
ব্যক্তিগত জীবনে আমি প্রথাগত ফকির-দরবেশ কিংবা পীর ধারনায় বিশ্বাস করি না। আমার ধারনা সৃষ্টিকর্তার সাথে মানুষের সম্পর্ক হওয়া উচিত ওয়ান টু ওয়ান, মানে সরাসরি সৃষ্টিকর্তা আর সৃষ্টির সম্পর্ক, মাঝখানে কারো আসার সম্ভাবনা বা প্রয়োজন নেই। তবে কেবল আমার ধারনাই যে সঠিক সেটাও কাউকে জোর করে বিশ্বাস করতে বলছি না। কেউ চাইলে বিশ্বাস করতে পারেন, না করলেও কোন সমস্যা নেই।
আবার কেউ যদি মনে করেন যে কোন কারনেই হোক তার ফকির-দরবেশ প্রয়োজন আছে, সেখানেও আমি সমস্যা দেখি না। বিষয়গুলো নিতান্তই ব্যক্তিগত ধ্যান-ধারনার ও দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে পড়ে বলে আমার মনে হয়, এখানে জোর-জবরদস্তির কোন অবকাশ নেই। তবে এক জীবদ্দশায় নিজের চারপাশে আর পত্র-পত্রিকায় এ ধরনের পদবীধারী এত বাটপার আর ধাপ্পাবাজের ব্যাপারে জেনেছি যে, এখন সাধু-সন্ন্যাসীকেও প্রথম দেখায় বিশ্বাসীদের তালিকায় নেয়ার সাহস হয় না। আবার এদের সবাইকে ঢালাওভাবে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা ও বিচার করার বিষয়টিও আমার কাছে অনৈতিক বলে মনে হয়।
এতগুলো কথা বলার মূল উদ্দেশ্য ছিলো কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের তথাকথিত পীর শামীম রেজার বিষয়ে কিছু কথা বলা। লোকটার বিষয়ে আগে-পরে ভালো-মন্দ কখনোই কিছু শুনিনি। তাই হঠাৎ করে একজন জ্যান্ত মানুষকে এভাবে পিটিয়ে-কুপিয়ে মেরে ফেলার বিষয়টি তাই আমাকে বেশ ব্যাথিত ও আহত করেছে। ভাবছি, এটা কি করে সম্ভব? এতগুলো মানুষ মিলে কিভাবে একজন মানুষের উপর এভাবে আক্রমনাত্মক হতে পারে!! একজন মানুষ, সে পীর হোক বা চোর, তার বিরুদ্ধে যদি সত্যিই কোন ঘোর অভিযোগ থেকে থাকে তবে তাকে আইনের হাতে তুলে দেয়া যেত, মামলা দেয়া যেত। তা না করে, একদল সন্ত্রাসী দিনে-দুপুরে শামীমকে আত্মপক্ষ সমর্থন করার আগেই ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করা হল। শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোন পরিষ্কার তথ্য আমার জানা নেই। আসলে সেটা জানারও কোন প্রয়োজন দেখছি না কারন কোন কারনেই একজন মানুষকে এভাবে হত্যা করার সঠিক কাজ নয়। নৈতিক কিংবা আইনগত দৃষ্টিভঙ্গিতেও এটাকে কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য বলে মনে করি না।
যতটুকু জানতে পারলাম তাতে পুরো বিষয়টি অনেকটাই সুপরিকল্পিত বলে মনে করছেন অনেকে। আর পুরো ঘটনায় আশে-পাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ অংশগ্রহণ করেছে বলে জানতে পারলাম। আমি জানিনা তারা কোন ধর্মের অনুসারী তবে যে ধর্মের হয়ে থাকুক না কেন, তারা যে তাদের ধর্ম সম্পর্কে প্রকৃত ধারনা রাখেন না সেটাও বেশ স্পষ্ট। কোন ধর্মই এ ধরনের হিংস্রতাকে প্রশয় দেয় বলে আমার জানা নেই। তার চেয়েও বড় কথা আইন কাউকেই এভাবে আইনকে নিজের হাতে তুলে নেয়ার ক্ষমতা দেয় নি। আত্মরক্ষা ছাড়া কোন মানুষের প্রতি এরকম বর্বর ও প্রাণঘাতী আক্রমন, কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়।
এটা সত্য যে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ বিষয়গুলো নতুন নয়। তবে বিগত কয়েক বছর ধরেই লক্ষ্য করছি, বাংলাদেশের অনেক মানুষের মাঝে এক ধরনের ভয়ানক হিংস্র ও আক্রমনাত্মক আচরণ পরিলক্ষিত হচ্ছে। এটা জাতি হিসেবে আমাদেকে একটা ভয়ানক বার্তা দিচ্ছে। সেই সাথে আগামীর বাংলাদেশের জন্যও এটা বিরাট উদ্বেগের বিষয়। এই বিষয়গুলো নিয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। সেই সাথে প্রয়োজন আইনের শাসন ও প্রয়োগ। বিনা বিচারে এভাবে কারো প্রয়াণ না হোক, বাংলাদেশ তথা এ দেশের মানুষগুলো আরো মানবিক, সচেতন ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন হোক এটাই প্রত্যাশা থাকবে।
ছবি কপিরাইট: দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

