
একটি কল্পনার পদচিহ্ন
এক শীতের সকাল আমি হাটছি একা কারো পদচিহ্ন অনুসরণ করে,
কুয়াশায় ঘাসের শিশির বিন্দু গুলো পায়ের চাপে অনেকটা ছায়া ছায়া অস্পস্ট
তবে বুঝতে কষ্ট হয়নি যে, কোন রমনীর হৃদয়ের লালিত কষ্টের চাপ।
আমিও আস্তে আস্তে হাটছি সম্মুখে,খুজছি তাকে একটু খানি দেখবে বলে,
যতো হাটছি ততোটা বিস্ময়, দেখছি অনেকগুলো পায়ের চিহ্ন ছোট বড়,
কিছু ঘাসের করুন কষ্ট দেখে মনে হল, পথিক মাড়িয়েছে এই পথ তার লম্বা আঁচলের চাপে,
তার আঁচলের আঁকা অনেকগুলো অলস চিহ্ন শিশিরে ভিজা ঘাসে,
যা সেই অনেক কষ্টে বহেছে, এই কনকনে শীতে।
তার ধীর গতিতে চলা আত্নঘাতি পায়ে পিষ্ট এই করুন চাপ,যা সেই কষ্টে করেছে বরণ।
কি হয়েছে এই সকালে?
খুব জানতে ইচ্ছে করছে তাকে, যে হেঁটেছে এই পথে, এতো কষ্ট করে!
কিবা ছিল তার মনের ব্যথা,কোন অজানায় তাকে চিবিয়ে খেয়েছে
কি যন্ত্রনায় বহে চলছে এই অজানা পথে!
আমিও হাঁটছি আর হাঁটছি দেখছি পদচিহ্ন, খুজে পাচ্ছিনা তাকে!
তবুও করছি ছায়াকে অনুসরণ, অপেক্ষা করছি তার সাক্ষাতের, কি ছিল তার অসহায়ত্ব,
আমিও তার মতো এক অসহায় বলে ভাবছি
সময়কে করছি পার একটু একটু করে শুধু রক্তিম সূর্যের অপেক্ষায়!
যে সূর্য মুছে দেবে এই চিহ্ন।
কিছু সময় পর সূর্যের প্রখরতায় আস্তে আস্তে বিলীন হচ্ছে সেই পদচিহ্ন,
আমিও হারাচ্ছি পথ, সূর্যের আলোয়।
যে পথ অনুসরণ করেছি সেই কাক ডাকা ভোঁরে,
কে ছিল সেই? কোথায় হারিয়েছে পথ? কোথায় গিয়েছিল? কোথায় সেই হারিয়েছে সম্ভ্রম?
আমিও আর যাইনি ঐ পথে তাকে খুজবো বলে,
কেউ না কেউ হয়তো অনুসরণ করছে আমার মতো আমার পদচিহ্ন, আমাকে আপন ভেবে ভালোবেসে।
আমিও হারিয়েছি অনেক সকাল, হারিয়েছি সকালে শুভ্রতা,কাটিয়েছি একাকি সময়,
সেই সময় তুমিও দেখোনি আমায়, বলোনি আমায় এসো হাতে রাখি হাত
কতো অজানা শঙ্কায় কেটেছে তখন প্রতিটি রজনী, প্রতিটি প্রহর
আজ এই শীতের সকালে সেই পদচিহ্ন বুঝিয়ে দিলো
আমি একা নয়,
সকালের সেই পথিক আরো আছে অনেকেই, তারা কষ্টকে নিয়ে করছে যাপন
না জানি কত দুঃখ নিয়ে হেঁটেছে এই পথ,কাটিয়েছে এই দুঃসময়,
বুঝতে দেয়নি তার জীবনের গুচ্ছিত যতো ব্যথা।
প্রতিটি সকাল আসে যায়, আমিও হই বেখেয়ালি, আনমনা
সেই সকাল আজো কাঁদায় স্মৃতিতে, হয় হৃদয়ে রক্তক্ষরণ।
ছবি নেট থেকে।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৮:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



