
আমেরিকায় অবস্থানকালে আমি নিয়ম করেই স্থানীয় নিউ ইয়র্ক টাইমস, নিউ ইয়র্ক পোস্ট, গথামিস্ট, এমএনওয়াই, মেট্রো ইত্যাদি পড়ি। মাঝে মধ্যে বাংলাদেশের সংবাদপত্রের সাইটে ঢুঁ মেরে হেডলাইনগুলো মূলত দেখা হতো। একটা সংবাদ প্রায়ই চোখে পড়তো যেখানে বলা হতো যে আজ ঢাকার আবহাওয়া অত্যন্ত খারাপ। বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত আবহাওয়ার নগরীর একটি হলো ঢাকা। এর কারণ অজস্র হলেও, এর সমাধান খুবই অল্প এবং সেগুলোও অসম্ভব প্রায়। আদতে এর কোন সঠিক বাস্তবসম্মত সমাধান আছে কিনা তা আমারও জানা নেই। থাকলেও বাঙালী জাতি সেটা নিয়ম মেনে সঠিকভাবে সম্পাদন/সম্পন্ন করতে পারবে বলে আমি মনে করি না। আর আমাদের "না পারার" এই বাঙালী রীতি ও জাতিগত সমস্যা বেশ পুরোনো।
এখন বাংলাদেশে অবস্থান করার সুবাদে, অনেকটা না চাইতেও অনেক খবর আমার কাছে চলে আসে। পুরোনো অভ্যেসের মতোই মাঝে মাঝে আমিও না চাইতেও বাংলাদেশের কিছু সংবাদপত্রের সাইট খুলে ফেলি, বেশীরভাগ সংবাদই বেশ হতাশাজনক। মাঝে মাঝে মনে হয় এ দেশের সাংবাদিকরা ট্রমাটাইজিং খবর বেশী বেশী করে পাবলিশ করেন, পাবলিককে খাওয়ানোর জন্য। হয়তোবা তাতে কিছুটা কাজও হয়, তা না হলে এত বেশী ডিপ্রেসিং খবর কেন এ দেশের সংবাদ মাধ্যমে আসে সেটাও ভাববার মতোই বিষয়! অযাচিত আর ফালতু খবরই বেশী। ভারতের কোন নায়িকা বা ক্রিকেট খেলোয়াড় কে কার সাথে ইটিশ পিটিশ করছে, কে কোথায় হানিমুনে যাচ্ছে, অমুক তামিল নায়িকা, তমুক তেলেগু নায়ক। সব মিলিয়ে একটা বিচ্ছিরি অবস্থা। মাঝে মাঝে এ দেশকে ভারতের কোন প্রদেশ বলেই মনে হয়। এসব দিকে আবার কিছু নামকরা সংবাদপত্র রয়েছে যারা এক কাঠি বেশী সরেশ। তথাকথিত প্রগতিশীল এসব সংবাদ মাধ্যমের ভারতীয় সংবাদ প্রকাশ না করলে যেন সাংবাদিকতার মানদন্ডে পিছিয়ে পড়েন। বাংলাদেশীরা এদের অবশ্য ভালো করেই চেনে।
বেশীরভাগ সংবাদের টাইটেল দেখে আর পুরো খবর পরার ইচ্ছে জাগে না। মাঝে মাঝে কিছু ভালো সংবাদ পাই, পড়ে ভালোলাগে তবে তাদের সংখ্যা খুবই নগণ্য। যেমন নব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক সাহেবকে নিয়ে বেশী কিছু খবর চোখে পড়েছে। তিনি সময় মতো অফিস যাচ্ছেন, ছুটির দিনেও কাজ করছেন, সবাইকে সময়মতো অফিসে আসতে বলেছেন, বিরোধী দলের নেতার স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর রাখছেন, নিজের নেতাদের কড়া কিছু উপদেশ দিয়েছেন। সবগুলো বিষয়ই আমার ভালো লেগেছে, আশা করছি তিনি তার এই ইতিবাচক ধারাগুলো অব্যাহত রাখবেন।
রাজনীতি আমার পরিবারে নেই, আমিও কোন রাজনৈতিক দলের সমর্থক নই। তবে দিন শেষে দেশের জন্য যারা বা যিনি ইতিবাচক কাজ করবেন তাদেরকে বা তাকে সাধুবাদ জানাতে আমার আপত্তি নেই। তেমনি অপছন্দনীয় বিষয় সামনে আসলে সেটারও সমালোচনা করা জরুরী। যেমন হঠাৎ করেই কেন্দ্রীয় বাংকের গভর্ণরকে সরিয়ে দিয়ে একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে কেন এই পদে বসানো হলো, তা আমার বোধগম্য হয় নি। এটাকে ঠিক ইতিবাচক পদক্ষেপ বলেও আমার মনে হয় না। তবে খুব শীঘ্রই এর ফলাফল দেখা যাবে বলে আমার ধারনা। আমি দেখতে চাই পাচার হওয়া টাকা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে উনি কি করেন, আর দেশের রিজার্ভের অবস্থা ও বাংলাদেশের টাকার মান কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।
প্রয়াত আইয়ুব বাচ্চু ভাইকে মরনোত্তর একুশে পদক ২০২৬ প্রদানের মাধ্যমে তাকে সম্মানিত করা হলো। বিষয়টি আমার ভালো লাগলেও বারবারই মনে হয়েছে তিনি বেঁচে থাকাকালীন সময়ে পদকটি দেয়া হলে হয়তো বিষয়টি আরো সুন্দর হতো। শিল্পী তার কর্মের একটি জাতীয় মূল্যায়ন দেখে যেতে পারতেন, সম্মানিত বোধ করতেন। কাজের মূল্যায়ন জীবদ্দশায় না হলে সেটা অনেকটাই অপ্রয়োজনীয় বলে আমার মনে হয়। কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হওয়া অস্বাভাবিক নয় তবে জীবিত থাকতেই তাদের মূল্যায়ন হওয়াটা জরুরী। এ বছর আরো যারা একুশে পদক পেলেন তাদেরকেও শুভেচ্ছা জানাই। ধন্যবাদ।
ছবি কপিরাইট: এডোবি স্টক
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



