস করলো, "ক্যান আই হ্যাভ এ কোক?"
আমি হেসে দিয়ে বললাম, "স্যোর, গো এহেড"।
সে একটা ক্যান হাতে নিয়েই, ঢোক ঢোক করে খেতে শুরু করলো, মনে হলো সে তৃষ্ণার্তও ছিলো।

বাঙালী লোকটাকে জিজ্ঞেস করলাম ভাই কত হলো? এ পর্যায়ে আমার পকেটে হাত চালিয়ে ওয়ালেট বের করেই মাথা নষ্ট হবার যোগাড়। দেখি পকেটে ১টাকা আছে! ইজ্জত আমার যায় যায় অবস্থা। বাঙালী ভাইকে বললাম আপনি যায়রো বানাতে থাকেন ওনার জন্য আর আমি রাস্তার ওপাশ থেকে ব্রাঞ্চে গিয়ে টাকা নিয়ে আসি।

অনিচ্ছা স্বত্বেও আমার অপছন্দের কাজ করতে হলো, হোমলেস ওয়ালা ঐ ব্রাঞ্চে গিয়ে টাকা তুলে এসে বিল পরিশোধ করলাম। ঘুরে যে হাটা শুরু করবো বলে পা বাড়িয়েছি আমার পথে, ককেসিয়ান লোকটা একটু জোরেই বললো, "থ্যাঙ্ক ইউ, স্যার"।
আমি "ইউ ওয়েলকাম, টেক কেয়ার" বলে খুশি মনে হাটা শুরু করলাম।

পুরোটা পথ হাটলাম আর ভাবলাম রাব্বুল আলামিন মানুষকে কখন, কিভাবে, কোথায় পরীক্ষা করেন, কি অবস্থায় কিভাবে রাখেন সেটা বলা মুশকিল। এক সময় বিশেষ করে স্কুল/কলেজ জীবনে তার মতো আমিও কত ক্ষুধায় কাতর থেকেছি! আজ যখন অন্য কাউকে ঐ অবস্থায় দেখি তখন খারাপ লাগে বৈ কি! তবে আমার জীবন থেকে যে শিক্ষা পেয়েছি সেটা হলো, নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য নিজেকেই চেষ্টা করে যেতে হবে। কিছু পথ নিজেকে একাই হাটতে হয়, কিছু পথ বরাবরই দীর্ঘ মনে হয়। পথ চলতে গিয়ে শহীদ হওয়া অসম্ভব নয়, তবে মানুষ কখনোই শহীদদের কথা প্রতিদিন মনে করে না, জয়ী বা বীরদের স্মরণ করে শ্রদ্ধাভরে। ব্যর্থতার গল্প কেউ শোনে না, শুনতেও চায় না, মানুষ বরাবরই সফল হতে চায়, সফলতার গল্প শুনতে চায়, অনুপ্রাণিত হতে চায়। আপনার গল্প আপনাকেই রচনা করতে হবে, সফলতা বা ব্যর্থতা দু'টোই আপনার হাতে।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুলাই, ২০২২ রাত ১১:১১
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী, কিন্তু ঘরে ফিরে তিনি একজন বাবা

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:২৩



বেশিরভাগ মানুষ বিজ্ঞানীদের জীবনের সাফল্যটাই দেখে; কিন্তু সেই সাফল্যের পেছনে কত বছরের শ্রম, ত্যাগ আর ব্যক্তিগত জীবনের কত কিছু বিসর্জন দিতে হয়েছে, সেই গল্পটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের অজানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংবাদপত্র

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৩



একালে কি কেউ কেউ সাতসকালে এখনো অপেক্ষায় থাকেন কখন আসবে সংবাদপত্র?
একদা যিনি সংবাদপত্র বয়ে আনতেন তার সাথে কতো মান- অভিমানের খেলা!
এমনও হয়েছে বিলম্ব দেখে তার আগমনী পথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতীয় জন্মসনদে ভুলের ভূত আর সাভারের জালিয়াতি চক্র: সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কি কোনোদিন থামবে না?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০০



আজ ৬ অক্টোবর, জাতীয় জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে—‘নির্ভুল নিবন্ধন, নিশ্চিত হবে সুশাসন’। অথচ বাস্তবতা যেন এই স্লোগানের একদম উল্টো! সরকারি নথিতে যখন সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ, উদ্বাস্তু এবং রোহিঙ্গা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪২



দেশভাগের অনেক পরে আমার জন্ম।
আমি দেশভাগের ইতিহাস জানি। দেশভাগের পরে যা হয়েছে, অতি মন্দ সব ঘটনা ঘটেছে। লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং হাজার হাজার নারী নির্যাতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেশে এখন শেখ হাসিনা প্রয়োজন- নাকি আমরা তাঁর সময়ের কিছু বাস্তবতাকে নতুন করে অনুভব করছি?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭


এদেশে এখন শেখ হাসিনা প্রয়োজন- নাকি আমরা তাঁর সময়ের কিছু বাস্তবতাকে নতুন করে অনুভব করছি?

একটা সময় ছিল- শেখ হাসিনার নাম উচ্চারণ করলেই কারও চোখে ক্ষোভ, কারও মনে শ্রদ্ধা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×