somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ইফতেখার ভূইয়া
সাধারণ একজন মানুষ। বলার মতো বিশেষ কিছু নেই। মনের ভাবনাগুলো তুলে ধরতে চাই। ভালো লাগে কবিতা, লিখা-লিখি আর ছবি তোলা, এইতো! https://prokashoni.net

সনি সিডি-আর.ডব্লিউ ডিস্ক - স্মৃতির পাতায়

০৮ ই এপ্রিল, ২০২৩ দুপুর ১:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


প্রথম সিডি-রম ড্রাইভ পেয়েছিলাম আমার প্রথম কম্পিউটারের সাথে ১৯৯৫/৯৬ সালের দিকে হয়তো, সঠিক সালটা এই মুহূর্তে ঠিক মনে করতে পারছি না। আমার শ্রদ্ধেয় ছোট চাচা জার্মানী থেকে আমার জন্য কম্পিউটারটি নিয়ে এসেছিলেন। বাংলাদেশে এসে খুব সম্ভবত "ডেফোডিল কম্পিউটার" থেকে রঙিন মনিটর কিনে দিয়েছিলেন। চাচার সাথে সবুর সাহেবের বেশ ভালো যোগাযোগ ছিলো সে সময়, তাই কম্পিউটার সম্পর্কিত হার্ডওয়্যার যেমন ফ্লপি ডিস্ক, সিডি ইত্যাদি ডেফোডিল থেকেই সংগ্রহ করা হতো।

যাইহোক, পরে অবশ্য আমার প্রথম সিডি রাইটার/রি-রাইটার ড্রাইভ হাতে আসে ২০০১ সালের দিকে। অনেক চাপাচাপি আর বোঝানোর পর, বাবা অনেকটা না বুঝেই আমাকে সিডি রি-রাইটার ড্রাইভটি কেনার জন্য ১১ হাজার টাকা দিয়েছিলেন অনেকটা দ্বিধা নিয়ে। সে সময়ে এই টাকা পাওয়াটা কল্পনাতীত ছিলো আমার জন্য। সে সময়ে আমার কথার উপর বিশ্বাস করে বাবা টাকাগুলো দেয়ার জন্য বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। যদিও এটা জানানো উচিত ছিলো আরো বহু আগেই। নিজের ব্যক্তিগত প্রয়োজন ছাড়াও কিছুটা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যও ছিলো। সে সময়ে সিডি রি-রাইটার অতটা সহজলভ্য ছিলোনা। বন্ধু-বান্ধব, পাড়ার প্রতিবেশীরা আমার কাছে আসতেন সিডি বার্ন করার জন্য। কম-বেশী আয় করেছি সেখান থেকে। কিন্তু রি-রাইটেবল ডিস্ক অত্যন্ত দামী এবং কম সহজলভ্য ছিলো না তাই সেটা নিজের অর্জিত টাকা থেকেই কিনতে হয়েছিলো। আর সেটা ছিলো সম্ভবত সনির একটি সিডি রি-রাইটেবল ডিস্ক।

সম্প্রতি এ্যামাজনে ঘাটাঘাটি করতে গিয়ে সেই ডিস্কটি আবার খুঁজে পেলাম মনে হলো। দেরী না করে ১টি ডিস্ক কিনেও ফেলাম। স্মৃতির রোমন্থেনের বিষয়টি অবশ্যই ছিলো, কিন্তু বরাবরের মতোই কিছুটা প্রয়োজনও ছিলো। আপনাদের মনে থাকতে পারে আমার বিগত কোন এক লিখায় উল্লেখ করেছিলাম যে আমি ২০১৯ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রচুর সিডি রিপ করে নিয়ে এসেছিলাম। সমস্যা হলো সিডিগুলো রিপ করা হয়েছিলো ওয়েভ ফরম্যাটে প্রত্যেকটি একক ট্র্যাক হিসেবে। এভাবে সিডি আর্কাইভ করা কিছুটা বিপজ্জনক কারণ তাতে ডাটা লস বা করাপ্ট হওয়ার একটা সম্ভাবনা থেকেই যায়। সমাধান রয়েছে কিন্তু সেটা বেশ জটিল।

সমাধান হলো প্রতিটি ট্র্যাক ক্রমানুসারে সাজিয়ে সেটাকে সিডি রি-রাইটেবল ডিস্কে পুনরায় বার্ন করা বা আবার অডিও সিডি তৈরী করা। তারপর সেটাকে সফটওয়্যার দিয়ে সবগুলো ট্র্যাককে একটি ওয়েভ ফাইলে রিপ করে তা "কিউ শিট" তৈরী করা। তাতে করে একটি অডিও সিডিতে ১০/১২ ট্র্যাক থাকলেও সবগুলো রিপ হবে একটি ওয়েভ ফাইলে এবং সাথে থাকবে একটি কিউ শিট, ব্যাস। এবার ফাইল দুটোকে একসাথে একটি জিপ আকারে সেভ করে রাখা। এভাবে রাখা হলে ডাটা করাপশনের কোন ভয় থাকে না। তবে মনে রাখতে হবে জিপ ফাইটি যেন শুধু রিডেবল হয়, রাইটেবল নয়। এভাবে যতগুলো খুশি ডিস্ক আপনি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করতে পারবেন। অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যাপার কিন্তু বিষয়টি আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার প্রতি সপ্তাহে কিছু কিছু সময় ব্যয় করে আমি ১০০/১৫০ এ্যালবাম সংরক্ষণ করার কাজ হাতে নিয়েছি।

মোটামুটিভাবে এভাবে সবগুলো সিডি এ্যালবামের কাজ শেষ হলে, গুচ্ছ গুচ্ছ এ্যালবাম নিয়ে তা ব্লু-রে এম-ডিস্কে এবং অনলাইনে আমার ক্লাউড ড্রাইভে সংরক্ষণ করার ইচ্ছে আছে। একটি ১০০ গিগাবাইটের এম-ডিস্ক প্রায় ১০-১২ ডলার। একটি মিউজিক এ্যালবাম মোটামুটিভাবে ৭০০ মেগা বাইটের হলে একটি ১০০ গিগাবাইটরে এম-ডিস্কে প্রায় শ'খানেকের বেশী এ্যালবাম সংরক্ষণ করা যাবে। মোটামুটি সব হিসেব করেই কাজে হাত দিলাম। তবে এবার অবশ্য সিডি রি-রাইটার নয় বরং ব্লু-রে রিরাইটেবল ড্রাইভ দিয়ে পুরো কাজটি করা হবে। মাতসিতা বিডি-এমএলটিইউজে২৭২ ড্রাইভটি প্রায় দু'বছর আগে কিনেছিলাম সেটাই এবার আমার সঙ্গী হচ্ছে।

আর এই পুরো কাজে আমাকে সহযোগীতা করবে আমার এই সিডি রি-রাইটেবল ডিস্ক। দেখা যাক কতটুকু কি করতে পারি।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০২৩ দুপুর ১:৪৩
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ঘাটতি : ভারসাম্যের লক্ষ্যে বাংলাদেশে উৎপাদন ও রপ্তানি কৌশল

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:০২


ভারত বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও নিকটতম বাণিজ্য অংশীদার। ভৌগোলিক নৈকট্য, দীর্ঘ সীমান্ত, পরিবহন সুবিধা এবং পরস্পর-নির্ভরশীল উৎপাদনব্যবস্থার কারণে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

//১৫ ই আগস্ট ১৯৭৫ ও জীবনের সমীকরণ//

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৫৯

নিশ্ছিদ্র পরিকল্পনার পর নিখুঁতভাবে তা মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগ করা হলো, অতঃপর আশানুরূপ অথবা আশাতীত ফলাফলও এলো। আপাতদৃষ্টিতে সমীকরণের রাইট হ্যান্ড সাইড আর লেফট হ্যান্ড সাইট হয়ে পরলো কেমন যেন ভারসাম্যহীন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভবত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবেই তারেক রহমান ভারতে যাচ্ছেন....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৭

সম্ভবত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবেই তারেক রহমান ভারতে যাচ্ছেন, যদিও এখন পর্যন্ত সফরটি চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশের সম্মতি আদায়- এক্ষেত্রে বাংলাদেশের 'কচিকাঁচা কুটনৈতিকদের' হারিয়ে ভারতীয় 'প্রবীণ কুটনৈতিকরা' জয়ী হয়েছে।

শেখ হাসিনার আমলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর কারা মিষ্টি বিতরণ করেছিল?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:১৬


যদি কোনোদিন টাইম ট্রাভেল মেশিন আবিষ্কার হয়, পঁচাত্তরের ঘটনা নিজের চোখে দেখার চেষ্টা করতাম। সে সময় কিছু মানুষ মিষ্টি বিতরণ করেছিল বলে শোনা যায় । আমি তাদের কাছ থেকে মিষ্টি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:০২



আজ জাতীয় শোক দিবসের।
জাতির পিতাকে আজকের দিনে স্বপরিবারে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছিলো। আজ শেখ মুজিবের ৩২ নম্বরের ভাঙ্গা বাড়িতে একজন গিয়েছেন শ্রদ্ধা জানাতে। তার হাতে ফুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×